ঢাকা   রবিবার, ২ অক্টোবর ২০২২, ১৭ আশ্বিন ১৪২৯   বিকাল ৫:৫৬ 

সর্বশেষ সংবাদ

নয় মাসে দেশে ১৫৫ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, নিহত একজন

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহতসহ ১৫৫ জন সাংবাদিক বিভিন্নভাবে নির্যাতন, হামলা-মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। বেসরকারি সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
এসব সাংবাদিকদের বেশিরভাগই ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও দুবৃত্তদের দ্বারা বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো আসক এর প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

এ বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে মানবাধিকারের লঙ্ঘনজনিত ঘটনা পর্যালোচনায় করে এ প্রতিবেদন তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটি।
১০টি জাতীয় দৈনিক ও বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদ এবং আসক এর নিজস্ব সূত্র থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে বলে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়।।
প্রতিবেদনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যু, কথিত ক্রসফায়ার, গুলিবিনিময় বা বন্দুকযুদ্ধের মাধ্যমে প্রাণহানি, নারী শিশু নির্যাতন, সীমান্ত সংঘাত, ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন সাংবাদিক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান এবং ১৫৪ জন সাংবাদিক বিভিন্নভাবে নির্যাতন, হামলা-মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন।
নির্যাতিত সাংবাদিকদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আট জন, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মীদের দ্বারা ১৪ জন, স্থানীয় পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১৩ জন এবং হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালের সময় ১৩ জন সাংবাদিক আহত হন।
এ ছাড়া ১০৬ জন সাংবাদিক ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও সন্ত্রাসীদের দ্বারা বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
প্রতিবদেন বলা হয়, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে এবং কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ মোট ৪৮ জন মারা গেছেন।
এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে কথিত ‘ক্রসফায়ার’, বন্দুকযুদ্ধ, গুলিবিনিময় বা ‘এনকাউন্টারে’ নিহত হয়েছেন ৩৪ জন, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ‘গুলিতে’ ৯ জন ও ‘নির্যাতনে’ চার জন মারা গেছেন। এ ছাড়া গ্রেফতারের পরে হার্ট অ্যাটাকে (পুলিশের ভাষ্যমতে) এক জনের মৃত্যু হয়।
এছাড়াও এ সময়ের মধ্যে কারাগারে অসুস্থতাসহ বিভিন্ন কারণে মারা যান ৬৭ জন। এর মধ্যে কয়েদি ২৫ জন এবং হাজতি ৪২ জন। গত নয় মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে অপহরণ বা গুমের শিকার হন ছয় জন। এর মধ্যে পরবর্তী সময়ে তিন জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও তিনজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এ নয় মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১০৮৫ জন নারী, যার মধ্যে একক ধর্ষণের শিকার হন ৮৭৯ জন এবং দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন ২০৩ জন নারী।
ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হন ৩৯ জন এবং আত্মহত্যা করেছেন আটজন নারী। এছাড়া ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে ২৫৬টি বলে এতে উল্লে করা হয়। গত বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে মোট ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন ৯৭৫ নারী।
এই নয় মাসে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন ১০১ জন নারী, এর মধ্যে ১০ জন নারী আত্মহত্যা করেছেন এবং হত্যার শিকার হয়েছেন তিনজন। এ ছাড়া যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৭১ জন পুরুষ, যার মধ্যে ৪ জন খুন হয়েছেন।
এ সময়কালে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৫২৭ নারী। এদের মধ্যে স্বামী, স্বামীর পরিবার এবং নিজ পরিবার কর্তৃক হত্যার শিকার হন ৩০৩ নারী এবং পারিবারিক নির্যাতনের ফলে আত্মহত্যা করেছেন ১১৮ নারী।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, যৌতুককে কেন্দ্র করে নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়েছেন মোট ১৮২ নারী। যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে ৬০ জনকে এবং নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন ১২ জন নারী। এর মধ্যে যৌতুকের কারণে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৯৮ জন।
এ সময়ের মধ্যে ৩৮ জন গৃহকর্মী নির্যাতন ও হত্যার শিকার হন। যাদের মধ্যে হত্যার শিকার হয়েছেন ১২ জন এবং ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২৬ গৃহকর্মী ।
শিশুর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতন সংক্রান্ত পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, গত নয় মাসে হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১ হাজার ৬৩৬ শিশু। এর মধ্যে হত্যার শিকার হয় ৪৭১ জন এবং শারীরিক ও যৌন নির্যাতনসহ নানাভাবে সহিংসতার শিকার হয় ১১৬৫ শিশু। এই ১১৬৫ জনের মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয় ৬৪৮ কন্যাশিশু এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৬৪ জন ছেলে শিশু।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এ সময়ের মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের ১০২টি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিমা, মন্দির ও পারিবারিক পূজামন্ডপে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে ৭৮টি। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ৭ জন। জমি ও বাড়িঘর দখল এবং উচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে সাতটি। এছাড়া বৌদ্ধসম্প্রদায়ের পরিবার ও বাড়িঘরে হামলা হয়েছে একটি।
এই সময়কালে ভারত সীমান্তে মোট নিহত হয়েছেন ১১ জন। এর মধ্যে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এর গুলিতে ৯ জন, শারিরীক নির্যাতনে একজন এবং বিএসএফ এর ধাওয়া খেয়ে পানিতে ডুবে একজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন ছয় জন এবং অপহরণের শিকার হয়েছেন তিন জন।
এছাড়া প্রতিবেদনে বলা হয়, গত নয় মাসে প্রধান প্রধান জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে দেখা গেছে, রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে মোট ৩২১টি। এতে নিহত হয়েছেন ৬৪ জন এবং আহত হয়েছেন ৪ হাজার ৪০৫ জন। এর মধ্যে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সহিংসতা ও সংঘর্ষের ১৬৭টি ঘটনায় আহত হয়েছেন ১ হাজার ৯৪২ জন এবং নিহত হন ৩০ জন। বিডি নিউজ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

four × 2 =

সবচেয়ে আলোচিত