ঢাকা   মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১০ কার্তিক ১৪২৮   সকাল ৯:১২ 

সর্বশেষ সংবাদ

মেজর (অব.) সিনহা হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিলেন ৬ সেনা কর্মকর্তা

সেনাবাহিনীর মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার নির্ধারিত পঞ্চম ধাপের প্রথম দিনের সাক্ষ্য দিয়েছেন ৬ সেনা কর্মকর্তা।
রোববার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে হাজির করা হয় বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপসহ এ মামলার ১৫ আসামিকে। এরপর সোয়া ১০টার দিকে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ইসমাঈলের আদালতে ২১তম সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিচারিক কার্যক্রম। তা শেষ হয় বিকেল সাড়ে ৫ টায়।
সাক্ষ্য দেওয়া ব্যক্তিরা হলেন লেফটেন্যান্ট মুনতাসির আরেফিন, সার্জেন্ট মোক্তার হোসেন, ল্যান্স কর্পোরাল রুহুল আমিন, সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার সৈয়দ মইন, আবু জাফর ও কর্পোরাল নুর মোহাম্মদ। এ ছাড়া বেবি বেগমের অসমাপ্ত জেরাও শেষ করা হয়েছে। কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম বলেন, ১০ জন সাক্ষীকে উপস্থাপন করার পর ৬ জনের জবানবন্দি ও জেরা শেষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন ২৬ জন।
এর আগে, ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর এ দুই দিনে সাক্ষ্য দেন ছেনুয়ারা বেগম, আলী আহমদ, হাম জালাল, ফরিদুল মোস্তফা, সালেহ আহমদ ও বেবি বেগম। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত চতুর্থ দফায় এ মামলায় ২০ জন সাক্ষী তাদের জবানবন্দি দিয়েছেন। তারও আগে, ২০, ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর তিন দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।
তৃতীয় ধাপের প্রথম দিন সাক্ষ্য দেন- আব্দুল হামিদ, মোহাম্মদ ফিরোজ ও শওকত আলী নামে তিনজন। দ্বিতীয় দিন সাক্ষ্য দেন মারিশবনিয়া মসজিদের ইমাম হাফেজ জহিরুল ইসলাম ও ডা. রণবীর দেবনাথ।
এ ছাড়া দ্বিতীয় ধাপের চার দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় গত ৮ সেপ্টেম্বর। দ্বিতীয় ধাপের চতুর্থ দিনে সাক্ষ্য দেন ৬ নম্বর সাক্ষী শামলাপুর বায়তুর নুর জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা শহিদুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান। তার সঙ্গে থাকা সাহেদুল ইসলাম সিফাতকে পুলিশ আটক করে। এরপর সিনহা যেখানে ছিলেন সেই নীলিমা রিসোর্টে ঢুকে তার ভিডিও দলের দুই সদস্য শিপ্রা দেবনাথ ও তাহসিন রিফাত নুরকে আটক করা হয়। পরে তাহসিনকে ছেড়ে দিলেও শিপ্রা ও সিফাতকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। এই দুজন পরে জামিনে মুক্তি পান।
সিনহা হত্যার ঘটনায় মোট চারটি মামলা হয়েছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি মামলা করে। এর মধ্যে দুটি মামলা হয় টেকনাফ থানায়, একটি রামু থানায়। ঘটনার পাঁচ দিন পর অর্থাৎ ৫ আগস্ট কক্সবাজার আদালতে টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

thirteen + fourteen =

সবচেয়ে আলোচিত