ঢাকা   বুধবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২১, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮   রাত ৩:০৩ 

সর্বশেষ সংবাদ

ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দ্রুত বিচার,‘সংখ্যালঘু’ সুরক্ষায় আইনের দাবিতে শাহবাগে অবরোধ বিক্ষোভ

ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় আইন প্রণয়ন ও কমিশন গঠন করতে সরকারকে দুই সপ্তাহের সময় বেঁধে দিয়ে শাহবাগ ছেড়েছেন বিক্ষোভকারীরা। শুক্রবার বিকেল ৪টা থেকে প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের নেতৃত্বে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে সেখান থেকে মশাল মিছিল নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে গিয়ে তাদের কর্মসূচি শেষ করা হয়।
এর আগে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে সকাল থেকে সাম্প্রদায়িক হামলায় জড়িতদের বিচার ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করে বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ।
শাহবাগে বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাজন কুমার মিশ্র বলেন, “সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও কমিশন গঠন করতে আমরা সরকারকে দুই সপ্তাহের আল্টিমেটাম দিচ্ছি। এই দুই সপ্তাহের মধ্যে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়নের তৎপরতা না দেখলে আমরা প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় বরাবর পদযাত্রা কর্মসূচি ঘোষণা করব।”
অবরোধ কর্মসূচি থেকে ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দ্রুত সময় সাম্প্রদায়িক হামলা বিচার, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতিটিকে ৫০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়।
শাহবাগে বিক্ষোভ চলাকালে বাংলাদেশ হিন্দু আইনজীবী পরিষদের সভপতি অ্যাডভোকেট সুমন কুমার রায় বলেন, “আপনারা জানেন দেশব্যাপী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপর কী নারকীয় হামলা হয়েছে। প্রশাসন সেখানে তাদের দ্বায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। রাষ্ট্র সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। সাম্প্রদায়িক হামলায় জড়িতররা বার বার পার পেয়ে যাচ্ছে।
“এর আগেও সাম্প্রদায়িক হামলায় সংখ্যালঘুরা বিচার পায়নি। হামলার কুশীলবরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। আমরা চাই, হামলার নেপথ্যে যারা জড়িত, তাদেরকেও যেন বিচারের আওতায় আনা হয়।”
এরআগে বিক্ষোভ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি থেকে বিক্ষোভকারীরা ‘জাগো রে জাগো, হিন্দু জাগো’, ‘মৌলবাদের আস্তানা ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’, ‘জিহাদিদের আস্তানা ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’, ‘তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা’, ‘মন্দিরে হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘রংপুরে আগুন কেন, প্রশাসন জবাব চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
শাহবাগের কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন), বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাসংঘ, বাংলাদেশ সনাতন কল্যাণ জোট, শারদাঞ্জালি ফোরাম, বাংলাদেশ হিন্দু লয়ার্স অর্গানাইজেশন (বিএইচএলও), আর্য প্রতিনিধি সভা বাংলাদেশ, জাগো হিন্দু পরিষদ, ঢাকা ওয়ারী রবিদাস হিন্দু কল্যাণ সংঘ, ভক্ত সংঘ, হিন্দু সংরক্ষণ ও বাস্তবায়ন পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ফোরাম ও হিন্দু ছাত্র ফোরাম, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সমাজ সংরক্ষণ সমিতি, ইন্টারন্যাশনাল শ্রী শ্রী হরি গুরুচাঁদ মতুয়া মিশন, ঢাকা বিভাগীয় কমিটি, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট সংহতি জানিয়ে অংশ নেয় ।দুর্গাপূজার মধ্যে গত ১৩ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লা নানুয়া দীঘির পাড়ে দর্পন সংঘের পূজামণ্ডপে মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কুরআন রাখা নিয়ে ধর্ম অবমানানার অভিযোগ তুলে হামলা চালানো হয়। এরপর তা কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। এতে মন্দির ও পূজামণ্ডপে হামলা ও ভাংচুরের পাশাপাশি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনার পর থেকেই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছে হিন্দু পরিষদসহ আরও বেশ কয়েকটি সংগঠন। বিডি নিউজ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

three × 4 =

সবচেয়ে আলোচিত