ঢাকা   রবিবার, ২ অক্টোবর ২০২২, ১৭ আশ্বিন ১৪২৯   সন্ধ্যা ৬:৩২ 

সর্বশেষ সংবাদ

শেখ হাসিনার বহরে হামলা: দণ্ডিত ৭ জনকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন চেম্বার আদালতে স্থগিত

ঊনিশ বছর আগে সাতক্ষীরায় শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় বিচারিক আদালতে সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির সাত নেতাকর্মীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত হয়ে গেছে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালতে।
রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দকীর ভার্চুয়াল চেম্বার আদালত এ স্থগিতাদেশ দিয়ে এ বিষয়ে রোববার আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করেন। অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত মঙ্গলবার হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এক আদেশে আসামি গোলাস রসুল, আব্দুস সামাদ, আব্দুস সাত্তার, জহিরুল ইসলাম, রাকিব, শাহাবুদ্দিন ও মনিরুল ইসলামকে জামিনের আদেশ দেয়।
ঊনিশ বছর আগে ২০০২ সালে সাতক্ষীরায় তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নিম্ন আদালতে সাজাপ্রাপ্ত ১৮ আসামির মধ্যে ৭ জনকে জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে চার মাসের জন্য জামিন পেয়েছেন সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার, গোলাস রসুল, আব্দুস সামাদ, আব্দুস সাত্তার, রাকিব, শাহাবুদ্দিন ও মনিরুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (২৫ মে) বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। একইসঙ্গে মামলার অন্য ১১ আসামির জামিনের আদেশের জন্য আগামী রবিবার (৩০ মে) দিন ধার্য করেন।
যশোর-সাতক্ষীরা সড়কে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। ওই দিনই কলারোয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোসলেম উদ্দিন বাদী হয়ে মামলা করেন। এ মামলায় তদন্ত শেষে হাবিবুল ইসলামসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।
আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশে এই হামলা হয়েছে। এরপর মামলার আসামি রাকিবের আবেদনে ২০১৭ সালের ২৩ আগস্ট হাইকোর্ট মামলার কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। একইসঙ্গে রাকিবের ক্ষেত্রে মামলার কার্যক্রম কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়। পরে রাকিবকে জামিন দেওয়া হয়।
এদিকে রাকিবের জামিন আবেদনের মাধ্যমে হাইকোর্টকে জানানো হয়েছিল, ২০০২ সালে ঘটনার সময় তার বয়স ছিল ১০ বছর। সুতরাং তার বিচার হতে হলে শিশু আইনে হবে।পরে ২০২০ সালের ৮ অক্টোবর রাকিবের মামলার বিষয়ে জারি করা রুল খারিজ করে রায় দেন হাইকোর্ট। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাকিবুল।
রাকিবুলের আবেদনে আপিল বিভাগ তিন মাসের মধ্যে নিম্ন আদালতকে মামলাটির বিচার সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। এরপর বিচার শেষে সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত গত ৪ ফেব্রুয়ারি এ মামলায় সব আসামিকে সাজা দিয়ে রায় দেন।
রায়ে হাবিবুল ইসলামকে কয়েকটি ধারায় ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। এছাড়া সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তারসহ অপরাপর আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।
পরে মামলা থেকে খালাস চেয় আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করে এবং জামিন চেয়ে আবেদন জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

20 − nine =

সবচেয়ে আলোচিত