ঢাকা   সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৩ মাঘ ১৪২৯   রাত ১০:২৭ 

সর্বশেষ সংবাদ

জেগে উঠুক মানবিকতা, হউক প্রতিবাদ

 

সাতকানিয়ায় একটি হিন্দু মন্দিরে কোরবানির পশুর বর্জ্য, হাড়গোড় ছড়িয়ে রেখেছে কে বা কারা। ফেসবুকে এ খবর ঘুরে বেড়াচ্ছে।

আমি নিশ্চিত কোনো ধর্মপ্রাণ মুসলমান এটা করে নি। করার প্রশ্নই আসেনা। যে করেছে সে নিজেতো ধর্মবিশ্বাস করেই নি, তার মধ্যে পাপ পূণ্য, মানবিকতা, প্রেম ভালোবাসা কিছুই নেই। সে ধর্মগ্রন্থ পড়ে নি, ধর্ম জানেও না। সে নিছক দুবৃত্ত, সমাজের নিকৃষ্ট, অসভ্য।
সে সমাজের সাধারণ মানুষ নয়। দেখা যাবে সেও শিক্ষিত, তবে নোংরা কোনো রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসি। সে পবিত্র কোরআন শরীফ পড়ে নি, পড়লেও খন্ডিতভাবে ভুল ব্যাখ্যা জেনেছে, সে কোনো জেহাদী মাওলানার সংস্পর্শে এসে ইসলামী বিপ্লব করতে চাচ্ছে, কিংবা এলাকায় হিন্দু সম্পত্তি দখল করার জন্য কোনো প্রভাবশালীর ইন্দনে দাঙ্গা লাগানোর পরিকল্পনা করছে। তবে সুখের কথা হলো এই দুবৃত্তদের সবাই ঘৃণা করছে। ফেসবুকে দেখলাম এই ঘৃণ্য কাজের সবচেয়ে বেশি প্রতিবাদ করছেন মুসলমানরাই।
এবার আসি ভারতের প্রসঙ্গে। সেখানকার দিল্লি লাগোয়া গুরুগাঁও নামক স্থানে ঈদের দিন এক মুসলিম যুবককে গরুর মাংস পরিবহনের অভিযোগে ব্যাপক মারধর করেছে একদল হিন্দু দুবৃত্ত।
এটা কি ভাবা যায়? একজন মানুষ গরু খাবে না শুকর খাবে সেটা বলার এই হিন্দুরা কে? ধর্মের কোথায় লেখা আছে আরেকজনের খাবার নিয়ে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা? এই হিন্দু দুবৃত্তদেরও নিশ্চিত রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষক আছে । এরা ধর্মের নামে দুবৃত্তপনা করছে। ধর্মের কোথাও এসব লেখা নেই। পবিত্র গীতা,বেদ, উপনিষদের কোথাও কোনো জাতপাত ধর্মের কথা লেখা নেই। গরু খাওয়া যাবে না, ছাগল খাওয়া যাবে না, শুকর খাওয়া যাবে না এসব কোথাও লেখা নেই। শুধু লেখা আছে মানুষের কথা। কোনো হিন্দুর কথাও বেদে লেখা নেই। লেখা আছে পাপ পূণ্যের কথা। মানুষকে ভালোবাসার কথা। প্রেমের কথা। কিন্তু এই হিন্দু মৌলবাদি দুবৃত্তরা কোথায় পায় গরুর মাংস রাখলে,খেলে তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলতে হবে? গোরক্ষার নামে এই বর্বরতা কোথায় পেয়েছে এই বর্বরগুলো? আশার কথা হচ্ছে সেখানেও দেখলাম এই বর্বরদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ, শুভবুদ্ধির মানুষ প্রতিবাদ জানাচ্ছে, ঘৃণা জানাচ্ছে।
এবার আসি আরেকটি ঘটনায়। বরিশালের বাসদ নেত্রী ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তীকে নিয়ে দেখলাম হিন্দু মৌলবাদিদের একটি চক্র ফেসবুক গরম করে ফেলছে। তাদের অভিযোগ, মনীষা চক্রবর্ত্তি ঈদের দিন তার দল বাসদের পক্ষ থেকে দরিদ্র মানুষের মাঝে গরুর মাংস বিতরণ করেছেন।
এ জন্য তারা ছি! ছি করছে। মনীষা একে তো হিন্দু তার ওপর ব্রাহ্মণের মেয়ে। সে এটা কীভাবে করলো এটাই এই মুর্খদের বিষ্ময়।
বিষয়টি আমি ফেসবুকে দেখে ও পড়ে মনীষার জন্য গর্বে বুকটা আরো বড় হয়ে গেলো। মনীষা এ যুগে বাংলার অগ্নিকন্যা। বরিশালের মাটি তাকে পেয়ে ধন্য। এই বয়সে একটা মেয়ে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা করে যে ভাবে মানুষের সেবায় নেমেছে সেটা এক বিষ্ময়কর। দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য, সমাজতন্ত্রের জন্য সে লড়াই করছে। দরিদ্র মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিচ্ছে। বরিশাল সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচন করে আশাতীত সমর্থন পেয়েছে। অসাধারণ তার বাগ্মিতা, রাজনৈতিক জ্ঞান। অনেকদিন থেকে আমি মনিষার রাজনৈতিক কার্যক্রম ফলো করছি। আমি নিশ্চিত ঈশ্বর সহায় থাকলে মনীষা মানুষের অধিকার আদায়ে মহীয়সী নেত্রী হবেন ।
এমন মনীষা কোনো ধর্মের না কোনো জাতের না। তারা শুধু মানুষের। ঈদের দিন ব্যক্তি মনীষা দরিদ্রদের মাঝে গরুর মাংস বিতরণ করেননি, করেছেন বাসদ নেত্রী হিসেবে, জনমানুষের নেত্রী হিসেবে। সেই মনীষাকে নিয়ে যারা হিন্দুত্ববাদি,ব্রাহ্মন্যবাদের প্রশ্ন তুলেন তারা মুর্খ,বর্বর ও অসভ্য।
এই ভারতীয় উপমহাদেশে বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানে ধর্মের নামে যে বর্বরতা চলে এটার বিরুদ্ধে শুধু ঘৃণা প্রকাশ করলেই হবে না। এর বিরুদ্ধে এখন প্রকাশ্যে রাস্তায় নামতে হবে। এটা সহ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে। কে কোন ধর্ম পালন করবে, কি ভাবে করবে, আদৌ করবে কি না, কার কি বিশ্বাস, কি খাবে, কি খাবে না এ গুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলবে কেনো এই বর্বররা? বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী নিয়ে এতো পড়াশোনা করে ওই মুর্খ ফাইভ পাস পুরোহিত ব্রাহ্মণ কিংবা কাঠমোল্লাদের কাছ থেকে ধর্মের জ্ঞান নিতে হবে? এদের কথায় আমাদের ধর্মপালন করতে হবে কেনো?
এখন গর্জে ওঠার সময়। গরুর মাংস রাখার জন্য পিটিয়ে মারা, কিংবা মন্দিরে গরুর মাংস রাখা সেটা যেখানেই ঘটুক এর প্রতিবাদ করুন। যুক্তি দিয়ে প্রজ্ঞা দিয়ে ধর্মিয় গ্রন্থের রেফারেন্স দিয়ে সাধারণ মানুষকে বুঝান। এসব যারা করছে তাদের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করুন। তথ্য প্রযুক্তির যুগে লক্ষ লক্ষ তরুণ এখন ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে। মিথ্যা ভুল তথ্য দিয়ে তাদের যেমন বিভ্রান্ত করা সহজ তেমনি সঠিক তথ্য, ধর্মের মূল বাণী, মানুষে মানুষে ভালোবাসা দিয়ে তাদের মানবিকতা জাগ্রত করাও সম্ভব। এই তরুণরা যাতে কোনো জেহাদি জঙ্গির কবলে না পড়ে কোনো গোরক্ষকের কবলে না পড়ে তার প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখা আমাদের দায়িত্ব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে আলোচিত