উপ-রাষ্ট্রদূত বলছেন টিকা নিয়ে চীন সরকারের সঙ্গে চুক্তিই হয় নি, রহস্য কি ?

0
249

টিকা আমদানী নিয়ে চীন সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো চুক্তিই হয় নি, এমন কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের উপরাষ্ট্রদূত হুয়ালং ইয়ান। শনিবার তার ফেসবুক আ্যকউন্ডে দেয়া পোস্টে এই তথ্য জানান। ফলে চীনের সঙ্গে টিকার চুক্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিলো।
উপরাষ্ট্রদূত হুয়ালং ইয়ান পোস্ট দিয়ে বলেছেন, ‘আবাক হচ্ছি কেন সব সময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মিথ্যা তথ্য ,যদি মিডিয়ার প্রতিবেদন সঠিক হয়।
প্রথমত সিনোফার্ম ও বাংলাদেশী পক্ষের মধ্যে কোন ডিল করা হয় নি আজ পর্যন্ত।
দ্বিতীয়ত এটি ছিল চীন সরকারের সাথে না বরং বাংলাদেশ সরকার এবং সিনোফার্মের মধ্যে আলোচনা।
আন্তরিকভাবে আশা করছি আমাদের বাংলাদেশী ভাই ও বোনেরা আগের দিনে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনপাবেন।“
উল্লেখ্য চীনের সিনোফার্মের টিকার দাম প্রকাশ করা নিয়ে বাংলাদেশকে দোষারূপ করছে চীন এমন একটি খবর প্রকাশের পর এ নিয়েও নানামুখি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের ভেতরের একটি অংশের দাবি অপ্রকাশযোগ্য চুক্তি শর্ত লঙ্ঘন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শাহিদা আক্তার জানিয়ে দেন,প্রতিডোজ ১০ মার্কিন ডলারে বাংলাদেশকে দেড় কোটি করোনা টিকা দেওয়ার চুক্তি করেছে চায়না ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল গ্রুপ- সিনোফার্ম।
এতে চীনের পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয় । পরে চীনের কাছে দুঃখপ্রকাশ করতে হয় বাংলাদেশকে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একেএম আবদুল মোমেন বলেন, চীন বাংলাদেশকে জানিয়েছে বিষয়টি। আর আমরা বলেছি, ভবিষ্যতে এ রকম আর হবে না।
কিন্তু বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের ডেপুটি চিফ অব মিশন হুয়ালং ইয়ান নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে জানান, চীন সরকার তো দূরের কথা, সিনোফার্মের সঙ্গেই এখনো টিকা কেনার কোনো চুক্তি হয়নি বাংলাদেশের।
তাহলে প্রশ্ন ওঠে বাংলাদেশ চুক্তি করলো কার সঙ্গে আর টিকার ডোজের মূল্য প্রকাশ করায় চীনের পক্ষে প্রতিক্রিয়াই বা জানালো কে? চুক্তিই যেখানে হয় নি সেখানে প্রতিক্রিয়াই জানানোর কথা না। তাহলে এখানে কী অন্য কোনো মধ্যসত্বভোগি আছে? যারা বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অদক্ষতা ও কূটনৈতিক ব্যর্থতায় টিকা আমদানিতে বারবার হোঁচট খাচ্ছে বাংলাদেশ। করোনা সংকট মোকাবিলায় চীনের প্রতিষ্ঠান সিনোফার্মের সঙ্গে টিকা আনার আলোচনা শুরু হয় বেশ কয়েক মাস আগে। বাংলাদেশ-চীনের টিকা কূটনীতির প্রক্রিয়ার মাঝেই বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত লি জিমিং দাবি করেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে না পারা ও সময়ক্ষেপণের কারণে টিকা কিনতে দেরি হয়েছে বাংলাদেশের। এরপরে টিকা নেয়ার প্রক্রিয়ায় আলোচনায় আসে অপ্রকাশযোগ্য চুক্তি। যার জন্য চীনা ভাষায় লেখার জায়গায় সই করে ফেলা একধরনের চাহিদাপত্র দিয়ে পরে তা কমানোসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক নানা দুর্বলতার কথাও উঠে আসে জনসম্মুখে।
এ অবস্থায় আবারও টিকা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অনিশ্চয়তা। আর এ পরিস্থিতির জন্য কূটনৈতিক ব্যর্থতাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

1 × one =