ঢাকা   শনিবার, ২ মার্চ ২০২৪, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০   দুপুর ২:৫৪ 

সর্বশেষ সংবাদ

গ্রাহকের গ্যাস বিলের ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া সেই ওমর ফারুক গ্রেফতার

রাজধানীর মিরপুর এলাকায় দুই বছরে দেড়হাজার গ্রাহকের গ্যাস ও পানির বিল সংগ্রহ করে তা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন ওমর ফারুক। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পালিয়ে যান ফারুক। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। তাকে ধরা পড়তেই হলো র‍্যাবের গোয়েন্দা জালে। রোববার তাকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার বিকেলে রাজধানীর কাওরান বাজারের র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো.মোজাম্মেল হক জানান, মিরপুরে তিতাসের দেড় হাজার গ্রাহকের গ্যাস বিলের ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের মূলহোতা মো. ওমর ফারুককে (৩২) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, র‌্যাব-৪ এর একটি দল র‌্যাব-৭ এর সহযোগিতায় গতকাল রোববার মো. ওমর ফারুককে (৩২) চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। ফারুক ২০১৮ সালে রাজধানীর মিরপুর-২’র ৬০ ফিট এলাকায় ‘ইন্টার্ণ ব্যাংকিং এন্ড কমার্স’ নামে একটি এজেন্ট ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে এবং এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এলাকার প্রায় দেড় হাজার গ্রাহকের গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের বিলের টাকা সংগ্রহ করতেন।
কিন্তু গত দুই বছর ধরে ফারুক গ্রাহকের গ্যাস বিলের ১০ কোটি টাকা জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। গত জানুয়ারিতে মিরপুর এলাকায় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ মাইকিং করে বকেয়া বিলের জন্য প্রায় দেড় হাজার গ্রাহকের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রচারণা চালায়। মাইকিংয়ের পরপরই ভুক্তভোগী গ্রাহকরা ফারুক ও তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রাস্তায় আন্দোলনে নামেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়। পরে গত ২৩ জানুয়ারি ‘ইন্টার্ণ ব্যাংকিং এন্ড কমার্স’সহ তিনটি অফিস তালাবদ্ধ করে ফারুক ও তার সহযোগীরা আত্মগোপনে চলে যান।
র‍্যাবের এই কর্মকর্তা আরও জানান, এ বিষয়ে কয়েকজন ভুক্তভোগী মিরপুর মডেল থানায় গত ২ ফেব্রয়ারি ফারুকের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। এর পরপরই র‌্যাব-৪’র গোয়েন্দা দল ওই মামলার ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং জালিয়াতির মূলহোতা ফারুকের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করেন।
র‌্যাব জানায়, ওমর ফারুকে বাড়ি নোয়াখালী জেলার কবিরহাট থানার সাগরপুর গ্রামে। তিনি স্থানীয় একটি স্কুল থেকে ২০০৯ সালে এসএসসি পাশ করে ২০১৪ সালে ঢাকায় মগবাজার এলাকায় একটি বিকাশের দোকানে কাজ শুরু করেন। ২০১৫ সালে মিরপুরের আহম্মেদনগর এলাকায় নিজে বিকাশের ব্যবসা শুরু করেন। প্রতারণার উদ্দেশে প্রাথমিক পর্যায়ে তিনি বিভিন্ন ব্যাংকে পাঁচটির বেশি অ্যাকাউন্ট খোলেন। পরে তিনি ২০১৮ সালে মিরপুর-২’র ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ৬০ ফিট এলাকায় ‘ইন্টার্ণ ব্যাংকিং এন্ড কমার্স’ নামে একটি এজেন্ট ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু করেন। ওমর ফারুক তার এজেন্ট ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এলাকার গ্রাহকের গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করতেন।
র‌্যাব আরও জানায়, ফারুক ২০১৮ সাল থেকে তিতাস গ্যাস, ওয়াসা ও ডেসকোর গ্রাহকদের কাছ থেকে বিল সংগ্রহ করে জমা না দিয়ে বিলের টাকা আত্মসাৎ করে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। তিনি বিল সংগ্রহের সময় গ্রাহককে ব্যাংকের সিলসহ সংশ্লিষ্ট বিলের রশিদ সরবরাহ করায় ধীরে ধীরে গ্রাহকদের বিশ্বস্ততা অর্জন করেন। এভাবে দেড় হাজার গ্রাহকের তিতাস গ্যাস, ওয়াসা ও ডেসকোর বিল সংগ্রহ করে জমা না দিয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন।
এ ছাড়াও, তিনি ‘অটুট বন্ধন’ নামে একটি এমএলএম সমিতি প্রতিষ্ঠা করে সাধারণ জনগণকে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার ফারুক এসব অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছে। ফারুকের অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে আলোচিত