ঢাকা   মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯   রাত ১:৩৩ 

সর্বশেষ সংবাদ

বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদ ২০ বছর ধরে কলকাতায়, ছদ্মপরিচয়ে করেছিলো ঘর সংসার

বঙ্গবন্ধুর খুনি আব্দুল মাজেদ গত প্রায় ২০ বছর ধরে কলকাতাতেই ছিল। সেখানে নামধাম পাল্টে ভারতীয় নাগরিক সেজে ঘর সংসারও করে। রয়েছে স্ত্রী সন্তান। পেশা ছিল প্রাইভেট টিউশনি। ইংরেজীর শিক্ষক হিসেবে বেশ নামও হয়েছিল। পার্কস্ট্রিটের বাসিন্দারা তাকে চিনতেন ইংরেজীর মাষ্টারমশাই হিসেবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সত্য প্রকাশ হল। ধরা পড়ে ফেরত পাঠানো হয় বাংলাদেশে। ৭ এপ্রিল তাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। আর গত শনিবার রাতে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
কলকাতার দৈনিক পত্রিকা বর্তমান এ নিয়ে সোমবার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটির রিপোর্টার সুজিত ভৌমিকের রিপোর্টটি তুলে ধরা হল। *************
বঙ্গবন্ধুর ঘাতক মাস্টারমশাই! বিশ্বাস
হচ্ছে না পার্কস্ট্রিটের সেই মহল্লার

সুজিত ভৌমিক, কলকাতা: মহল্লা তাঁকে কখনও উচ্চস্বরে কথা বলতে দেখেনি। হিংসা-বিবাদ তো দূর অস্ত! লোকটা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন নিয়ম করে। সেই তাদের মাস্টারমশাই নাকি বঙ্গবন্ধুর খুনি! এখনও ঠিক বিশ্বাস করে উঠতে পারছে না লকডাউনের পার্ক স্ট্রিট। এই পার্ক স্ট্রিটের বেডফোর্ড লেনের ভাড়া বাড়িতে থাকতেন বঙ্গবন্ধুর ঘাতক আব্দুল মাজেদ।

গত ৭ এপ্রিল বাংলাদেশের মীরপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি আব্দুল মাজেদ গ্রেপ্তারের পর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি দেখে রীতিমতো অবাক পার্ক স্ট্রিটের বেডফোর্ড লেনের বাসিন্দারা!
কিন্তু আব্দুল মাজেদ নয়। পার্ক স্ট্রিট তাঁকে চেনে আলি আহমেদ ওরফে ইংরেজির মাস্টারমশাই হিসেবে। এলাকার লোকে জানত, সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে থেকে পাশ করেছেন মাস্টারমশাই। টিউশন পড়িয়ে সংসার চালাতেন তিনি। প্রথমে তালতলার ভাড়া বাড়িতে একাই থাকতেন মাজেদ। পরে পার্ক স্ট্রিটে চলে আসেন।
২০১১ সালে তাঁর থেকে ৩২ বছরের ছোট উলুবেড়িয়ার সেলিনা বেগমকে বিয়ে করেন তিনি। তাঁদের ছ’বছরের এক মেয়ে রয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই বছর বাহাত্তরের মাজেদের শরীরটা ভালো যাচ্ছিল না। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে পিজি হাসপাতালে একপ্রস্থ পরীক্ষা নিরীক্ষাও হয়।
দিনটা ছিল গত ২২ ফেব্রুয়ারি। পিজি হাসপাতাল থেকে সেই রিপোর্ট আনতে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। সেটাই শেষ। আর বাড়ি ফেরা হয়নি মাজেদের। স্বভাবতই উদ্বিগ্ন স্ত্রী রাতে পার্ক স্ট্রিট থানায় মিসিং ডায়েরি করেন। তদন্তে শুরু করে পার্ক স্ট্রিট থানা। পিজি হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ তন্নতন্ন করে ঘাঁটলেও হদিশ মেলে না মাজেদের।
এরপর পুলিস মাজেদের ভাড়া বাড়ি থেকে একটি ব্যাগ পায়। সেই ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে সিম কার্ড, আধার কার্ড, ভোটার আইডি, ভারতীয় পাসপোর্ট এবং এক মহিলা সহ তিনজন শিশুর ছবি পাওয়া যায়। স্ত্রী সেলিনা পুলিসকে জানায়, ব্যাগের মতো তাঁর অন্যান্য ব্যক্তিগত জিনিসে কাউকে হাত দিতে দিতেন না মাজেদ।
মহল্লায় খুব একটা মেলামেশা করতেন না তিনি। টিউশনির পাশাপাশি বড়জোর এলাকার এক চায়ের দোকান, রেশন দোকান এবং এক বিল্ডার্সের দোকানে আড্ডা দিতেন মাজেদ। বাড়ির সদর দরজায় সব সময় তালা লাগানো থাকত। বাইরের কাউকে বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হতো না। এক আধ বছর নয়, এভাবেই আঠারো-উনিশ বছর ডেরা বেঁধে কলকাতায় আত্মগোপন করেছিলেন আব্দুল মাজেদ।
২২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা ৪ মিনিটে বেডফোর্ড লেনের বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আব্দুল মাজেদের যাত্রাপথের একাংশের সিসিটিভি ফুটেজ হাতে এসেছে পুলিসের। কী আছে সেই ফুটেজে? (ক্রমশ)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

two × four =

সবচেয়ে আলোচিত