ঢাকা   শনিবার, ১৮ মে ২০২৪, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১   সন্ধ্যা ৭:২১ 

সর্বশেষ সংবাদ

পারমিট ছাড়া মদ পানের সুযোগ নেই আইনে ; হাত বাড়ালেই মিলছে মদ, ঢিলেঢালা নজরদারি

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লাইসেন্স বা পারমিট ছাড়া বাংলাদেশের কোনো নাগরিক অ্যালকোহল বা মদ পান করতে পারেন না। আর এই মদ পানের পারমিট পেতে হলে দেশের একজন মুসলিম নাগরিককে স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী যথাযথ প্রক্রিয়ায় নিতে হবে। অমুসলিম নাগরিক হলে চিকিৎসকের পরামর্শের দরকার না হলেও পারমিট ছাড়া মাদ পান করতে পারবেন না। অর্থাৎ দেশের প্রচলিত আইনে মদ পানের কোনো বিধান নেই। শুধুমাত্র চিকিৎসকের পরামর্শে এবং মাদ্রকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পারমিট নিয়েই একজন মদ পান করতে পারেন। একজন লোক কতটুকু মদ খাবেন তা পারমিটে উল্লেখ থাকে এবং সে অনুযায়ী মদ তিনি রাখতে পারেন। কিন্তু সম্প্রতি পুলিশ ও র‍্যাবের অভিযানে বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ মদ উদ্ধারের ঘটনায় প্রশ্ন ওঠছে , এসব মদ রাখার ও খাওয়ার কোনো লাইসেন্স আছে কী না। যদিও আইন অনুযায়ী কোনো ব্যাক্তির বাসায় বা হেফাজতে এতো পরিমাণ মদ রাখার কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে এতো মদ তারা কোথা থেকে কি ভাবে সংগ্রহ করেন তা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠেছে। রাজধানীসহ সারাদেশেই হাত বাড়ালেই মিলছে মদ।

আইন অনুযায়ী দেশে উৎপাদিত মদ ও বিদেশ থেকে আমদানিকৃত মদের সব হালনাগাদ তথ্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছে থাকার কথা। এই মদ আনা ও সংরক্ষণ কঠোর ভাবে মনিটর করার কথা আইনে বলা হয়েছে। নির্ধারিত বার বা পানশালা ছাড়া মদ বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। ফলে যাদের বাসা বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিদেশী মদ উদ্ধার করা হয়, সেগুলো অবৈধতো বটেই কোথা থেকে কারা আনে এ নিয়ে রহস্যে সৃষ্টি হয়েছে। আইন শৃংখলা বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চোখ এড়িয়ে বিদেশী মদ কি ভাবে অবাধে বিক্রি হয় এ নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন (সংশোধন) ২০২০, পর্যালোচনা করে এ সব বিষয় জানা যায়। এই আইনের তৃতীয় অধ্যায়ে যেখানে মাদকদ্রব্য নিষিদ্ধকরণ ও নিয়ন্ত্রণ (লাইসেন্স ,পারমিট বা পাস ) এর কথা বলা হয়েছে তাতে রয়েছে বেশ কিছু বিধি নিষেধ।
অ্যালকোহল পান, ইত্যাদি সম্পর্কে বিধি-নিষেধগুলো হলো:
(১) পারমিট ব্যতীত কোনো ব্যক্তি অ্যালকোহল পান করতে পারবেন না এবং চিকিৎসার প্রয়োজনে সিভিল সার্জন অথবা সরকারি মেডিক্যাল কলেজের অন্যূন কোনো সহযোগী অধ্যাপকের লিখিত ব্যবস্থাপত্র ব্যতীত কোনো মুসলমানকে অ্যালকোহল পান করার জন্য পারমিট প্রদান করা যাবে না।

(২) মুচি, মেথর, ডোম, চা শ্রমিক ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কর্তৃক তাড়ি ও পচুঁই পান করার ক্ষেত্রে এবং রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলাসমূহ এবং অন্যান্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কর্তৃক ঐতিহ্যগতভাবে প্রচলিত অথবা প্রস্তুতকৃত মদ পান করার ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর কোনো কিছুই প্রযোজ্য হবে না।

(৩) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন-

(ক) লাইসেন্সপ্রাপ্ত বার-এ বসে বিদেশি ও পারমিটধারী দেশিয় নাগরিকগণ অ্যালকোহল পান করতে পারিবেন; এবং

(খ) কূটনৈতিক পাসপোর্টধারী বিদেশি নাগরিকরা শুল্ক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত পাস বইধারী অথবা প্রচলিত ব্যাগেজ রুলসের দ্বারা স্বীকৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে, অ্যালকোহল আমদানি, রপ্তানি, ক্রয়, বহন, সংরক্ষণ অথবা পানের ব্যাপারে কোনো কিছুই প্রযোজ্য হবে না।

(৪) অ্যালকোহল সংক্রান্ত সকল শুল্কমুক্ত কার্যক্রম (Duty Free Operations) এই আইনের অধীন প্রদত্ত লাইসেন্সবলে সম্পাদিত হবে। এই আইনের ১২ ধারার ১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে :
মাদকদ্রব্যের ব্যবস্থাপত্র প্রদান সম্পর্কে বিধি-নিষেধ
(১) চিকিৎসক ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি কোনো মাদকদ্রব্য ঔষধ হিসাবে ব্যবস্থাপত্র প্রদান করতে পারবেন না।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত ব্যবস্থাপত্রের ভিত্তিতে একবারের অধিক মাদকদ্রব্য ক্রয় করা যাবে না।
প্রচলিত আইন পর্যালোচনা করলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায় যে, আইন শৃংখলা বাহিনীর অভিযানে যেসব মদ বা অ্যালকোহল উদ্ধার করা হচ্ছে এর সবই অবৈধ। এসব মদ যারা বাসাবাড়িতে বসে পান করছেন তারাও আইনবহির্ভূত ভাবে পান করছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে আলোচিত