ঢাকা   সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১   রাত ৯:৩৩ 

সর্বশেষ সংবাদ

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যার বিচার শুরু, ওসি প্রদীপ,লিয়াকতসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়েছে।
রোববার সকালে কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার চার্জ গঠন করা হয়; একই সঙ্গে আদালত ছয় আসামির জামিন আবেদন বাতিল করে আগামী ২৬, ২৭ ও ২৮ জুলাই স্বাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেন।

এর মাধ্যমে এ মামলার বিচারকাজ শুরু হলো বলে জানিয়েছেন আদালত সংশ্লিষ্টরা।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটির শুনানি করেন। তিনি জানিয়েছেন, ফৌজদারী দন্ডবিধির ৩০২/২০১/১০৯/ ১১৪/১২০-খ এবং ৩৪ ধারায় মামলাটির চার্জ গঠন করা হয়েছে। মামলায় আগামী ২৬, ২৭ ও ২৮ জুলাই পরপর ৩ দিন সাক্ষ্য গ্রহণের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

পিপি ফরিদুল আলম জানান, এই মামলার আসামি প্রদীপ কুমার দাশ, লিয়াকত আলী, নন্দদুলাল রক্ষিত, সাগর দেব, আবদুল্লাহ আল মামুনসহ ছয় আসামির জামিন আবেদন করা হয়। বিচারক শুনানি শেষে তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে দেন। এছাড়া সাত আসামিকে এই মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদনও শুনানি শেষে নাকচ করে দেন আদালত।

গত বছরের ৩১ জুলাই ঈদুল আজহার আগের রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

হত্যার পাঁচ দিনের মাথায় ৫ আগস্ট সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে টেকনাফ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ সহ ৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে। ওসি (বরখাস্ত) প্রদীপ কুমার দাশকে করা হয় দুই নম্বর আসামি। মামলার তিন নম্বর আসামি করা হয় টেকনাফ থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) নন্দদুলাল রক্ষিতকে। আদালত থেকে মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় র‌্যাব-১৫ কে।

মামলার তদন্তের সময় আসামি পুলিশের ৭ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে তদন্তে নেমে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় ৩ জন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ৩ সদস্য সহ আরো মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। গত ২৪ জুন মামলার চার্জশীটভুক্ত আসামি কনস্টেবল সাগর দেব আদালতে আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে আলোচিত এই মামলার ১৫ আসামির সবাই এখন আইনের আওতায় কারাগারে রয়েছেন।

এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চার মাসের বেশি সময় ধরে চলা তদন্ত শেষে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর চাজশীট দাখিল করেন র‌্যাব-১৫ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম। ১৫ জনকে আসামি করে দেওয়া অভিযোগপত্রে সিনহা হত্যাকাণ্ডকে একটি ‘পরিকল্পিত ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় কারাগারে থাকা ১৫ আসামি হলেন- বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন পরিদর্শক লিয়াকত আলী, টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, তার দেহরক্ষী বলে পরিচিত কনস্টেবল রুবেল শর্মা, টেকনাফ থানার এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া, কনস্টেবল সাগর দেব, এপিবিএনের এসআই মো. শাহজাহান, কনস্টেবল মো. রাজীব ও মো. আবদুল্লাহ, পুলিশের দায়ের করা মামলার সাক্ষী টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরের মারিশবুনিয়া গ্রামের নুরুল আমিন, মো. নিজামুদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিন।

রোববার শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন পিপি অ্যাডডভোকেট ফরিদুল আলম, বাদী শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস এর পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মোস্তফা। অন্যদিকে আাসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত, অ্যাডভোকেট দিলীপ দাস, অ্যাডভোকেট প্রতিভা দাশ, অ্যাডভোকেট চন্দন দাশ, শহীদুল আলম, শফিউল আলম সহ ২১ থেকে ২২ জন আইনজীবী।
আদালতে শুনানিকালে চার্জশীটভুক্ত ১৫ আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। চাঞ্চল্যকর এই মামলার ধার্য দিন উপলক্ষে সব আসামিকে আদালতে আনায় এদিন সকাল থেকেই আদালত অঙ্গণে বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়া হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে আলোচিত