ঢাকা   মঙ্গলবার, ৩ আগস্ট ২০২১, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮   সন্ধ্যা ৭:১৭ 

সর্বশেষ সংবাদ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন: দুর্নীতির মামলায় দণ্ড নিয়ে মরতে হলো মেয়র খোকাকে, পরিচিতি ছিলো মি. টুয়েন্টি পার্সেন্ট হিসেবে, উত্তরসূরি খোকনও গেলেন সেপথে, লুট হয়েছে শত শত কোটি টাকা

অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনে সর্বশেষ মেয়র ছিলেন বিএনপি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা। ঢাকা সিটি করপোরেশন বিভক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সব মিলিয়ে ১০ বছরের বেশি সময়। কিন্তু সাদেক হোসেন খোকার বিরুদ্ধে ওঠে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ। সিটি করপোরেশনের কোটি কোটি টাকা তিনি লুটপাট করেন এবং আমেরিকায় পাচার করেছেন। তার বিরুদ্ধে কয়েকটি দুর্নীতির মামলা হয় এবং একটিতে ১৩ বছরের কারাদণ্ড হয়। বাজেয়াপ্ত হয় সব সম্পত্তি। দেশ থেকে পালিয়ে যান এবং ১৩ বছরের কারাদণ্ড মাথায় নিয়েই ২০১৯ সালের ৪ নভেম্বর আমেরিকায় মৃত্যুবরণ করেন। একজন রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর দুর্নীতিতে জড়িয়ে যাওয়ার ঘটনায় এক কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সৃষ্টি হয়। দেশমাতৃকার টানে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে যিনি দেশ স্বাধীন করলেন সেই তিনি দেশ সেবার দায়িত্ব পেয়ে কেনো দুর্নীতিতে জড়ালেন এমন প্রশ্নের কোনো জবাব পাওয়া যায় নি। মি.খোকার আমলে ঢাকা সিটি করপোরেশন দুর্নীতির আখড়া হয়ে ওঠে। তিনি মেয়র থাকাকালে সিটি করপোরেশনের সব বিভাগে ‘মিস্টার টুয়েন্টি পার্সেন্ট’ নামেও আখ্যায়িত হয়েছিলেন। অভিযোগ রয়েছে উন্নয়নমূলক টেন্ডার কার্যক্রম থেকে শুরু করে মশক নিধনের ওষুধ ছিটানো কার্যক্রম পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই মেয়রের টুয়েন্টি পার্সেন্ট পরিশোধ করে তবেই কাজ শুরুর নির্দেশনা ছিল।

সাবেক মেয়র খোকার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ছাড়াও ডিসিসির ৮০০ কোটি টাকার সম্পদ ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ রয়েছে। ঠিকাদার নিয়োগ, দোকান বরাদ্দ,বাস টার্মিনাল ইজারা,যাত্রাবাড়ি ফ্লাইওভার নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে মেয়র খোকার বিরুদ্ধে। তার মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে দুর্নীতির মামলা, অভিযোগ, কারাদণ্ড সবকিছুই তামাদি হয়ে গেলেও দুর্নীতিমুক্ত হতে পারেনি সিটি করপোরেশন। ২০১১ সালে সরকার আইন করে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে বিভক্ত করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন দু ভাগে ভাগ করে। আর এর মধ্যে দিয়ে মেয়র খোকার শাসনের অবসান হয়। ২০১৫ সালের মার্চ মাসে দুই সিটিতে নির্বাচন হয়। ঢাকা দক্ষিণে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হন অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ হানিফের পুত্র সাঈদ খোকন আর উত্তরে নির্বাচিত হন ব্যবসায়ী নেতা আনিসুল হক।
উত্তর সিটি নিয়ে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ না ওঠলেও দায়িত্ব গ্রহণের কিছুদিন যেতে না যেতেই দক্ষিণ সিটি নিয়ে ফের দুর্নীতির অভিযোগ ওঠতে থাকে। অনেকটা মেয়র খোকার উত্তরসূরি হিসেবে নাম ওঠতে থাকে সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে। বরং আরেকদফা এগিয়ে চলতে থাকেন সাঈদ খোকন। কমিশন ছাড়া তিনি কোনো কাজেই হাত দেননি। খোকার পরিচিতি ছিলো মি.টুয়েন্টি পার্সেন্ট হিসেবে আর সাঈদ খোকনের পরিচিতি পায় মি. টুয়েন্টি ফাইভ পার্সেন্ট হিসেবে। সিটি করপোরেশনে দুর্নীতিকে তিনি অনেকটা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে দেন। এমন অভিযোগ ওঠায় তাকে দ্বিতীয় বার আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন দেয়া হয় নি। মনোনয়ন পান ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস এবং তিনি নির্বাচিত হন।
মেয়র হিসেবে ব্যারিস্টার তাপস দায়িত্ব গ্রহণের পর বের হতে থাকে সাঈদ খোকনের দুর্নীতির চিত্র। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের যে সেক্টরেই হাত দেয়া হয় সেখানেই মেলে সাঈদ খোকনের দুর্নীতির প্রমাণ। অনুসন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন। আর মিলে চাঞ্চল্যকর তথ্যপ্রমাণ। শুধু সিটি করপোরশেনের ফুলবাড়িয়ার মার্কেট নির্মাণ এবং আরো দুটি মার্কেটে দোকান বরাদ্দ দিয়েই কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন সাঈদ খোকন।

অনুসন্ধানে নেমে সাঈদ খোকনের দুই সহকারি একান্ত সচিবকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। তারা হলেন এপিএস আবুল কালাম আজাদ এবং আব্দুল কুদ্দুস। চলতি বছর ১০ ফেব্রুয়ারি আবুল কালাম আজাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তার বিরুদ্ধে সাঈদ খোকনের দুর্নীতিতে সহযোগিতা করা ছাড়াও অবৈধ জুয়া ও ক্যাসিনো কারবারের সঙ্গে সম্পৃক্তার প্রমাণ মিলে।
চলতি বছর ২১ জানুয়ারি জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এপিএস শেখ আব্দুল কুদ্দুসকে। তিনিও সাঈদ খোকনের দুর্নীতির বিষয়ে তথ্য প্রমাণ দেন। সাঈদ খোকন ঘনিষ্ট লোকজনের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলেন। তার কমিশনের টাকা এসব অ্যাকাউন্টে লেনদেন হতো। দুদকের অনুসন্ধানে বের হয়েছে, বিভিন্ন সময় বাল্যবন্ধু ভুট্টো, পরিমল ও অতুলের মাধ্যমে এক্সিম ব্যাংক পল্টন শাখা থেকে ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা নগদ উত্তোলন করে নেন সাঈদ খোকন। পুরান ঢাকার আলু বাজারের শিট ব্যবসায়ী মো. নাসিমের নামে বেসরকারি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টেও সাঈদ খোকন রাখেন কোটি কোটি টাকা। এটি সাবেক মেয়রেরই বেনামী একাউন্ট এবং এই একাউন্টে কোটি কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন তথ্য পায় দুদক। এভাবে ২০১৫ সালের ২১ জুন থেকে ২০১৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে চার দফা নগদ ও ৪২টি চেকের মাধ্যমে ৩৪ কোটি ৮৯ লাখ ৭০ হাজার ৫৭৫ টাকা তুলে নেয়া হয়। এ অর্থ সাঈদ খোকনেরই আরেকটি বেনামি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের প্রমাণ পায় দুদক।
দুদক সূত্র জানায়, সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন তিনটি মার্কেটে দোকান নির্মাণের ঠিকাদারি প্রদান, দোকান বরাদ্দ, বিদেশ ভ্রমণসহ নানা সুযোগ প্রদানের মাধ্যমে তিনি দুর্নীতি করেন। চলতি বছর মার্চ মাসে একজন ব্যবসায়ীর দায়েরকৃত মামলার পরিপ্রেক্ষিতে উদঘাটিত হয় সাঈদ খোকনের ‘ঘুষ কেলেঙ্কারি’। ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন দিলু আদালতে এ মামলা করেন। মামলায় সাঈদ খোকন কমপক্ষে ১০০ কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছেন-মর্মে উল্লেখ করা হয়।

এই শত কোটি টাকার মধ্যে অন্তত ৩৫ কোটি টাকা লেনদেন হয় ব্যাংকিং চ্যানেলে। কোটি কোটি টাকার চেক, পে-অর্ডারে রূপান্তরের মাধ্যমে বেনামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাব নম্বরে এ অর্থ স্থানান্তর হয়। সাঈদ খোকন তার অনুগত বিশ্বস্ত প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসুফ আলী সরদারের মাধ্যমে এই লেনদেন করতেন। বিনিময়ে ইউসুফ আলী সরদারও কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। ব্যারিস্টার তাপস মেয়রের দায়িত্ব নিয়েই বরখাস্ত করেন রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসুফ আলীকে।
চাকরিচ্যুত এই রাজস্ব কর্মকর্তার ‘সেকেন্ড হোম’ রয়েছে কানাডায়। তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। তার স্ত্রী রাশিদা আক্তার (পাসপোর্ট নং-বিকে-০৪৬৪৩৩৩), মেয়ে ইশরাত ইয়াসমিন ইরা (পাসপোর্ট নম্বর বিকে-০৪৬৪৯৬০) বর্তমানে কানাডা প্রবাসী। তাদের বিষয়েও পৃথক অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুদক।
ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন দেলু নিজেও সাঈদ খোকনকে ঘুষ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মামলার এজাহারে। ঘুষ দিয়েও কাজ না পাওয়ায় তিনি মামলা করতে বাধ্য হন। দুদকের অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে , অর্থের বিনিময়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তিনটি মার্কেটে অবৈধভাবে ৯১১টি দোকান তৈরি করেন দেলোয়ার হোসেন দিলু ও তার সহযোগিরা।
এসব দোকান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাঝে বরাদ্দ দিয়ে অন্তত ১৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। এর মধ্যে ১০০ কোটি টাকাই মেয়র সাঈদ খোকনকে দিতে হয়। মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস মার্কেটে অবৈধভাবে নির্মিত দোকান ভাঙার নির্দেশ দিলে থলের বিড়াল বের হয়ে আসে।
ঠিকাদার দিলু দাবি করেন, তিনি ১০০ কোটি টাকার বেশি সাঈদ খোকনকে দিয়েছেন। খোকন ২০ লাখ টাকা থেকে শুরু করে এককালীন ২ কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিয়েছেন। দিলুর মালিকানাধীন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের (হৃদি কনস্ট্রাকশন) বিল ছাড় করাতেও সাঈদ খোকনকে কোটি কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছেন বলে দাবি করেন। ১৩ কোটি টাকার একটি বিল ছাড় করাতে ৪ কোটি টাকা ঘুষ দেয়ারও দৃষ্টান্ত রয়েছে তার। দেলোয়ার হোসেন দিলুর মামলাটি তদন্ত করছে পিবিআই। কিন্তু এখনো তদন্ত শেষ হয় নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
দুদক সূত্র জানায়, ফুলবাড়িয়ায় অবস্থিত নগর প্লাজা, সিটি সুপার মার্কেট ও জাকির সুপার মার্কেটের মালিক ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। পর্যায়ক্রমে নির্মাণ শেষে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছে দোকানগুলোর পজেশন বিক্রি করা হয়। এর বাইরেও বিভিন্ন প্রকল্পের নামে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার তথ্য রয়েছে দুদকের হাতে।
অনুসন্ধানের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে, দুদকের উপ-পরিচালক জালালউদ্দিন আহমেদ বিষয়টি ‘অনুসন্ধানাধীন’ বলে কোনো তথ্য প্রদানে অস্বীকৃতি জানান।
তবে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে ইতিমধ্যে সাঈদ খোকন ও তার পরিবারের সদস্যদের ৮টি ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করা হয়েছে।
২৭ জুন ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েস একাউন্ট জব্দের আদেশ দেন। দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা উপ-পরিচালক জালালউদ্দিন আহমেদ এ আবেদন জানান। দুদক সূত্র জানায়, সাঈদ খোকন, তার স্ত্রী ফারহানা আলম, বোন শাহানা হানিফ ও মা ফাতেমা হানিফের ৮টি ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেন আদালত।
জব্দকৃত অ্যাকাউন্টের মধ্যে সাঈদ খোকনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ৩টি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এছাড়া তার মা ফাতেমা হানিফের একটি, বোন শাহানা হানিফের দু’টি ও স্ত্রী ফারহানা আলমের দু’টি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা তার আবেদনে বলেন, ওই ব্যাংক হিসাবগুলোতে অস্বাভাবিক পরিমাণ অর্থ লেনদেন করা হয়েছে।

বলা যায়, মেয়র খোকা তার দুর্নীতির যোগ্য উত্তরসুরি হিসেবে রেখে যান সাঈদ খোকনকে। খোকার পরিচিত ছিলো মি.টুয়েন্টি পার্সেন্ট হিসেবে আর খোকনের পরিচিতি আরেক ধাপ এগিয়ে পরিচিতি পেয়েছেন মি. টুয়ৈন্টি ফাইভ পার্সেন্ট।
যদিও সাঈদ খোকন তার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগকে মেয়র তাপসের ষড়যন্ত্র বলে দাবি করছেন। তিনিও তাপসের বিরুদ্ধে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের শত শত কোটি টাকা তার( মেয়র তাপস) নিজ মালিকানাধীন মধুমতি ব্যাংকে স্থানান্তরিত করেছেন এবং শত শত কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লাভ হিসেবে গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ করেন। গত ৯ জানুয়ারী ফুলবাড়িয়া মার্কেটের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়িদের মানববন্ধনে সাঈদ খোকন বলেছেন, ব্যারিস্টার তাপস মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে গলাবাজি করে চলেছেন। আমি তাকে বলবো রাঘব বোয়ালের মুখে চুনাপুটির গল্প মানায় না। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়তে হলে সর্বপ্রথম নিজেকে দুর্নীতিমুক্ত করুণ, তারপর চুনোপুটির দিকে দৃষ্টি দিন।
নগরবাসী চায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র সাদেক হোসেন খোকা ও মেয়র সাঈদ খোকনের আমলে যে দুর্নীতি লুটপাট হয়েছে এর সুষ্টু তদন্ত হউক,বিচার হউক।

মন্তব্য করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

সবচেয়ে আলোচিত