ঢাকা   মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১   সকাল ১০:০৩ 

সর্বশেষ সংবাদ

লক্ষীপুরে পিআইও’র আলমারি থেকে ঘুষের কয়েক লাখ টাকা খোয়া; অভিযোগ, ঠিকাদারদের কমিশনের টাকা ছিলো এগুলো

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপেজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) অফিসের আলমারি থেকে কয়েক লাখ টাকা খোয়া যাওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই টাকার উৎস নিয়ে যেমন প্রশ্ন ওঠেছে তেমনি কতোটাকা খোয়া গেছে তাও পরিস্কার নয়। তবে টাকা খোয়া যাওয়ার ঘটনায় পিআইও তার অফিস সহকারির বাড়ি গিয়ে তল্লাশী ও ভাঙচুর করেছেন। পুলিশ দিয়ে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করিয়েছেন। তবে তিনি থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নি। ফলে এই টাকা নিয়ে নানা সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। বলা হচ্ছে পিআইও তার আলমিরায় ঘুষের টাকা রেখেছিলেন আর এই টাকাই কেউ হাতিয়ে নিয়েছে। অনেকটা চোরের ওপর বাটপারির মতো।
পিআইও অফিস সূত্রে জানা গেছে রামগতির উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রিয়াদ হোসেন অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে কমলনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি অনিয়মসহ রয়েছে নানা অভিযোগ। গত সোমবার রাতে টাকা চুরির অভিযোগে তার কার্যালয়ের চার কর্মচারীকে থানায় নিয়ে যান। পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দিলেও মঙ্গলবার সকালে আবার চারজনকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোসলেহ উদ্দিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কত টাকা খোয়া গেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি পিআইও। অর্থের উৎস সম্পর্কেও সুনির্দিষ্ট তথ্য দেননি তিনি। ওসি জানান, পিআইও রিয়াদ তার অফিস সহকারী আবদুল বাকেরসহ চারজনকে নিয়ে সোমবার রাত ৯টার দিকে থানায় হাজির হন। তিনি অভিযোগ করেন, কার্যালয়ে তার কক্ষের আলমারি থেকে কয়েক লাখ টাকা গায়েব হয়েছে। এই চার কর্মচারী টাকা চুরি করেছেন।
তিনি বলেন, ‘রিয়াদ বলেছেন, ঠিক কত টাকা ছিল সে হিসাব তার নেই। কখনো বলেন, ৭ লাখ টাকা, কখনো ১০ লাখ টাকা। রিয়াদ ও চার কর্মচারীকে আলাদাভাবে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর কেউই পরিষ্কার কোনো তথ্য দেননি। কারও সঙ্গে কারও কথাও মেলেনি। এ কারণে চারজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে মঙ্গলবার সকালে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবার তাদের থানায় আনা হয়।’
ওসি মোসলেহ উদ্দিন আরও বলেন, ‘টাকা চুরির অভিযোগ করলেও রিয়াদ হোসেন কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ দেননি। এত নগদ টাকা কোথা থেকে এলো জানতে চাইলে রিয়াদ দাবি করেন, এগুলো বিভিন্ন লাইসেন্স ও কালেকশনের টাকা। তবে সে বিষয়েও সুনির্দিষ্ট তথ্য তিনি দেননি।’
এসব বিষয়ে জানতে পিআইও রিয়াদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। এদিকে, পিআইওর অফিস সহকারী আবদুল বাকেরের স্ত্রী শারমিন আক্তার বলেন, সোমবার বিকেলে রিয়াদ হোসেন নিজেই তাদের বাড়ি গিয়ে টাকা খোঁজার নামে তল্লাশি চালান। এ সময় ঘরের আসবাবপত্রও ভাঙচুর করা হয়। এরপর জানতে পারেন যে, তার স্বামীকে থানায় নেওয়া হয়েছে।
তবে ঠিকাদাররা জানান, টেন্ডারের পে-অর্ডার হয় চেকের মাধ্যমে। ঠিকাদারের সঙ্গে সব লেনদেন হয় চেকে। তার সঙ্গে নগদ লেনদেন হয় না। তবে বিলের চেক সই করতে তিনি যে কমিশন নেন এই নগদ টাকাই খোয়া গেছে। এগুলো ঘুষের টাকা। ঠিকাদারদের অভিযোগ, পিআইও রিয়াদ ঘুষ ছাড়া কোনো ফাইল বা বিলের চেকে সই করেন না। কয়েক দিন আগে কয়েকটি কাজের বিলের চেকে সই করার জন্য কয়েকজনের কাছ থেকে তিনি ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা করে ঘুষ নিয়েছেন। তার মূল কর্মস্থল রামগতি উপজেলায়। এখন কমলনগরের অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন। দুই উপজেলার ঠিকাদার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তার কাছে জিম্মি।
ঠিকাদারদের একজন জানান, বিভিন্ন প্রকল্পের জুন ক্লোজিং-এ প্রকল্প সভাপতি, স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যেদের কাছ থেকে টাকা আদায় করেছেন পিআইও। এসব টাকা তার হয়ে কালেকশন করতেন তার অফিস সহকারী আবদুল বাকের। পরে বাকেরের সঙ্গে ঘুষের টাকা নিয়েই পিআইওর মনোমালিন্য হয়। এর জেরে টাকা গায়েবের ঘটনা ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘পিআইওর অফিসের আলমারি থেকে টাকা খোয়া যাওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। চারজনকে থানায় ডাকা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিষয়টি কী, সেটা জানার চেষ্টা করছি। আসলে কিসের টাকা বা কত টাকা সেটাও জানি না।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে আলোচিত