ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর ২০২২, ২১ আশ্বিন ১৪২৯   রাত ১:০৪ 

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বোচ্চ আদালতেই কার্যকর হয়নি আইন, ৬০ দিনের মধ্যে সুপ্রিমকোর্টে তথ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিলো হাইকোর্ট

তথ্য অধিকার আইন অনুসারে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে তথ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এ ছাড়া তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এর ৪ ও ১০ ধারা অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টে ‘তথ্য সেল’ প্রতিষ্ঠা করে একজন তথ্য কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়ার নির্দেশ কেন দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রারকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।
এর আগে গত ২৬শে মে সুপ্রিম কোর্টে তথ্য প্রদান ইউনিট চালু এবং কর্মকর্তা নিয়োগের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার এবং হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রারকে বিবাদী করা হয়। রিট আবেদনে বলা হয়, তথ্য অধিকার আইন- ২০০৯ অনুযায়ী সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসহ সকল সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে তথ্য সেল প্রতিষ্ঠা ও তথ্য কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়ার বিধান রয়েছে। অথচ সুপ্রিম কোর্ট সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও এখানে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য সেল বা তথ্য কর্মকর্তা নেই। সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অবাধ তথ্য প্রবাহে ব্যক্তির মৌলিক অধিকার দেয়া হয়েছে। তথ্য সেল না থাকায় এই অধিকার খর্ব হচ্ছে বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে আইনজীবী শিশির মনির মৃত্যুদণ্ডাদেশ সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের কাছে আবেদন করেছিলেন। এরপর ছয় মাস পার হলেও কোনো তথ্য সরবরাহ করেনি সুপ্রিম কোর্ট। পরে তথ্য অধিকার আইনের বিধান বাস্তবায়নের জন্য রেজিস্ট্রার জেনারেলকে গত ১৬ই মে এ বিষয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, অবাধ তথ্য প্রবাহ এবং জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিতকরণের নিমিত্তে বিধান করার লক্ষ্যে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ (২০০৯ সালের ২০ নম্বর আইন) প্রণয়ন করা হয়েছে। আইনের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতা নাগরিকগণের অন্যতম মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত এবং তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। জনগণ প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক ও জনগণের ক্ষমতায়নের জন্য তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক। জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা হলে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থা এবং সরকারি ও বিদেশি অর্থায়নে সৃষ্ট বা পরিচালিত বেসরকারি সংস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে, দুর্নীতি হ্রাস পাবে ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
এতে আরও বলা হয়, আইনের ধারা ২(খ)(অ) এ প্রদত্ত সংজ্ঞা অনুসারে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এই আইনের আওতাধীন একটি কর্তৃপক্ষ। ওই আইনের ধারা ১০ অনুযায়ী তথ্য সরবরাহের নিমিত্তে প্রত্যেক কর্তৃপক্ষ তথ্য প্রদান ইউনিটের জন্য একজন করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করবে। উক্ত আইনের বিধান প্রতিপালনে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু আইন প্রণয়নের এক যুগেরও অধিক সময় অতিবাহিত হলেও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে এমন কোনো কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

nineteen − 6 =

সবচেয়ে আলোচিত