ঢাকা   রবিবার, ২ অক্টোবর ২০২২, ১৭ আশ্বিন ১৪২৯   রাত ৮:০৮ 

সর্বশেষ সংবাদ

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

দুর্গাপূজার সময় দেশের বিভিন্ন জেলায় মন্দির, পূজা মণ্ডপ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলার ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও রংপুর জেলার মুখ্য মহানগর বা বিচারিক হাকিমকে তদন্ত করে দুই মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার রুলসহ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ রাসেল চৌধুরী।
শুনানির শুরুতে অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন বলেন, রিট আবেদনে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় রাষ্ট্রের ব্যর্থতা ও স্থানীয় প্রশাসনকে সরাসরি দায়ী করা হয়েছে। আমরা আবেদন থেকে এই শব্দগুলো প্রত্যাহারের দাবি জানাই। কারণ হামলার ঘটনায় রাষ্ট্র বসে নেই। কুমিল্লা, রংপুরে অনেক দুর্বৃত্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

ছবি-ইন্টারনেট।

এ সময় বেঞ্চের কনিষ্ট বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লা বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ, বাসস্থান ও উপাসনালয়ে হামলার ঘটনায় পুলিশ অ্যাকশন নিয়েছে, মামলা হয়েছে, অনেকে গ্রেফতার হয়েছেন। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এ অবস্থায় আমরা কি রাষ্ট্রকে দায়ী করতে পারি?
পরে আদালত রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়াকে আবেদন সংশোধন করতে বলেন এবং আদেশের জন্য দুপুর ২টা ৩০ মিনিট সময় নির্ধারণ করে দেন। পরে হাইকোর্ট আদেশ দেন।
দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপাসনালয়, বসতি, জীবন ও সম্পত্তির ওপর হামলা ঠেকাতে সরকারের স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের নিস্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত।
হিন্দু সম্প্রদায়ের জীবন, সম্পদ ও উপাসনালয়ের সুরক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বিবাদীদের কেন নির্দশ দেয়া হবে না- তাও জানতে চেয়েছে আদালত।
ছবি-ইন্টারনেট।

গত ১৩ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফেনী, চট্টগ্রাম ও রংপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গা পূজার মণ্ডপ, মন্দির, বসতি, জীবন ও সম্পত্তির ওপর হামলার ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
চার সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, ধর্ম সচিব, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি (আইসিটি বিভাগ) সচিব, নারী ও শিশু বিষয়ক সচিব, সমাজকল্যাণ সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, পুলিশের মহাপরিদর্শক, কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও রংপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ ২১ বিবাদিকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া জানান, ২১ অক্টোবর এফিডেভিট করার পর ২৪ অক্টোবর এ আবেদনটি শুনানির তালিকায় ছিল, কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেল বিদেশে থাকায় সময় নেয়া হয়। ২৬ অক্টোবর কার্যতালিকায় এলে সেদিনও সময় নেয়া হয়।
“গতকাল (বুধবার) শুনানির জন্য ধার্য ছিল, কিন্তু সিনিয়র আইনজীবী জনাব আব্দুল বাসেত মজুমদারের মৃত্যুর কারণে আদালত তার প্রতি সম্মান দেখিয়ে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করা থেকে বিরত থাকেন। আজ শুনানি হয়।”
দুর্গা পূজার সময় কোরআন অবমাননার কথিত অভিযোগ তুলে কুমিল্লা হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এরপর চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও রংপুরে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার শিকার হয় হিন্দু সম্প্রদায়।
এসব ঘটনায় গত ২১ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অনুপ কুমার সাহা ও মিন্টু চন্দ্র দাস হাইকোর্টে এই রিট আবেদন করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

one × four =

সবচেয়ে আলোচিত