ঢাকা   সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১   বিকাল ৩:০৭ 

সর্বশেষ সংবাদ

মহামারিতেও থেমে নেই নির্যাতন, এক মাসেই ২০৭ নারী ও কন্যা শিশু ধর্ষণের শিকার

 

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যেও থেমে নেই নারী ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতন। শুধু জুলাই মাসেই ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়েছে ২০৭ জন নারী ও কন্যা শিশু। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের দেওয়া এক তথ্যে এ চিত্র ওঠে এসেছে।

তবে সম্প্রতি নারী ও শিশুদের সহিংসতার শিকার বেড়ে গেলেও মহামারীতে সংবাদ মাধ্যমে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকৃত চিত্র উঠে আসছে না বলে মনে করেন মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু।

১৩টি জাতীয় দৈনিকের সংবাদ পর্যালোচনার ভিত্তিতে মহিলা পরিষদ বলছে, জুলাইয়ে দেশে ২৩৫টি নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের খবর প্রকাশ হয়েছে। মার্চ থেকে পাঁচ মাসে মোট একহাজার ২২৮টি ঘটনার খবর এসেছে।
যেখানে ১৪টি দৈনিকের সংবাদ পর্যালোচনায় গত বছর জুলাই মাসে ৪৫০টি ও মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত এক হাজার ৯৪৩ নারী ও শিশু নির্যাতনের খবর পেয়েছিল মহিলা পরিষদ।
মালেকা বানু বলেন, গণমাধ্যমে সব তথ্য উঠে আসছে না। তবে আমরা যারা এসব নিয়ে কাজ করছি, তারা দেখছি নির্যাতনের ঘটনা আগের চেয়ে অনেক বেশি বেড়ে গেছে।
গণমাধ্যমে সব তথ্য না আসার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “এখন যে পরিস্থিতি, তাতে খুব আলোচিত ঘটনা না হলে গণমাধ্যমে আসছে না। সবারই সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যারা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তাদেরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে, গণমাধ্যমেরও রয়েছে, আমাদেরও রয়েছে।”

মহিলা পরিষদের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জুলাইতে ২৩৫টি নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের ঘটনার মধ্যে ধর্ষণের শিকার ৯০ জন, গণধর্ষণের শিকার ১৪ জন ও ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৩ জনকে। ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ৯ জনকে এবং শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন ৩ জন।
জুলাইয়ে যৌতুকের কারণে হত্যা করা হয়েছে ৭ জনকে। এছাড়া বিভিন্ন কারণে ৪৬ জন নারী ও কন্যাশিশুকে হত্যা করা হয়েছে। রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে ১৮ জনের। নির্যাতনের কারণে ১০ জন আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।
গত বছরের মার্চ থেকে জুলাই- এই পাঁচ মাসে মোট এক হাজার ৯৪৩ জন নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের খবর প্রকাশ হয়। এর মধ্যে মার্চে ২৬৭, এপ্রিলে ৪০১, মেতে ৪০৫, জুনে ৪২০ ও জুলাইয়ে ৪৫০টি ঘটনার খবর এসেছে।
এর মধ্যে জুলাইয়ে মোট ৪৫০ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৩৭ জন, গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২৩ জন, ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১০ জনকে এবং ধর্ষনের কারণে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছিলেন ১ জন।
বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে বাল্যবিবাহের শিকার হয়েছেন ৫ জন। সাইবার ক্রাইমের শিকার হয়েছেন ৫ জন। ৬ জন গৃহপরিচারিকা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
গত এক মাসে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে ৫টি। শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৪ জন।
সব মিলিয়ে করোনাকালেও দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন যে কমছে না এটা স্পষ্ট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে আলোচিত