সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দিন আহমদ সব বিক্রি করে স্থায়ী হয়েছেন আমেরিকায়, পাচার করে নিয়েছেন ৩০০ কোটি টাকা

0
413

তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড: ফখরুদ্দিন আহমদ, দেশে থাকা স্থাবর অস্থাবর সব সম্পত্তি বিক্রি করে নিয়ে গেছেন। মুন্সিগঞ্জে পৈত্রিক বাড়ি, জমি, গুলশানের বাড়ি বিক্রি করে তিনি স্থিতু হয়েছেন আমেরিকায়। ড.আহমদ দেশ থেকে সবকিছু বিক্রি করে অন্তত ৩শ কোটি টাকা নিয়েছেন বলে সূত্রটি জানিয়েছে। তবে এই টাকা তিনি বৈধ পথে অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে নিতে পারেন নি। অবৈধ ভাবে নিয়েছেন যা অর্থপাচারের মধ্যে পড়ে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে ড.ফখরুদ্দিন বৈধভাবে কোনো টাকা বিদেশে নেন নি এবং এমন কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দিন আহমদ বাংলাদেশে বহুল আলোচিত নাম। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারীর ওয়ান ইলেভেনের সরকার বললেই চোখের সামনে ভেসে আসে ড: ফখরুদ্দিন আহমদের চেহারা, জেনারেল মঈন ইউ আহমদের চেহারা। বিএনপি জামাতের চারদলীয় জোট সরকারের অপশাসনে অতিষ্ট হয়ে দেশের রাজনীতি যখন টালমাটাল অবস্থা ঠিক সেই সময়ে তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে বাড়তি দায়িত্ব নেন রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন আহমদ। কিন্তু আওয়ামীলীগসহ বিরোধি রাজনৈতিক দলগুলো ড.ইয়াজউদ্দিনের ক্ষমতা গ্রহণ মেনে নেয়নি। দেশজুড়ে চলতে থাকে আন্দোলন। একপর্যায়ে ক্ষমতার দৃশ্যপটে আসেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর ড.ফখরুদ্দিন আহমদ। সেনাবাহিনীর সমর্থনে প্রধান উপেদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান ড.ফখরুদ্দিন। প্রধান উপদেষ্টা ড.ফখরুদ্দিন আহমদ আর সেনাপ্রধান জেনারেল মঈন ইউ আহমেদের যৌথ শাসনে দেশে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। আধা সিভিল আধা সামরিক শাসনামলে দুর্নীতির অভিযোগে সব দলের শীর্ষ নেতাই কারাগারে নিক্ষেপ হন। বাদ যাননি আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াও। শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের হয় দুর্নীতির মামলা। এসব মামলায় ক্যাঙ্গারু কোর্টের মাধ্যমে অনেকের বিচার সম্পন্ন হয়, জেল জরিমানা হয়। মোটকথা দেশের রাজনীতি নবরূপ লাভ করে। দুই বছর দৌর্দণ্ড প্রতাপে রাষ্ট্রক্ষমতা চালিয়ে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তত্বাবধায়ক সরকারের অধিনে। নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ট আসনে জয়লাভ করে আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করে। আর এর মাধ্যমে অবসান হয় ফখরুদ্দিন -মঈনউদ্দিনের তত্বাবধায়ক সরকারের শাসন।
আওয়ামীলীগ সরকার গঠনের পর পরই অনেকটা নিরবে দেশ ছেড়ে চলে যান ফখরুদ্দিন আহমেদ ও মঈনউদ্দিন আহমেদ। দুজনের গন্তব্যই হয় আমেরিকা। কিন্তু আমেরিকায় এখন কি করছেন তারা? দেশের দৌর্দণ্ড প্রতাপশালী এই দুই ব্যাক্তি কেনো একবারেই চুপ হয়ে গেলেন? এ নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন, নানা জিজ্ঞাসা।‘ আইন-আদালত’ পাঠকদের জন্য এ পর্বে ড.ফখরুদ্দিন আহমদের কথা তুলে ধরা হচ্ছে।
আইন আদালতের অনুসন্ধানে একটা বিষয় নিশ্চিত হওয়া গেছে ড.ফখরুদ্দিন আহমদ বাংলাদেশ থেকে তার স্থাবর অস্থাবর সব সম্পত্তি বিক্রি করে টাকা পয়সা নিয়ে চলে গেছেন। দেশে তার এখন আর কিছুই নেই।

অবশ্য বাংলাদেশের সঙ্গে ড.ফখরুদ্দিন আহমদের নাড়ির টান ছিন্ন করেন ১৯৭৮ সালে। এর আগ পর্যন্ত তিনি সরকারি কর্মকমিশনে চাকরি করতেন। ১৯৭৮ সালে বিশ্বব্যাংকে চাকরি নিয়ে চলে যান আমেরিকায়। বিশ্বব্যাংকে চাকরীর সূত্রে অবস্থান করেন ওয়াশিংটনে। ২০০০ সালে তিনি প্রথম বাড়ী কেনেন কানাডার টরন্টোতে। বিশ্বব্যাংকের চাকরী শেষ করে তার কানাডায় স্থায়ী ভাবে বসবাসের কথা ছিলো।
কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি জামাত জোট ক্ষমতায় এলে তাকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ দেয়া হয়। উড়ে আসেন বাংলাদেশে। ২৯ নভেম্বর ২০০১ সালে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেন। ২০০৫ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৪ সালে, ওয়াশিংটনে স্ত্রীর নামে একটি এপার্টমেন্ট কেনেন ড: ফখরুদ্দিন আহমেদ। গভর্নরের দায়িত্ব শেষ করেই, তিনি পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফে) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান। কিন্তু আমেরিকা ফেরার আগেই ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি ফখরুদ্দিন আহমেদ সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকার প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দুবছর দায়িত্ব পালন শেষে ২০০৯ সালে তিনি আবার চলে আসেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র । সর্বশেষ সেখানেই স্থায়ী ভাবে অবস্থান করছেন তিনি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে দীর্ঘদিন দেশে সরকারি চাকরী করেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ছিলেন, ছিলেন তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান। কিন্তু দেশে কোনো সম্পদ তিনি করেন নি। মুন্সীগঞ্জে তার যে পৈত্রিক সম্পত্তি ছিলো সেই জায়গা জমিও বিক্রি করে দিয়েছেন। অবসরের পর পেনশনের টাকা একসঙ্গে তুলে নিয়ে গেছেন। সেটা করেছেন তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা থাকাকালেই। সূত্রগুলো জানিয়েছে তার গুলশানের বাসভবন, মুন্সীগঞ্জের পৈত্রিক বাড়ী এবং জমি, পুরান ঢাকায় একটি বাড়ী বিক্রি করে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা পাচার করে নিয়ে গেছেন। সূত্রগুলো জানিয়েছে ফখরুদ্দিন আহমদের ম্যারিল্যান্ডে দুটি বাড়ী আছে। কানাডায়ও তার বাড়ী আছে। বছরে একবার কানাডায় গিয়ে থাকেন। তবে তিনি আর দেশে আসবেন না এবং দেশের কথা ভাবেনও না। যে ব্যক্তি উড়ে এসে জুড়ে বসে দেশের শাসনভার গ্রহন করেছিলেন,দৌর্দণ্ড প্রতাপে দেশ চালিয়েছেন সেই ব্যক্তি এখন বিদেশবিভূইয়ে আত্মগোপনের মতো জীবন যাপন করছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

4 + 17 =