ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯   সন্ধ্যা ৭:০৪ 

সর্বশেষ সংবাদ

সাভারে নীলা হত্যার প্রধান আসামি মিজান ধরা পড়েনি, বাবা-মা রিমান্ডে, বিচার চেয়ে রাজধানীতে প্রতিবাদ সমাবেশ

সাভারে স্কুল ছাত্রী নীলা রায় হত্যার প্রধান আসামি মিজানুর রহমান এখনো ধরতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে তার বাবা আব্দুর রহমান ও মা নাজমুন্নাহার সিদ্দিকাকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেয়েছে সাভার থানার পুলিশ।

ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের হাকিম ফাইরুজ সালেকীন শুক্রবার শুনানি করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়া গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সাভার পৌর এলাকার পালপাড়া এলাকায় নীলাকে ছুরি মেরে হত্যা করে বখাটে মিজানুর ।

মানিকগঞ্জ জেলার বালিরটেক এলাকার নারায়ণ রায়ের মেয়ে নীলা সাভার পৌর এলাকার ব্যাংক কলোনির অ্যাসেড স্কুলের দশম শ্রেণিতে পড়ত। পৌর এলাকার কাজী মোকমা পাড়ার এক বাড়িতে তার পরিবার ভাড়া থাকে।

নীলা খুন হওয়ার পর মিজানুর ও তার বাবা-মাকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই তারা পলাতক ছিলেন। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
বৃহস্পতিবার মানিকগঞ্জ জেলার চারীগ্রাম এলাকা থেকে আব্দুর রহমান (৬০) ও মা নাজমুন্নাহার সিদ্দিকাকে (৫০) গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরে তাদের সাভার মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
শুক্রবার তাদের ঢাকার আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কমকর্তা এস আই নির্মল কুমার দাস।
রাষ্ট্রপক্ষে রিমান্ড আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত উদ্দিন খান হিরণ।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ঘটনার দিন নীলা ও তার ভাই অলক রিকশায় করে ফার্মেসিতে যাচ্ছিল ওষুধ আনতে। গার্লস স্কুলের পাশে রাস্তায় অলককে দূরে সরিয়ে চাপাতি, ছুরি দিয়ে আঘাত করে নীলাকে মারাত্মক জখম করে মিজানুর। পরে স্থানীয়রা এনাম মেডিকেলে নিয়ে গেলে নীলা মারা যায়।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, নীলাকে বিভিন্ন সময়ে ‘উত্ত্যক্ত করত’ মিজানুর। নীলার পরিবার মিজানুরের বাবা-মায়ের কাছে অভিযোগ জানালে তারা ছেলেকে বাধা না দিয়ে ‘উল্টো এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য নীলার বাবা-মাকে হুমকি’ দিত।
“মিজানুর তার বাবা-মায়ের ইন্ধনে ও প্ররোচনায় নীলাকে হত্যা করে। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।      
অন্যদিকে রিমান্ডের বিরোধিতা করে দুই আসামির পক্ষে শুনানি করেন আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ নেতা ও ঢাকা বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মামুন ও মাসুদ আহমেদ।
শুনানি শেষে বিচারক দুই দিনের হেফাজতে নিয়ে মিজানুরের বাবা-মাকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
রাজধানীতে প্রতিবাদ, সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি ঃ
দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ‘প্রকৃত দোষীদের’ বিচার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন।

শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি করে বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ।
সাভারের স্কুলছাত্রী নীলা রায় হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদের পাশাপাশি দুর্গা পূজায় তিন দিনের সরকারি ছুটি এবং ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন’ বাস্তবায়নেরও দাবি জানানো হয় মানববন্ধন থেকে।

বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের সভাপতি দীপংকর শিকদার দীপু বলেন, “আমরা আশা করি, সরকার নির্বাচনী ইশতেহার মোতাবেক সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইনের বাস্তবায়ন করবে।

“সেই সাথে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে চলমান নির্যাতন বন্ধ এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাই।”

‘মিথ্যা ও উসকানিমূলক’ মামলায় যেন ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ‘হয়রানি’ করা না হয়, সেই আহ্বান জানান পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাজন কুমার মিশ্র।

হিন্দু পরিষদের মুখপাত্র সুমন কুমার রায় ‘হিন্দু মন্দির ভাংচুর, বাড়িঘর ও শ্মশানের জমি বেদখল, দেশত্যাগের হুমকি প্রদর্শনে ‘ বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

একই দিনে বাংলাদেশ মহিলা ঐক্য পরিষদও জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নীলা রায় হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মানববন্ধন করে।

এ সমাবেশে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জি বলেন, “আজকে সিলেটে, ফরিদপুরে কন্যাশিশু অপহরণ ও ধর্ষণের মত ঘটনা ঘটেছে। নীলা রায়কে হত্যা করা হয়েছে। এসবের বিচারে যেন দীর্ঘসূত্রতা না আসে। এতে জনমনে হতাশা বাড়ে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

18 − 5 =

সবচেয়ে আলোচিত