ঢাকা   শুক্রবার, ১ মার্চ ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০   রাত ৮:০২ 

সর্বশেষ সংবাদ

সবকিছু খোলাসা করলেন আইনমন্ত্রী

*প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করে নির্বাচন করতে হবে সংবিধানের কোথাও এটা নেই।
*তত্বাবধায়ক সরকার সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেই সর্বোচ্চ আদালত এটাকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন।
*আমেরিকার ভিসা নীতি সরকারকে আতঙ্কিত করেনি ।
*খালেদা জিয়া শর্তসাপেক্ষে মুক্ত।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আবারও স্পষ্ট করে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী যে কোনো সময় মন্ত্রিদের পদত্যাগ করতে বলতে পারেন। এটা সংবিধানে আছে। সম্প্রতি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ভুলবশত মন্ত্রীদের পদত্যাগের স্থলে“প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ” শব্দটি চলে আসায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হলে সঙ্গে সঙ্গে তা সংশোধনী দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এটা নিতান্তই ভুল এবং এ নিয়ে বিভ্রান্তির কিছু নেই।
আইনমন্ত্রী বলেন,’প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের প্রশ্নই আসে না। একটা কথা পরিস্কার করতে চাই, ২০১৮ সালের নির্বাচনে জনগণ শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগকে ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত করেছিলেন। সংবিধান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ জানুয়ারী সংসদের ৫ বছর পূর্ণ হবে, সরকারের মেয়াদও সে পর্যন্ত। সংবিধানে বলা আছে যখন একটা সংসদ তার সম্পূর্ণ মেয়াদ পূর্ণ করে থাকে এবং সংসদ যে দিন প্রথম অধিবেশন বসেছিল সেদিন থেকে পাঁচ বছর গণনা করা হবে। সেই পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার দিন থেকে ৩ মাস পেছনে এসে তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন কমিশন যে কোনো দিন নির্বাচন দিতে পারে। এটা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত। নির্বাচন কমিশন স্বাধীন। তারা যখনই নির্বাচন করবেন আমরা যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো।“চ্যানেল আই”র এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে আইনমন্ত্রী আরও বলেন,আমাদের গণতন্ত্র কি হবে,আমাদের গণতন্ত্র কিভাবে চলবে সেটা বাংলাদেশের জনগণ ঠিক করবে। সেখানে আমেরিকার ডিকটেশনে চলতে হবে এমন কথা নেই। এরকম কোনো কথা হতে পারে না। এদেশে গণতন্ত্র যে ভাবে বিকশিত হয়েছে ঠিক সে ভাবেই হবে। নির্বাচন হচ্ছে গণতন্ত্রের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করার একটি পথ। বাংলাদেশের ইতিহাসে আওয়ামী লীগই নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সবসময় করেছে। আওয়ামী লীগের হাত থেকে যখনই অন্য কারো হাতে গেছে তখনই ভোটাধিকার ছিনতাই হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ২০২৩ সালের শেষে অথবা ২০২৪ এর শুরুতে যে নির্বাচন করবেন সেই নির্বাচন সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও অবাধ হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করে নির্বাচন করতে হবে সংবিধানের কোথাও সেটা নেই। কেয়ারটেকার সিস্টেম সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেই সর্বোচ্চ আদালত এটাকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। তখন সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনিতে কেয়ারটেকার সিস্টেম বাতিল করা হয়েছে। কেয়ারটেকার সিস্টেম ফিরিয়ে আনার কোনো সম্ভাবনা নেই, আর কখনো ফিরে আসবে না।
তিনি বলেন জনগণের করা সংবিধান জনগণের জন্য। বিএনপি যে দেশে বিশ্বাস করে সেই দেশে আজ পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সংবিধান হয় নি। সেটা হলো পাকিস্তান। বিএনপি সংবিধানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে নি। তাদের দলও সংবিধানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা হয় নি। জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্ট সায়েম সাহেবের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে বলেছেন, এখন আপনি সরে যান আমি রাষ্ট্রপতি হবো। আমি চীফ মার্শাল’লো এডমিনিস্ট্রেটর হবো। তিনি সেভাবেই হয়েছেন। নির্বাচন নামে প্রতিষ্ঠানকে ধংস করেছে বিএনপি।
আমেরিকার ভিসা নীতি প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন,
“আমেরিকা একটি স্বাধীন দেশ। তারা তাদের যে কোনো ভিসা নীতি ঘোষণা করতে পারে। আমি মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বলেছি এরকম একটা নীতি আমাদের দেশের জন্য করায় আমরা অবশ্যই অপমানিত হয়েছি। কিন্তু এটা যদি সকলের ব্যাপারে সুষ্ঠু ভাবে প্রয়োগ হয় তা হলে আমাদের আপত্তি নেই। তবে উনারা কী ভিসা নীতি করলেন সেটা আমাদের বিবেচ্য বিষয় না। কারণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর দল সুষ্ঠু নির্বাচন করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি বলেন আমেরিকা কখনো বাংলাদেশে কেয়ারটেকার সরকারের কথা বলে নি।
তিনি বলেন, বিএনপি ভোটের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তারা ভয় পায়। ২০১৪ সালে তারা নির্বাচনে না এসে অগ্নিসন্ত্রাস করেছে। মানুষ যাতে ভোট দিতে না পারে সেজন্য ভীতি প্রদর্শন করেছে। ২০১৮ সালে নির্বাচনের নামে প্রার্থী মনোনয়নের ব্যবসা করেছে। ১৫ বছরের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় বিএনপি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন ভয় পায়। তত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন,তত্বাবধায়ক সরকার অবৈধ, অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক। যেখানে এটা ডিসাইডেড সেখানে এটা নিয়ে আলাপ আলোচনার কোনো সুযোগ নেই। সংবিধান অনুযায়ীই ভোট হবে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন,লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তো ছিলোই। বিএনপিকে সংবিধানের কাঠামো বিশ্বাস করেই নির্বাচনে আসতে হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন আইন হলো। ভারত পাকিস্তানেও এই আইন হয় নি। এই আইন করে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হলো। এই নির্বাচন কমিশন নির্বাচন করবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সরকার নির্বাচন কমিশনকে সব ধরণের সহায়তা করবে।
অবাধ নির্বাচনের জন্য প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের পদত্যাগ
করতে বলতে পারেন, ছোট্ট পরিসরে মন্ত্রীসভা দিয়ে
নির্বাচনকালীন সময়ে সরকারের দৈনন্দিন কাজ করবে। সংসদে প্রতিনিধিত্বশীল ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার হবে।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী
বলেন,এই আইন থাকতে হবে, সাইবার অপরাধকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্যই। যে কোনো আইনই প্রয়োগের পর ত্রুটি বিচ্যুতি ধরা পড়ে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কিছু কিছু ক্ষেত্রে অপপ্রয়োগ ও অপব্যবহার হয়ে থাকতে পারে। এই দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
আশাকরা যায় আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সংশোধন করা হবে। কারণ অক্টোবরের পর নির্বাচনকালীন সরকার হয়ে যাবে।
বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া রাজনীতিতে অংশ নিতে পারবেন কী না এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন,খালেদা জিয়া মুক্ত। প্রধানমন্ত্রীর বদন্যতায় আইনী বিধানমতে দুটি শর্তে তাঁর দণ্ডাদেশ স্থগিত রেখে মুক্তি দেয়া হয়েছে।
শর্ত দুটি হলো তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না, আর দেশে থেকে চিকিৎসা নিবেন। খালেদা জিয়া রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আংশ নিতে পারবেন কী না এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তিনি অসুস্থ বলেই তাঁর পরিবারের আবেদনে মুক্তি দেয়া হয়েছে। তিনি যদি রাজনীতিই করতে পারেন তা হলে নিশ্চই তিনি সুস্থ। আর সুস্থ হলে দণ্ডাদেশ ভোগ করতে পারবেন না কেনো? তিনি দুটি আদালত দ্বারা দণ্ডিত। একটা বিচারিক আদালত আরেকটি আপিল আদালত হাইকোর্ট। সবকিছু বিবেচনায় তিনি অসুস্থ। একজন অসুস্থ মানুষ রাজনীতি করতে পারলে তা হলে তাঁর অসুস্থতা বলে যে দরখাস্ত করা হয়েছে সেটা মিথ্যা হয়ে যায়।

খালেদা জিয়া জেলখানায় গিয়ে পুরো সাজা খাটলে পুরোপুরি মুক্ত হবেন। আর অসুস্থতার কারণে, বাসায় থাকলে সাজা স্থগিত থাকবে। তাকে সাজা খাটতে হবে। উনি সুস্থ হয়ে রাজনীতি করতে পারলে সুস্থ হয়ে কেনো বাকি সাজা খাটতে পারবেন না এমন প্রশ্ন রাখেন আইনমন্ত্রী।
আমেরিকার ভিসানীতি সরকারকে আতঙ্কিত করে নি জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন,প্রধানমন্ত্রী বারবার বলে এসেছেন দেশে একটি সুস্ঠু নির্বাচন তিনি করতে চান। যদি কেউ গণতন্ত্রে সত্যি সত্যি বিশ্বাস করে তা হলে তাকে নির্বাচনে এসে জনপ্রিয়তা প্রমাণ করতে হবে। আইনমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। বিএনপি নৈরাজ্য করেছে। এখনো তাদের আগের ঘোষিত অবরোধ তুলেনি। বিএনপি অগণতান্ত্রিক পদ্ধতি চায়, এর মাধ্যমে তারা ক্ষমতায় আসতে চায়। বিএনপিকে কখনো জনগণ ক্ষমতায় বসায় নি, যোগ করেন আইনমন্ত্রী।
নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক সংলাপ প্রয়োজন আছে বলেও মনে করেন না আইনমন্ত্রী। বিদেশীদের দ্বারস্থ হওয়ারও দরকার নেই। তিনি বলেন, আমরা বিদেশের উপর নির্ভরশীল নই। বাংলাদেশের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করবে বাংলাদেশের জনগণ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে আলোচিত