ঢাকা   মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯   রাত ২:১৬ 

সর্বশেষ সংবাদ

সাংবিধানিক জটিলতায় পাকিস্তান, কে হচ্ছেন তত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী?

অনাস্থা প্রস্তাব বাতিল হওয়া এবং পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়ার পর সাংবিধানিক জটিলতার দিকে এগুচ্ছে পাকিস্তান। নতুন তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রীর নাম আহ্বান করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ড. আরিফ আলভি।অবশ্য নতুন তত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী না হওয়া পর্যন্ত ইমরান খানই দায়িত্ব পালন করে যাবেন । তবে তিন দিনের মধ্যে যদি তত্বাধায়ক প্রধানমন্ত্রীর নাম না পৌঁছে প্রেসিডেন্টের কাছে সে ক্ষেত্রে বিদায়ী জাতীয় পরিষদের ৮ জন সদস্য নিয়ে কমিটি গঠন করা হবে । আর এই কমিটির সুপারিশে প্রেসিডেন্ট একজনকে তত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করবেন।
তবে এই প্রস্তাবের বিরোধীতা করছে বিরোধীদলগুলো। বিশেষ করে বিরোধীদল নেতা শাহবাজ শরীফ ও পিপিপির চেয়ারম্যান বিলোয়াল ভূট্টো জারদারি। তারা একে সংবিধান লঙ্ঘন বলছেন।
প্রেসিডেন্ট ড.আরিফ আলভি পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফের (পিটিআই) প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও ভেঙ্গে দেয়া পার্লামেন্টের বিরোধী দলীয় নেতা শাহবাজ শরীফের কাছে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম চেয়ে চিঠি লিখেছেন। সংবিধানের ২২৪-এ(১) ধারার অধীনে এই তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করা হবে বলে খবর দিয়েছে অনলাইন ডন। জাতীয় পরিষদের ডেপুটি স্পিকার কাসিম সুরি অনাস্থা প্রস্তাব অসাংবিধানিক বলে তা খারিজ করে দেয়ার পর রোববার প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি পার্লামেন্ট ভেঙে দেন। এরপর সোমবার তিনি ইমরান খান ও শাহবাজ শরীফকে ওই চিঠি লিখেছেন। এতে তিনি বলেছেন- রোববার সংবিধানের ৫৮(১) ধারার অধীনে কেন্দ্রীয় সরকার ও জাতীয় পরিষদ ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নিয়োজিত না হচ্ছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত সংবিধানের ২২৪-এ(৪) অনুচ্ছেদের অধীনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন ইমরান খান। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দলীয় নেতার সঙ্গে পরামর্শক্রমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করে থাকেন প্রেসিডেন্ট।
প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি আরও বলেন, জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেয়ার তিন দিনের মধ্যে যদি প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতা প্রার্থী মনোনয়নে একমত না হন তাহলে তারা দুজন নমিনি দিতে পারবেন। বিদায়ী জাতীয় পরিষদের আটজন সদস্য অথবা সিনেট অথবা উভয়ের আটজন সদস্য নিয়ে স্পিকার একটি কমিটি গঠন করবেন। তাতে ট্রেজারি বেঞ্চ এবং বিরোধীদের সমান সংখ্যক প্রতিনিধি থাকবেন। এই কমিটির সদস্যদেরকে মনোনীত করতে হবে প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দল থেকে। সংবিধানের ২২৪-এ(১) ধারার অধীনে সংবিধান প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতার সঙ্গে পরামর্শক্রমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেয়ার ক্ষমতা দিয়েছে প্রেসিডেন্টকে।

একে বেআইনি আখ্যায়িত করে এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন শাহবাজ শরীফ। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্ট মিলে আইন লঙ্ঘন করেছেন। তারা কিভাবে বিরোধীদের কাছে আসে? এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে শাহবাজ শরীফকে পাশে রেখে পিপিপির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেন, কিভাবে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ করা হবে এবং কিভাবে একজন প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে সংবিধানে তা বলা আছে। কিন্তু সেই পদক্ষেপগুলোকে ডিঙিয়ে যাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, যখন কোনো হাউজই (পার্লামেন্ট) নেই, তখন কিসের নেতা আর কিসের বিরোধী দল। ভোটে না দিয়ে অনাস্থা প্রস্তাবকে আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করা যায় না।
রাজধানী ইসলামাবাদে বিদায়ী তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী বিরোধীদের এসব অভিযোগ আমলেই নিচ্ছেন না। তিনি বলেছেন, দেশ এখন আগামী নির্বাচনের আবহে আছে। বিরোধীরা সরকারের কর্মকাণ্ডকে অসাংবিধানিক বলে যে অভিযোগ উত্থাপন করেছে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

17 − eight =

সবচেয়ে আলোচিত