সেই কুলসুমী গ্রেপ্তার

0
159

হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অন্য নারীকে দিয়ে খাটানো চট্টগ্রামের সেই কুলসুমা আক্তার কুলসুমীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার রাত ৩টার দিকে পতেঙ্গা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালী থানার ওসি নেজাম উদ্দিন।
কুলসুমীর পরিবর্তে তার হয়ে জেল খাটা মিনু আক্তার হাইকোর্টের নির্দেশে মুক্তি পাওয়ার ১৩ দিনের মাথায় গত ২৮ জুন মধ্যরাতে নগরীর বায়েজিদ লিংক রোডে রহস্যজনক ট্রাকচাপায় মারা যান বলে পুলিশ জানিয়েছিল।
মুঠোফোন নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে ২০০৬ সালের ৯ জুলাই চট্টগ্রাম নগরীর রহমতগঞ্জ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় পোশাককর্মী কোহিনুর আক্তার ওরফে বেবিকে হত্যা করা হয়।
এই ঘটনায় নগরীর কোতোয়ালী থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই বছরের ২৬ অক্টোবর কুলসুম আক্তার ওরফে কুলসুমীকে গ্রেপ্তার করে। ৩১ অক্টোবর রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২০০৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
এক বছরের বেশি সময় কারাগারে থাকার পর ২০০৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি কুলসুমী জামিনে বের হয়ে আসেন। তার জামিন পাওয়ার প্রায় আট বছর পর ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত এই মামলার রায় দেয়।
রায়ে কুলসুমীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ের দিন অনুপস্থিত থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

(জেল খাটা মিনু আক্তার,ট্রাক চাপায় যার রহস্যজনক মৃত্যু হয়)।
এরপর ২০১৮ সালের ১২ জুন কুলসুমী ‘সেজে’ মিনু আক্তার ‘স্বেচ্ছায়’ সংশ্লিষ্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
কুমিল্লার ময়নামতি এলাকার বাসিন্দা মিনুর স্বামী ঠেলাগাড়ি চালক বাবুল বছর পাঁচেক আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। এরপর মিনু আক্তার সীতাকুণ্ডের জঙ্গল ছলিমপুর এলাকায় আসেন।
সন্তানদের ভরণ-পোষণের ‘মিথ্যা আশ্বাসে’ মিনু যখন অন্যের হয়ে সাজা ভোগ করছিলেন তখন তার দুই ছেলে ইয়াছিন (১০) ও গোলাপ (৭) সীতাকুণ্ডের একটি এতিমখানায় থাকত এবং মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসকে (৫) স্থানীয় এক ব্যক্তি লালন পালন করছিল। কিন্তু আশ্বাস মতো কোনো টাকা বা সন্তানদের জন্য খাবার কিছুই মিনু আক্তার পাননি।
এরমধ্যেই ২০১৯ সালের ২৩ এপ্রিল কুলসুমী রায়ের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে আপিল করেন। ৩০ এপ্রিল হাই কোর্ট আপিল গ্রহণ করে। পরবর্তীতে দণ্ডিত কুলসুমী জামিন আবেদন করলে চলতি বছর ১১ ফেব্রুয়ারি হাই কোর্ট তা বাতিল করে দেয়।
এদিকে গত ২১ মার্চ চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর চতুর্থ দায়রা জজ আদালতকে চিঠি দিয়ে জানায়, কারাগারে থাকা নারী দণ্ডিত কুলসুমী নন।
পরদিন কারাগারে থাকা মিনু আক্তারকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি জবানবন্দি দেন।
ওই সময় আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন, জবানবন্দিতে মিনু আক্তার বলেছিলেন, মর্জিনা নামের এক নারী তাকে চাল, ডাল দেবে বলে জেলে ঢোকায়। তিনি প্রকৃত আসামি কুলসুম আক্তারকে চেনেন না।
একই সঙ্গে আদালত কারাগারের নিবন্ধন দেখে হাজতি আসামি কুলসুমী ও সাজাভোগকারীর মধ্যে অমিল খুঁজে পান। তখন আদালত কারাগারের নিবন্ধনসহ সংশ্লিষ্ট কিছু নথি হাই কোর্টে কুলসুমীর করা আপিলের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য পাঠায়।
এই ঘটনা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পেলে আইনজীবী মো. শিশির মনির তা আপিল সংশ্লিষ্ট হাই কোর্ট বেঞ্চের নজরে আনেন। শুনানি শেষে ৭ জুন মিনুর মুক্তির আদেশ দেয় উচ্চ আদালত।
চট্টগ্রামে এসে উচ্চ আদালতের সেই আদেশ পৌঁছালে ১৬ জুন মুক্তি পান মিনু আক্তার। কিন্তু গত এপ্রিলে রোজার মধ্যে মিনুর মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস দুর্ঘটনায় মারা যায়। জেল থেকে বের হওয়ার পর মেয়ের মৃত্যুর খবর পান মিনু।
মুক্তির ১৩ দিনের মাথায় ২৮ জুন গভীর রাতে বায়েজিদ লিংক রোডে ‘ট্রাকচাপায়’ মিনু মারা যান বলে জানায় পুলিশ। পরদিন বেওয়ারিশ হিসেবে তার লাশ দাফন করে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম।
মিনুর মৃত্যুর ঘটনাকে ‘অস্বাভাবিক’ উল্লেখ করে তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তার আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ ও ভাই রুবেল হোসেন। বিডি নিউজ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

5 × 1 =