ঢাকা   শুক্রবার, ৭ অক্টোবর ২০২২, ২২ আশ্বিন ১৪২৯   রাত ২:৪২ 

সর্বশেষ সংবাদ

সংসদে আতর নিষিদ্ধ 

সংসদ সচিবালয়ের দাপুটে কর্মচারী আতর আলীকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে সংসদ এলাকায়। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে নিয়ে ‘অসত্য’ বক্তব্য দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশসহ এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের নেতা আতর আলী অবশ্য বলেছেন তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তিনি রাষ্ট্রপতিকে খারাপ কিছু বলেন নি।
সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সংসদ সচিবালয়ের অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মচারী হয়েও রাষ্ট্রপ্রধানকে নিয়ে ‘অসত্য’ বক্তব্য দেয়ায় এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

গত ১৭ আগস্ট সংসদের শপথ কক্ষে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

কর্মচারীদের পক্ষ থেকে আতর আলী সেখানে তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ স্পিকার থাকার সময় ‘এ ধরনের অনুষ্ঠান হয়নি’। তার এ বক্তব্যকে অসত্য বলে দাবি করা হয় সংসদ সচিবালয় থেকে ।
গত ৬ সেপ্টেম্বর সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ খালেদুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

নোটিশে বলা হয়, “আপনি মোহাম্মদ আতর আলী বিগত ১৭ আগস্ট ২০২০ খ্রিস্টাব্দ তারিখে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় আয়োজিত আলোচনা সভা দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে অসত্য বক্তব্য প্রদান করেন। যেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করেন, কোনো ব্যক্তির পক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে প্রকাশ্যে কোনো অসত্য বক্তব্য প্রদান দেশের সংবিধান পরিপন্থী।

“যেহেতু আপনি মহামান্য রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে অসত্য বক্তব্য প্রদান করেছেন যা একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে অনুচিত ও যেহেতু আপনার উপরোক্ত আচরণ একজন সরকারি কর্মচারীদের জন্য অশোভনীয় আচরণ এবং সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা পরিপন্থী যা জাতীয় সংসদ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা মোতাবেক অসদাচারণ হিসেবে গণ্য যেহেতু আপনাকে জাতীয় সংসদ সচিবালয় কর্মচারী কর্মকর্তা ও কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা ২০০৫ এর ৩ এর ক দায়ে অভিযুক্ত করে কেন উক্ত বিধিমালা অধীনে যথোপযুক্ত দণ্ড প্রদান করা হবে না সে বিষয়ে এ নোটিশ প্রাপ্তির তিন কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শনের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হল।’’
নোটিশের বিষয়টি স্বীকার করেছেন আতর আলী। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ আমি রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে আপত্তিকর কথা বলিনি। এটা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। ওই বক্তব্য দেওয়ার কারণে আমাকে সংসদ এলাকায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যেহেতু আমাকে যেতে নিষেধ করা হয়ে গেছে এজন্য আমি এখন আর সংসদ সচিবালয় যাই না। তবে কারণ দর্শানোর নোটিস পাওয়ার পরদিনই আমি জবাব দিয়েছি।’
প্রসঙ্গত, চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী সমিতির সাবেক সভাপতি আতর আলী সংসদ সচিবালয়ে সংসদ নেতার দফতরে দায়িত্ব পালন করেন। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হয়েও আতর আলী সংসদ সচিবালয়ে খুবই প্রভাবশালী। অনেক কর্মকর্তাও আতর আলীর কাছে পাত্তা পান না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

17 + 16 =

সবচেয়ে আলোচিত