ঢাকা   রবিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২২, ৯ মাঘ ১৪২৮   রাত ১২:০০ 

সর্বশেষ সংবাদ

নির্বাচন কমিশন গঠন আইন এবং হাইকোর্টে বিচারক নিয়োগ আইনের খসড়া হচ্ছে, চলতি সংসদেই পাস হবে,জানালেন আইনমন্ত্রী

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন আইন এবং হাইকোর্টে বিচারক নিয়োগ আইন দুটোরই খসড়া প্রস্তুত করা হচ্ছে। চলতি সংসদের আগামী দু অধিবেশনের মধ্যেই বিল দুটি তোলা হবে। সংসদে আলোচনার মাধ্যমে এ আইন পাস হবে। রোববার সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
সংসদে ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারক (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) বিল-২০২১’ বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য দেয়ার সময় আইনমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
খালেদা জিয়ার বাসাকে সাব জেল বানিয়ে সেখানে তাকে রাখা হয়েছে বিএনপির এমপিদের এমন বক্তব্যের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া সরকারের কাস্টডিতে নেই। খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করে মুক্তি দেয়া হয়েছে। তিনি দুটো শর্তে সম্পূর্ণ মুক্ত। খালেদা জিয়া আমাদের কাস্টডিতে নেই। মুক্ত বলে তিনি মুক্তভাবে বাসায় থাকতে পারছেন। মুক্ত আছেন বলেই তিনি মুক্তভাবে চিকিৎসা নিতে পারছেন। রোববার জাতীয় সংসদে তিনি এ তথ্য জানান।
আনিসুল হক বলেন, আমি বলেছি একটা বিষয় সিদ্ধান্ত হলে সেখানে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না। এটা চাইলে উনাকে আইন অনুযায়ী যেতে হবে। তারপর নতুন সিদ্ধান্ত হয়তো নেয়া যাবে। ৪০১ ধারার বিষয়ে বিএনপি থেকে যে ব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে আমার তার সঙ্গে দ্বিমত আছে। আমি আমার অবস্থান থেকে নড়বো না।
‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারক (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) বিল-২০২১’ বিলটি বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য দেয়ার সময় বিএনপির হারুনুর রশীদ ও জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু ইসি গঠনে আইন প্রণয়নের কথা বলেন। চুন্নু ইসি গঠন আইনের পাশাপাশি উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগেও আইন করার দাবি করেন। জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারক নিয়োগ আইন এবং ইসি গঠন আইন- দুটোরই খসড়া করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত সংবিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির হাতে। গেল এক দশকে অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করে রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটির মাধ্যমে সর্বশেষ দুই নির্বাচন কমিশন নিয়োগ দিয়েছিলেন।
সাংবিধানিক এ সংস্থার সদস্যদের নিয়োগে আইন করার কথা থাকলেও স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে তা হয়নি। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও এ বিষয়ে মতভেদ আছে। সাম্প্রতিক সময়ে এ নিয়োগ নিয়ে বিরোধী দলগুলোর সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে সরকারকে।
৫ সদস্যের বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ফেব্রুয়ারিতে। সরকারের তরফ থেকে এরই মধ্যে জানানো হয়েছে, পূর্ববর্তী দুই কমিশনের মত আসন্ন নির্বাচন কমিশনও সার্চ কমিটির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি গঠন করবেন।
সম্প্রতি সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী সংসদে বলেন, তারা একটা আইনের ড্রাফট (নির্বাচন কমিশন গঠনে) করেছে, সেটা দিতে এসেছিলেন। উনারা বলেছিলেন এটাতে সবই আছে।
এটা অধ্যাদেশ আকারে করে দিলেও তো হয়ে যায়। তখন আমি স্পষ্ট বলেছি, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের এই আইন সংসদে আলোচনা না হওয়া পর্যন্ত আইনটি করা ঠিক হবে না। এতে আমি বোধ হয় সংসদ সদস্যদের সম্মান কমাইনি, বাড়িয়েছি।
আইনমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি এটা নিয়ে সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত। আমার পরিকল্পনা, এর (চলতি সংসদের) পরের অধিবেশন বা তার পরের অধিবেশনে আমরা এটা আলাপ করব। কিন্তু অন্যান্য আনুসাঙ্গিক কাজ তাড়াহুড়া করে ২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে করা যাবে না বলেই আমি বলেছি। সে জন্য আমি আশ্বস্ত করিনি। তবে দুটো আইনই আমরা করার চেষ্টা করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

17 − eleven =

সবচেয়ে আলোচিত