ঢাকা   সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১   বিকাল ৪:০০ 

সর্বশেষ সংবাদ

আফগানিস্তানে ফিরছে তালিবানি নিষ্ঠুর শাসন : মেয়েদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ, গান বাজনা নিষিদ্ধ, চালু হচ্ছে শরিয়া আইন

সেই নৃশংস শাসনের পথেই ফিরে আসছে তালেবানরা। আফগানিস্তানের একের পর এক জায়গা তারা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে রেখে যাচ্ছে নৃশংসতার চিহ্ন। নির্বিচারে হত্যা, মেয়েদের স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ করা, নারীদের চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ ,গানবাজনা নিষিদ্ধ করে শরিয়ত আইন চালু করছে তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায়। তালেবান যোদ্ধাদের সঙ্গে বেশ কিছু এলাকা ঘুরে এসে সেখানকার সর্বশেষ অবস্থা এক প্রতিবেদনে তুলে ধরেছেন বিবিসির সাংবাদিক সেকান্দার কেরমানি।
এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় আফগানিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর কান্দাহার দখলের দাবি করেছে তালেবান, যা তাদের জন্য একটি বড় ধরণের বিজয় হতে পারে।

শহরটি এক সময় তালেবানের শক্তিশালী ঘাঁটি ছিল এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে এটি কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।
বৃহস্পতিবার দেশটির কয়েকটি শহরের নাটকীয় পতন ঘটেছে যদিও তালেবান এখনো বিজয় ঘোষণা করেনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে তারা আফগানিস্তানের মার্কিন দূতাবাস থেকে আটকেপড়া কর্মীদের উদ্ধারে তিন হাজার সৈন্য পাঠাচ্ছে।
বিশেষ বিমানে করে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মীকে নিয়ে আসতে কাবুল বিমানবন্দরে যাবে তারা।
অন্যদিকে ব্রিটিশ নাগরিকদের আফগানিস্তান ছাড়তে সহায়তা করতে অন্তত ছয়শ সৈন্য পাঠানোর কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য।

বিবিসির সাংবাদিক সেকেন্দার কেরমানি লিখেছেন,সরকারি বাহিনীকে হটিয়ে একের পর এক প্রাদেশিক রাজধানী দখল করে তালেবান যোদ্ধারা এগিয়ে চলেছে কাবুলের দিকে, দুই দশক পর আফগানিস্তানের ক্ষমতা ফিরে পাওয়াই তাদের লক্ষ্য।
ইতোমধ্যে দেশটির প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা তালেবান নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। রাজধানী কাবুল থেকে মাত্র দেড়শ কিলোমিটার দূরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর গজনিও তারা দখল করে নিয়েছে বৃহস্পতিবার।
দুই দশকের রক্তাক্ত যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র যখন চলতি বছরের ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে তাদের সর্বশেষ সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখনই তালেবানের এই অগ্রযাত্রা।

যুদ্ধের মধ্যে কয়েক লাখ মানুষ ইতোমধ্যে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। কয়েকশ মানুষ নিহত কিংবা আহত হয়েছে গত কয়েক সপ্তাহে।
যে পথ ধরে বিজয়ী বেশে তালেবানরা অগ্রসর হচ্ছে, সেই পথেই ফিরে আসছে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত তালেবান শাসনামলের আতঙ্ক জাগানো স্মৃতি, তখনকার মতই বেশ কিছু নিষ্ঠুর নিয়ম তারা এরই মধ্যে ফিরিয়ে এনেছে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে পাওয়া এলাকগুলোতে।
তার সঙ্গে যখন তালেবান যোদ্ধাদের দেখা হয়, তারা সে সময় আফগানিস্তানের সবচেয়ে বড় শহর মাজার-ই-শরিফ থেকে মাত্র ৩০ মিনিটের দূরত্বে অবস্থান করছিল। যুদ্ধে পাওয়া ‘গনিমতের মাল’ তারা দেখাচ্ছিল, যার মধ্যে একটি হামভি, দুটি পিকআপ ভ
ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জড়ো হওয়া একদল যোদ্ধার মাঝে পাথরের মত কঠিন চেহারা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন সাবেক মাদ্রাসা ছাত্র আইনুদ্দিন। তিনি এখন একজন তালেবান কমান্ডার।
বিবিসির প্রতিবেদক আইনুদ্দিনের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, যে সাধারণ মানুষের জন্য তারা লড়াই করছেন বলে দাবি করেন, তাদের দুর্ভোগে ফেলে এই সহিংসতাকে তিনি কীভাবে যৌক্তিক মনে করেন।
ঠাণ্ডা স্বরে আইনুদ্দিন তাকে বলেন, “লড়াই চলছে, তাই মানুষ মারা যাচ্ছে।” তারা ‘সর্বোচ্চ চেষ্টা’ করছেন, যাতে বেসামরিক লোকজনের ক্ষতি না হয়।
কিন্তু তালেবানরাই যে এ যুদ্ধের সূচনা করেছে, সে কথা তুলতেই আইনুদ্দিনের জবাব- “না, আমাদের নিজেদের একটা সরকার ছিল, যাকে উৎখাত করা হয়েছে। তারাই (আমেরিকানরা) এই যুদ্ধ শুরু করেছে।”
আইনুদ্দিনসহ বাকি তালেবানরা মনে করেন, পরিস্থিত এখন তাদের অনুকূলে। ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে তাদের ক্ষমতা থেকে উৎখাত করা হয়েছিল। এখন আবারও তারা আধিপত্য ফিরে পাচ্ছেন।
কাবুলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘পুতুল’ সরকার ক্ষমতায় আছে মন্তব্য করে আইনুদ্দিন বলেন, “তারা পশ্চিমা সংস্কৃতি ছাড়ছে না … তাই তাদেরকে হত্যা করতে হবে।”
বিবিসির সাংবাদিক সেকান্দার কেরমানি লিখেছেন, “আমাদের কথোপকথন শেষ হওয়ামাত্র হেলিকপ্টারের শব্দ শোনা গেল। হামভি নিয়ে তালেবান যোদ্ধারা মুহূর্তে উধাও হয়ে গেল। এ ঘটনা মনে করিয়ে দিলে আফগান বিমান বাহিনী এখনও তালেবানদের জন্য বড় বাধা, আর এ যুদ্ধ শিগগির শেষ হওয়ার নয়।”
কিছুদিন আগে প্রাচীন বাল্খ নগরীতে ঘুরে আসার কথাও লিখেছেন বিবিসির প্রতিবেদক। ধারণা করা হয়, ওই শহরেই জন্মেছিলেন ইসলামের খ্যাতনামা মরমী কবি জালাউদ্দিন রুমি।
সেকান্দার কেরমানি যখন বাল্খে গিয়েছিলেন, তখনও ওই এলাকা সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে চারপাশের গ্রামগুলো তালেবান যেদ্ধারা দখল করে নিয়েছিল।
এখন প্রায় ২০০ জেলা শহর নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চারপাশে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ সংহত করছে তালেবান। বাল্খও এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে।
তালেবান বাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সেকান্দার কেরমানিকে বলেছেন, তারা যে আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন, তার বেশি কিছু কারণ আছে। একটি হল, ঐতিহাসিকভাবেই ওই এলাকায় তালেবানবিরোধী মনোভাব প্রবল। আবার ওই এলাকর জাতিগত বৈচিত্র্যও একটি কারণ।
তালেবানের মূল নেতৃত্বে থাকা পশতুরা সংখ্যায় বেশি হলেও তারা এখন আফগানিস্তানের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। সে কারণেই উত্তরাঞ্চল বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে।
বাল্খ এর স্থানীয় তালেবান নেতা হাজি হেকমতের অতিথি হয়েছিলেন বিবিসি প্রতিবেদক। তিনি তার প্রতিবেদনে লিখেছেন, যুদ্ধের মধ্যেও মানুষের প্রতিদিনের জীবনযাত্রাকে ‘স্বাভাবিক’ দেখাতে হাজি হেকমত ছিলেন উদগ্রীব।
বাল্খের বাজারে নারী এবং পুরুষ উভয়েরই ভিড় দেখেছেন বিবিসির সাংবাদিক। রাস্তায় মেয়েদের স্কুলে যেতেও দেখেছেন। কিন্তু অন্যান্য এলাকায় তালেবান কমান্ডাররা নারীদের চলাফেরায় কড়াকড়ি আরোপ করছেন বলেও তিনি খবর পেয়েছেন। কোথাও কোথাও মেয়েদের স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ করারও খবর এসেছে।
ওই এলাকায় যে নারীদের সেকান্দার কেরমানি দেখেছেন, তাদের সবাই পুরো দেহ ঢাকা বোরখা পরা ছিলেন, তাদের মুখ আর চুলও ছিল ঢাকা।
হাজি হেকমত তাকে বলার চেষ্টা করেছেন তালেবান কাউকে বোরখা পরতে বাধ্য করছে না, শুধু এই ‘নসিহত’ করছে যে নারীদের এরকম পোশাকেই বাইরে আসা উচিত।
তবে সেকান্দার কেরমানি শুনেছেন, শহরের ট্যাক্সি চালকদের এই হুকুম দেওয়া হয়েছে যে, পুরোপুরি বোরখা না পরা থাকলে কোনো নারীকে যেন তারা গাড়িতে না তোলে।
বিবিসির সাংবাদিক যেদিন বাল্খ শহর ত্যাগ করেন, তার পরদিনই তিনি খবর পান, বোরখা না পরায় সেখানে এক তরুণীকে হত্যা করা হয়েছে। তবে হেকমত তার কাছে দাবি করেছেন, ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তালেবানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
সেকান্দার কেরমানি তার প্রতিবেদনে লিখেছেন, বাজারে অনেকেই তালেবানের প্রতি তাদের সমর্থনের কথা বলেছেন। তালেবান আসায় নাকি তাদের ‘নিরাপত্তা জোরদার’ হয়েছে।
“কিন্তু আমি যেখানেই গেছি, যার সঙ্গে কথা বলেছি, তালেবান যোদ্ধারা সব সময় আমার সঙ্গে ছিল। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা সত্যিকারে তালেবানের বিষয়ে কী ভাবছে, সেটা বোঝার উপায় আমার ছিল না।”
নীল টালির ওপর কারুকাজ করা মাজার-ই-শরিফ মসজিদের আশেপাশে গত সপ্তাহেও আফগান নারী আর পুরুষদের অনেক বেশি সামাজিক এবং স্বাভাবিক ভঙ্গিতে চলাফেরা করতে দেখা গিয়েছিল।
এই নগরী এখনও আফগান সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বিবিসি প্রতিবেদক যাদের সঙ্গেই কথা বলেছেন তাদের প্রত্যেকেই তালেবানের পুনরুত্থান নিয়ে শঙ্কা জানিয়েছেন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, যারা বেড়ে উঠেছে তুলনামূলক একটি ‘স্বাধীন’ পরিবেশে।
কিন্তু বাল্খ জেলায় রকারি বিভিন্ন স্থাপনার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিজেদের ‘সরকার ব্যবস্থা’ গড়ে তুলছে তালেবান। ইতোমধ্যে শহরের সব সরকারি ভবনের দখল নিয়েছে তারা। এর মধ্যে পরিত্যক্ত একটি পুলিশ ভবনও রয়েছে।
ওই ভবনটি স্থানীয় পুলিশ প্রধানের সদর দপ্তর ছিল, ওই এলাকার দখল নিতে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালিয়ে ভবনটির একটি অংশ ধ্বংস করেছে তালেবানরা।

বিবিসি প্রতিবেদক লিখেছেন, ওই অভিযানের বিষয়ে তিনি যখন কথা বলতে গেলেন, হাসিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল তালেবান ডিস্ট্রিক্ট গভর্নর আব্দুল্লহ মনজুরের মুখ। তার সহযোগীদেরও মুখেও ছিল হাসি।
আফগানিস্তানের বেশিরভাগ এলাকায় এসব যুদ্ধের পেছনে আদর্শিক কারণ যতটা রয়েছে, ঠিক ততটাই রয়েছে ব্যক্তিগত বিদ্বেষ।
তালেবানরা এসব এলাকার দখল নিলেও বেশ কিছু বিষয় বদলায়নি। সেখানে কমলা রঙের পোশাকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আগের মতই কাজে যেতে দেখা গেছে। নিয়ম করে অফিস করছেন কিছু সরকারি আমলাও।
এরা সবাই নতুন তালেবান মেয়রের তত্ত্বাবধানে কাজ করছেন। তার কার্যালয়ে বড় একটি কাঠের টেবিলের কোনায় বসানো পতাকার মধ্যে লেখা রয়েছে ‘ইসলামিক এমিরেট অব আফগানিস্তান’।
বাল্খের বর্তমান মেয়র একসময় তালেবান বাহিনীকে গোলাবারুদ সরবরাহের দায়িত্বে ছিলেন, এখন তিনি ‘কর’ আদায়ের দায়িত্বে। বিবিসির প্রতিবেদককে তিনি গর্বের সঙ্গে বলেছেন, ব্যবসায়ীদের ওপর তারা আফগান সরকারের চেয়ে কম কর ধার্য করছেন।
বিবিসি প্রতিবেদক লিখেছেন, অনেক জায়গাতেই এখন তালেবানদের কট্টর ধর্মীয় নির্দেশনাগুলো আরও বেশি প্রকট। স্থানীয় রেডিও স্টেশনে এক সময় ইসলামী সংগীতের পাশাপাশি বিভিন্ন জনপ্রিয় গানও বাজানো হতে। এখন সেখানে কেবল ধর্মীয় বয়ান শোনা যায়।
হাজী হেকমত তাকে বলেছেন, গান ‘অশ্লীলতা’ উসকে দেয়, তাই প্রকাশ্যে গান বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ব্যক্তিগতভাবে কেউ চাইলে তো শুনতেই পারেন।
বিবিসির প্রতিবেদক অবশ্য স্থানীয়দের কাছে শুনেছেন, এক লোক বাজারে গান শোনায় তালেবান যোদ্ধারা তাকে আটক করে। তারপর শাস্তি হিসেবে তাকে তপ্ত রোদের মধ্যে খালি পায়ে হাঁটতে বাধ্য করা হয়, যতক্ষণ না তিনি চেতনা হারাচ্ছেন।
হাজী হেকমত দাবি করেছেন, তেমন কিছু বাস্তবে ‘ঘটেনি’। রেডিও স্টেশন থেকে বের হওয়ার পর দাড়ি ছাড়া কিছু তরুণকে দেখিয়ে শুকনো হেসে তিনি সেকান্দার কেরমানিকে বলেছেন, “দেখুন! আমরা কাউকে জবরদস্তি করছি না।”
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, এটা স্পষ্ট যে তালেবান বিশ্বের কাছে নিজেদের নমনীয় একটি ভাবমূর্তি তুলে ধরতে চেয়েছে। কিন্তু আফগানিস্তানের অন্যান্য স্থান থেকে যেসব খবর আসছে, তাতে তাদের কঠোর ভূমিকার কথাই শোনা যাচ্ছে। অবশ্য সেটা স্থানীয় কমান্ডারদের আচরণগত পার্থক্যের কারণেও হতে পারে।
তালেবানের দখল চলে যাওয়া কিছু এলাকা থেকে প্রতিশোধমূলক এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের খবর আসার পর পশ্চিমা দেশগুলো হুঁশিয়ার করে বলেছে, জোর করে দখলের চেষ্টা করলে আফগানিস্তানকে একঘরে করা হবে।
আগের তালেবান শাসনামলে ‘শরিয়া আইনে’ শাস্তির নামে নিষ্ঠুরতার বহু ঘটনা দেখা গেছে। এ বাহিনীর নতুন অগ্রযাত্রা শুরুর পর গত মাসে দক্ষিণাঞ্চলীয় হেলমান্দ প্রদেশে তালেবান যোদ্ধারা শিশু অপহরণের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে ফাঁসিতে ঝোলায়। বলা হয়, অপহরণের দায়ে তারা দোষী সাব্যস্ত হয়েছে।
বিবিসি প্রতিবেদক বাল্খ অঞ্চল পরিদর্শনের সময় একটি আদালতের কার্যক্রমও দেখতে যান। যেখানে সব মামলাই ছিল জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে।
অনেকেই যখন তালেবানের বিচার ব্যবস্থা নিয়ে আতঙ্কিত, এমনও অনেকে আছেন, যারা আফগান সরকারের দুর্নীতিপরায়ণ ব্যবস্থার চেয়ে তালেবানি বিচারে দ্রত সমাধান পাওয়াকেই শ্রেয় বলে মনে করছেন।
একটি মামলার বাদী তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বিবিসিকে বলেছেন, “আমাকে এ পর্যন্ত অনেক ঘুষ দিতে হয়েছে।”
তালেবান বিচারক হাজী বদরউদ্দিন বলেছেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর গত চার মাসে কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেননি। আর গুরুতর মামলার ক্ষেত্রে তাদের ব্যবস্থায় আপিল আদালতও রয়েছে।
তবে কঠোর সাজার পক্ষে অবস্থান জানিয়ে এই বিচারক বলেন, “আমাদের শরিয়া আইনে এটা স্পষ্ট, অবিবাহিত কেউ যদি যৌনকর্মে লিপ্ত হয়, সে নারী হোক বা পুরুষ, জনসম্মুখে ১০০ দোররাই তার শাস্তি।
“কিন্তু বিবাহিত কেউ যদি ব্যাভিচার করে, তাহলে সে যেই হোক না কেন, পাথর ছুড়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে হবে… আর চুরির ক্ষেত্রে, যদি প্রমাণ হয়, তার হাত কেটে ফেলতে হবে।”

এমন শাস্তি যে আধুনিক সভ্য সমাজের সঙ্গে যায় না, সেই সমালোচনার জবাবে হাজী বদরউদ্দিন বলেন, “কারও সন্তানকে অপহরণ করা হল, এটা কি ভালো? নাকি একজনের হাত কেটে দিয়ে সমাজে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা ভালো?”
তালেবান বাহিনী দ্রুত বিভিন্ন এলাকার দখল নিলেও আফগান সরকার এখনও বড় নগরীগুলোর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। সামনের মাসগুলোতে আধিপত্য নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সহিংসতা আরও বাড়তে পারে।
বিবিসি প্রতিবেদক হাজী হেকমতকে প্রশ্ন করেছিলেন, তালেবান বাহিনী যে সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে জিতবে, সে বিষয়ে তিনি কতটা নিশ্চিত।
জবাবে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, যদি শান্তি আলোচনা সফল না হয় তবে আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা জয়ী হব।”
সেই শান্তি আলোচনা এখন কার্যত থমকে আছে। তালেবান বাহিনীর তরফ থেকে বার বার একটি ‘ইসলামি সরকার’ প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হচ্ছে, প্রতিপক্ষের কাছে যা আত্মসমর্পণেরই নামান্তর।
তালেবান কমান্ডার হেকমত বলেন, “আমরা দুই বিদেশি শক্তিকে পরাজিত করেছি। এখন সামনে ভেতরের শত্রু।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে আলোচিত