ঢাকা   রবিবার, ২ অক্টোবর ২০২২, ১৭ আশ্বিন ১৪২৯   সন্ধ্যা ৭:৪৩ 

সর্বশেষ সংবাদ

অচলায়তন ভাঙছে দুদকের, মহাপরিচালক পদে পদোন্নতি পেলেন বিভাগীয় তিন কর্মকর্তা

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক (ডিজি) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন সংস্থাটির নিজস্ব তিনি কর্মকর্তা। পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন—দুদকের পর্যবেক্ষণ ও গোয়েন্দা ইউনিটের পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী, দুদক বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত শাখা-২ এর পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন ও দুদকের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের বিশেষ পরিচালক মো. আক্তার হোসেন।
বৃহস্পতিবার দুদক সচিব মো. মাহবুব হোসেন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এছাড়া পৃথক আরও দুটি আদেশে ৬ জন উপ-পরিচালককে পরিচালক ও ৮ জন সহকারী পরিচালককে উপ-পরিচালক পদে পদোন্নতি দেয়া হয়।
পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া ছয় কর্মকর্তা হলেন; এস এম সাহিদুর রহমান, মো. লুৎফর রহমান, মির্জা জাহিদুল আলম, মো. ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী, ঋত্বিক সাহা ও মো. মোশারফ হোসেইন মৃধা।
এছাড়া সহকারী পরিচালক থেকে ৮ আটজন উপ পরিচালক হলেন, মো. শহীদুল আলম সরকার, মো. এ.একেএম বজলুর রশীদ, সৈয়দ আতাউল কবীর, মো. শহীদুল ইসলাম মোড়ল, মো. হাফিজুর রহমান, মো. আমিনুল ইসলাম, মো. ফজলুল বারী ও এ এক এম ফজলে হোসেন।
দুদকের মোট আটজন মহাপরিচালক পদের মধ্যে ডেপুটেশনে আসা সরকারের যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার সাত কর্মকর্তা বিভিন্ন শাখায় কর্মরত ছিলেন। একটি পদ ছিলো খালি। এর মধ্যে একজনকে নির্ধারিত দায়িত্ব ছাড়াও অতিরিক্ত হিসেবে এই শাখার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। গুরুত্বপূর্ণ উর্ধতন পদটিতে প্রশাসন ক্যাডার থেকে নিয়ে আসা হতো,যার ফলে দুর্নীতি দমনে সংস্থাটির ভাবমূর্তী প্রশ্নের মুখে পড়ে। বিশেষ ক্যাডার থেকে আসা কর্মকর্তারা বিশেষ ক্যাডারের কারও দুর্নীতি তদন্তে অনাগ্রহ দেখাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তা ছাড়া স্বল্পকালীন সময়ের জন্য প্রেষণে এ পদে এসে তারা নিজেরাও বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়তেন। দুদকের নিজস্ব পরিচালকদের মধ্য থেকে ডিজি পদে পদোন্নতি পাওয়ার যোগ্য হলেও বিভাগীয় কর্মকর্তাদের পদোন্নতি না দেয়ায় ক্ষোভ ছিলো কর্মকর্তাদের মধ্যে।
এদিকে প্রেষণে আসা বিশেষ তদন্ত শাখার ডিজি সাঈদ মাহবুব খানকে পাঠানো হয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে। তিনি প্রায় ৫ বছর ধরে দুদকে মহাপরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আর আইসিটি ও প্রশিক্ষণ শাখার ডিজি এ কে এম সোহেলকে বদলি করা হয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে। তিনিও ৪ বছরের বেশি সময় ধরে কর্মরত ছিলেন।
প্রেষণে এসে দুদকের গুরুত্বপূর্ণ পদে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থাকা এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার,বড় বড় দুর্নীতির দায় থেকে প্রভাবশালীদের দায়মুক্ত প্রদান,স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
সূত্র জানায়, ২০০৪ সালে কমিশন প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৮ বছরের বেশি সময়ে দুদকের নিজস্ব কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে মাত্র চারজন ডিজি হতে পেরেছেন। সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত তিনজনসহ ১৮ বছরের বেশি সময়ে ডিজি হলেন মোট সাতজন। এই দীর্ঘ সময়ে প্রশাসন বা অন্য ক্যাডার থেকে প্রেষণে আসারাই এ পদগুলো দখল করে রেখেছিলেন।
মহাপরিচালক পদে পদোন্নতি পাওয়া তিনজন আক্তার হোসেন, মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী ও সৈয়দ ইকবাল হোসেন ১৯৯৫ সালে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোতে কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। দুর্নীতি দমন কমিশন হওয়ার পর তারা উপপিরচালক এবং ২০১৫ সালের মাঝামাঝিতে তাঁরা পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি পান। সাত বছর পর তাঁরা মহাপরিচালক হলেন।
এদিকে ‘একসঙ্গে তিনজন মহাপরিচালকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এত পদোন্নতি দুদকের ইতিহাসে কখনো হয়নি মন্তব্য করেছেন দুদক কমিশনার (তদন্ত) মো:জহুরুল হক। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি যে নষ্ট হওয়ার দিকে যাচ্ছিল, তা অনেকখানি পুনরুদ্ধার হবে’।
তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস পদোন্নতি হওয়ায় আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উদ্বেলিত ও উৎসাহিত হবেন। কর্মচারীরা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবেন। এতদিনের হতাশা দূর হবে। যারা পদোন্নতি পাননি আক্ষেপের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা জ্যেষ্ঠতা অনুসরণ করে পদোন্নতি দিয়েছে। যারা বাদ পড়েছেন তারা বিভিন্ন কারণে বাদ পড়েছেন। অনেক আগে থেকে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের রিপোর্ট ছিল। যে কারণে তাদের আমরা বিবেচনা করতে পারিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

1 × three =

সবচেয়ে আলোচিত