বিদেশ যেতে চাইলে খালেদা জিয়াকে আগে জেলে ফিরতে হবে: আইনমন্ত্রী

0
95

দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারেপার্সন খালেদা জিয়া বিদেশ যেতে চাইলে তাকে কারাগারে ফিরে গিয়ে সরকারের কাছে আবেদন করতে হবে। প্রচলিত আইনে এর বাইরে কোনো সুযোগ নেই, বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
শনিবার ঢাকার একটি হোটেলে আইন সাংবাদিকতার এক কর্মশালায় আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরে একথা বলেন তিনি।
দুর্নীতির মামলায় দণ্ড নিয়ে তিন বছর আগে কারাগারে যাওয়ার পর গত বছর করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটলে পরিবারের আবেদনে সরকার দণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করে তাকে সাময়িক মুক্তি দেয়।
খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে চাইছে তার পরিবার ও দল। পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন হলেও দুই মাস আগে তা নাকচ করে দেয় সরকার।
শনিবারের কর্মশালায় প্রধান প্রশিক্ষক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা নিয়ে আলোচনার সময় খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টানেন।
তিনি বলেন, সাজা মওকুফের ক্ষমতা সরকারের আছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় এ সংক্রান্ত ছয়টি উপধারা আছে। একজনের সাজা শর্ত ছাড়া সম্পূর্ণ মওকুফ করতে পারে অথবা শর্ত ছাড়া কিছুটা মওকুফ করতে পারে। আবার শর্ত সাপেক্ষে পুরোটা মওকুফ করতে পারে কিংবা কিছুটা মওকুফ করতে পারে বা বাতিল করতে পারে।
“এখানে (৪০১ ধারা) কিন্তু কোথাও বলা নাই, একটা আবেদন যখন নিষ্পত্তি করে ফেলা হয়, সেই আবেদনটিকে আবার রিকনসিডার করতে পারবে। তার মানে হচ্ছে আবেদনটি রিকনসিডার করার কোনো সুযোগ নাই।”
আইনমন্ত্রী বলেন, ৪০১ ধারায় সরকারের ক্ষমতার কথা বলা আছে। এই ধারা সংস্কারের ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এটা ব্যবহার করে থাকে। সেক্ষত্রে অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী থেকে অনুমতি নিতে হয়। আর মতামত নিতে হয় আইন মন্ত্রণালয়ের।
“খালেদা জিয়ার মামলার ক্ষেত্রে আমাদের মতামত দিতে হয়েছে। উনার আত্মীয়-স্বজনদের পক্ষ থেকে যখন আবেদন করা হল, তখন তার সাজা স্থগিত করে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দিলাম। তার মানে, খালেদা জিয়ার পক্ষে যে আবেদনটা করা হয়েছিল, সেটি নিষ্পত্তি করা হয়েছে।”
এরপরই আইনমন্ত্রী অলোচনা করেন, বিদেশ যেতে হলে খালেদা জিয়ার এখন কী করতে হবে, তা নিয়ে।
তিনি বলেন, “এখন তারা বিদেশ যেতে অনুমতি চায়। কিন্তু কথা হচ্ছে, যে আবেদনটি নিষ্পত্তি করা হয়েছে, সেটি পুনর্বিবেচনার ক্ষমতা আইনে আমাদের দেওয়া হয়নি। তাহলে উনাদের কী করতে হবে? তাদেরকে আবার আবেদন করতে হবে। আর আবেদন করতে হলে আগের আবেদনটি বাতিল করতে হবে এবং উনাকে (খালেদা জিয়া) আবার জেলে যেতে হবে।”
সংবিধান, আইন ও বিচার বিভাগে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম ও ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভের (এমআরডিআই) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মশালায় আনিসুল হক ছাড়াও প্রশিক্ষক ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও হাই কোর্ট বিভাগের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম।
ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মাশহুদুল হক এতে সভাপতিত্ব করেন, সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ইয়াছিন ছিলেন সঞ্চালনায়। বিডি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

eight − five =