ঢাকা   শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৪, ১৩ বৈশাখ ১৪৩১   সকাল ১০:০৫ 

সর্বশেষ সংবাদ

ইউজিসির জালিয়াতি, ৪৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতিবেদন ‘টেবিলে বসে বানানো’: সংসদীয় কমিটির অসন্তোষ

শিক্ষার মান, গবেষণা এবং অবকাঠামোসহ ৪৬টি উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন- ইউজিসির দেওয়া প্রতিবেদনকে ‘মনগড়া’ অভিহিত করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চলমান এসব প্রকল্পের সব কটিতেই ভৌত এবং আর্থিক অগ্রগতি সমান দেখিয়ে ওই প্রতিবেদন দেয় সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রক সংস্থা- ইউজিসি।
মঙ্গলবার সংসদ ভবনে অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এসময় কমিটির সদস্যরা আর্থিক ও ভৌত অগ্রগতি সমান হওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তারা অভিমত দেন, ব্যতিক্রম দু’একটির ক্ষেত্রে অগ্রগতি সমান হলেও সবগুলোর ক্ষেত্রে এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
বাস্তবতার ভিত্তিতে প্রতিবেদন না করে টেবিলে বসে তৈরি করা বলে এমন হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি আব্দুস শহীদ সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি একই হওয়ার বিষয়টি ইউজিসির কাছে জানতে চেয়েছিলাম। এটা কী করে সম্ভব হল, তারা সেটা জানাতে পারেনি।
“তারা কোনো জবাব দিতে পারেনি। তাদের কর্মকাণ্ডে গাফিলতি রয়েছে বলে আমাদের মনে হয়েছে। আর এই কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকাণ্ডগুলো গতিশীল হচ্ছে না।”
বৈঠকের কার্যপত্রে দেখা যায়, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উন্নয়নে ৪৬টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে ২৫ শতাংশের নিচে রয়েছে ৮টি, ৫০ শতাংশের নিচে ১৬টি এবং ৫১ থেকে ১০০ শতাংশের মধ্যে ২২টি।
বৈঠকে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প সময়মত শেষ না করে বার বার সময় ও ব্যয় বাড়ানোর বিষয়টি নিয়েও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সংসদীয় কমিটি। এক্ষেত্রে প্রকল্প পরিচালকদের যোগ্যতা ও দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
বাস্তবায়নে সফলতা না থাকলেও বিভিন্ন প্রকল্পে বিদেশ যাওয়া এবং গাড়ি কেনার প্রবণতার বিষয়টিও উঠে আসে বৈঠকে।
সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আব্দুস শহীদ বলেন, “সার্বিকভাবে আমাদের মনে হয়েছে সব প্রকল্পগুলোর প্রকল্প পরিচালকদের যোগ্যতা নিরূপণ করে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে না।
“আমরা একটি বিষয় খুব বেশি দেখি, সেটা হল প্রকল্প হলেই গাড়ি কেনার দিকে ঝোঁক বেশি থাকে। বাস্তব কোনো অগ্রগতি নেই। কিন্তু আর্থিক ব্যয় বেশি।”
কমিটি যথাসময়ে প্রকল্প শেষ করতে বলেছে উল্লেখ করে সাবেক এই প্রধান হুইপ বলেন, “আমরা বলেছি, যথা সময়ে কাজ শেষ না হওয়ার কারণে সরকারের যে আর্থিক ক্ষতি ও অর্থের ওপর চাপ পড়ে তার দায় কে নেবে? “এজন্য আমরা ব্যর্থতার জন্য দায়ীদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুশাসন দিয়েছি।” বৈঠকের কার্যপত্রে দেখা যায়- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি দুটোই সমান, ২২ দশমিক ৯৩ শতাংশ।
ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৭২ দশমিক ৩৬ শতাংশ। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৫২ দশমিক ৬৫ শতাংশ। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ০ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৫৬ দশমিক ৮২ শতাংশ। রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ২৬ দশমিক ০২ শতাংশ।
রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৪৭ দশমিক ২৩ শতাংশ। বুয়েটের শিপ মডেল টেস্টিং সেন্টার স্থাপন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৯৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ।
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিউইপি) উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৩৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৪২ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ১০ দশমিক ৩৯ শতাংশ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৮২ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৩৪ দশমিক ৭১ শতাংশ। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৬৩ দশমিক ০৭ শতাংশ।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৯৯ দশমিক ০৬ শতাংশ। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৩৭ দশমিক ১৬ শতাংশ।
নেত্রকোণায় শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ১৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৪৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৪৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৬৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ২৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ২৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৩৪ দশমিক ১৪ শতাংশ।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ২৭ দশমিক ১০ শতাংশ। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৬৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ১৫ দশমিক ৭২ শতাংশ। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৯০ দশমিক ১৩ শতাংশ।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৫৯ দশমিক ১৭ শতাংশ। বুয়েটের ইনকিউবিটর স্থাপন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৭৮ দশমিক ১৭ শতাংশ।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ১০ দশমিক ৮৬ শতাংশ। কলেজে এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৩৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজের উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৯৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে সমীক্ষা প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ২৬ দশমিক ২২ শতাংশ।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৭৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৯২ দশমিক ৭১ শতাংশ।
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৬৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পের ৫৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৬৫ দশমিক ২৫ শতাংশ। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ। বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৫০ শতাংশ।
হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৯৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৯৯ দশমিক ০৯ শতাংশ। টেক্সটাইল বিষয়ে জার্মান-বাংলাদেশ উচ্চ শিক্ষা বিষয়ক প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৪ দশমিক ০৮ শতাংশ।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৯৭ দশমিক ২০ শতাংশ। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস স্থাপন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৪৭ দশমিক ২৬ শতাংশ।
এদিকে সময়মতো কাজ শেষ করতে না পারা কয়েকটি প্রকল্প পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সরকারি কলেজে বিজ্ঞান শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধিতে ২০১৮ সালের জুলাইয়ে নেয়া প্রকল্পটি গত ৩০ জুন শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রকল্পটির এখন পর্যন্ত অগ্রগতি হয়েছে ২৬ শতাংশ।
আঞ্চলিক স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের মূল মেয়াদ শেষ হয় গত ৩১ ডিসেম্বর। কিন্তু প্রকল্পের অগ্রগতি ৩ দশমিক ২০ শতাংশ। অবশ্য ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়া এ প্রকল্পের মেয়াদ আগামী বছর ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
সিলেট ও মৌলভীবাজারে স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের সময়সীমা ছিলো গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু এরও কাজ হয়েছে মাত্র ৩০ শতাংশ। এই প্রকল্পটির মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত।
বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো- ব্যানবেইসের এস্টাবলিশমেন্ট অব ইনটিগ্রেডেট এডুকেশন ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম প্রকল্পটির মেয়াদ ছিলে গত ৩০ জুন। কিন্তু এর কাজের অগ্রগতি ৫২ শতাংশ।
ব্যানবেইসের আরেকটি প্রকল্পের মূল মেয়াদ গত এপ্রিলের শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এর বাস্তবায়নের অগ্রগতি ২০ শতাংশ। এই প্রকল্পের আর্থিক ও ভৌত অগ্রগতি দুটোই সমান।
অবশ্য প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ ধরনের আরও কিছু প্রকল্পের তথ্য মঙ্গলবারের সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।
আব্দুস শহীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য প্রধান হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন, এ বি তাজুল ইসলাম, ফজলে হোসেন বাদশা, আহসান আদেলুর রহমান ও ওয়াসিকা আয়শা খান অংশ নেন। বিডি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে আলোচিত