ঢাকা   মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২২, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯   রাত ৩:৫৫ 

সর্বশেষ সংবাদ

তরুণ ব্যারিস্টার আসিফের মৃত্যু আত্মহত্যা না হত্যা? দানা বাঁধছে রহস্য : স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আসিফ ইমতিয়াজ খান জিসাদের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। রহস্যজনক এই মৃত্যুকে প্রথমে আত্মহত্যা বলা হলেও এখন এই মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যা বলে মনে করছেন আসিফের বাবা। ঘটনার ৫ দিন পর আসিফের স্ত্রী সাবরিনা শহীদ নিশিতা তার বাবা এএসএম শহিদুল্লাহ মজুমদার, মা রাশেদা শহীদ এবং ছোট ভাই সায়মান শহীদ নিশাতকে আসামি করে মামলা করেছেন ব্যারিস্টার আসিফ ইমতিয়াজের বাবা সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরীর আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। বিচারক বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে কলাবাগান থানার ওসিকে অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
পরে আইনজীবী ইকবাল হোসেন বলেন, “আসিফ ইমতিয়াজ খান জিসাদকে হত্যার পর বারান্দা থেকে ফেলে দেওয়া হয়, যদিও আসামিরা এটিকে আত্মহত্যা বলে চালাতে চেয়েছিল।
“আসিফ ইমতিয়াজের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কথায় বাদী একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছিলেন। কিন্তু পরে পারিপার্শ্বিক ঘটনা, সুরতহাল প্রতিবেদন ও আসামিদের আচরণে বাদী বুঝতে পেরেছেন আসিফ লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেননি বরং তাকে হত্যা করে উপর থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তাই দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় নিহত আসিফের বাবা বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেছেন। আদালত কলাবাগান থানাকে এই মামলার অভিযোগটিকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে তা নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।”

৩৩ বছর বয়সী আসিফ গত ১১ সেপ্টেম্বর কাঁঠালবাগানের ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে শ্বশুরবাড়ির নবমতলার বারান্দা থেকে ‘লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন’ বলে তার স্ত্রীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বরাত দিয়ে জানিয়েছিল পুলিশ।
ব্যারিস্টার আসিফের বাবা শহিদুল ইসলাম খান সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-কামারখন্দ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। পরিবার নিয়ে ঢাকার মিরপুরে থাকেন তিনি।
ঘটনার ১৫ দিন আগে আসিফ বাবার মিরপুরের বাসা থেকে কাঁঠালবাগানের শ্বশুরবাড়িতে উঠেছিলেন

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র জানায় “আসিফের বাবা-মা প্রথমে বিয়ে মেনে না নিলেও পরে মেনে নেন। তবে আসিফের স্ত্রী অধিকাংশ সময় বাবার বাড়িতেই থাকতেন।”

ওই দিনের ঘটনা সম্পর্কে আসিফের শ্বশুরবাড়ির লোকজন পুলিশকে বলছিল, আসিফ বাসায় বিয়ার পান করত। এই নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্য থেকে সে ভোরে ফজরের নামাজের সময় বারান্দা থেকে লাফিয়ে পড়ে।

পরে আসিফকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে ব্যারিস্টার আসিফের রহস্যজনক মৃত্যুতে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এএম আমিন উদ্দিন ও সেক্রেটারি রুহুল কুদ্দুস কাজল গত বুধবার এক বিবৃতিতে মৃত্যুর কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। বিবৃতিতে সমিতির সদস্য ব্যারিস্টার আসিফ ইমতিয়াজ খানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১১ সেপ্টেম্বর ভোর রাতে ঢাকার কলাবাগানে তাঁর শ্বশুর বাড়ির ৯তলা থেকে পড়ে মৃত্যুবরণ করেন ব্যারিস্টার আসিফ ইমতিয়াজ। তাঁর বাবা সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ শহীদুল ইসলাম খানও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। প্রাথমিকভাবে তাঁর মৃত্যুটি আত্মহত্যা মনে হলেও পূর্বাপর ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় এই মৃত্যু নিয়ে নানামুখী রহস্য সৃষ্টি হয়েছে।
এ অবস্থায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনজীবী আফিস ইমতিয়াজের মৃত্যু নিয়ে সৃষ্ট রহস্য অবিলম্বে নিরসন হওয়া জরুরী বলে মনে করে সুপ্রিম কোর্ট বার। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকরী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান সমিতির নেতৃবৃন্দ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে আলোচিত