ঢাকা   রবিবার, ২ অক্টোবর ২০২২, ১৭ আশ্বিন ১৪২৯   সন্ধ্যা ৭:০২ 

সর্বশেষ সংবাদ

জীবাণুঅস্ত্র তৈরীর পরীক্ষানিরীক্ষা; চীনা সেনাবাহিনীর গবেষণাগার থেকেই ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস, দাবি চীনা ভাইরাস বিশেষজ্ঞের

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে জীবাণুঅস্ত্র ব্যবহারের পরীক্ষানিরীক্ষা চালাচ্ছিলো চীন। চীনের সেনাবাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-র গবেষণাগার এ নিয়ে চলছিলো গবেষণা। আর সেই গবেষণাগার থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনা ভাইরাস। যা আজ বিপর্যয় নেমে এসেছে পৃথিবীজুড়ে। চীনা সেনাবাহিনী ও বিজ্ঞানীরা ধারনাই করতে পারেন নি করোনাভাইরাসের এই ভয়ংকর রূপ হবে। দেশটির হুবেই প্রদেশের উহান শহরের গবেষণাগার থেকে যখন ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়রা আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ ও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে, হাসপাতালে বাড়তে থাকে রোগির সংখ্যা তখন টনক নড়ে চীন সরকারের। শুরুতে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। স্থানীয় এক চিকিৎসক এই ভাইরাসের কথা প্রকাশ করায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে তার আর খোঁজ পাওয়া যায় নি। সংবাদ মাধ্যমেও কোনো খবর প্রকাশ করতে দেয়নি সরকার। দুজন সাংবাদিক খবরটি সংগ্রহ করতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হন এবং তাদেরও পরে খোঁজ মেলেনি। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ছড়িয়ে পড়া এই করোনা ভাইরাসে এ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ৩৫ লাখ লোকের মৃত্যু হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পৃথিবী।
বিশ্বজুড়ে এই মহাবিপর্যয়ের জন্য শুরু থেকে চীনকে দায়ি করে আসছে বিভিন্ন দেশ। দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ। কিন্তু চীন বরাবরই তা অস্বীকার করে আসছে। তবে শেষ পর্যন্ত চীনের একজন ভাইরাস বিশেষজ্ঞ স্বীকার করেছেন চীন সেনাবাহিনীর গবেষণাগার থেকেই এই করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে। আর জীবানুঅস্ত্র বানানোর জন্য এই গবেষণাগারে গবেষণা চলছিলো। জীবাণুযুদ্ধের মহড়া হিসাবে তা ইচ্ছাকৃত ভাবেই ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল পরিবেশে।
chaina corona


অষ্ট্রেলিয়ার একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনা বিজ্ঞানীরা করোনা ভাইরাসকে জীবাণুঅস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন ২০১৫ সালে। ‘দ্য আন-ন্যাচারাল অরিজিন অব সার্স অ্যান্ড নিউ স্পেসিস অব ম্যান-মেড ভাইরাসেস অ্যাজ জেনেটিক বায়োউইপনস’ শীর্ষক এক ডকুমেন্টে বলা হয়েছে, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে এই জীবাণুঅস্ত্র দিয়ে যুদ্ধ করা যাবে। ওই ডকুমেন্টটি ২০১৫ সালে লিখেছেন চীনের বিজ্ঞানীরা এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। এতে বলা হয়েছে সার্স করোনা ভাইরাস হলো নতুন এক জেনেটিক অস্ত্র। যাকে কৃত্রিমভাবে মানবরোগের ভাইরাস হিসেবে আবির্ভাব করানো যেতে পারে। তারপর তাকে জীবাণুঅস্ত্র হিসেবে অবমুক্ত করা যেতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার উইকলি অস্ট্রেলিয়ান-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে এসব কথা লিখেছে এনডিটিভি।
এতে দেখা যায়, কোভিড-১৯ মহামারি শুরুর ৫ বছর আগে সার্স করোনা ভাইরাসকে জীবাণুঅস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন চীনের সামরিক বাহিনীর বিজ্ঞানীরা। এ বিষয়ে উইকলি অস্ট্রেলিয়ানের রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে news.com.au এই সাইটে। এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউট (এএসপিআই)-এর নির্বাহী পরিচালক পিটার জেনিংস বলেছেন, আমরা যা পেয়েছি এই ডকুমেন্ট থেকে তা বন্দুকের গুলি ছুড়ে দেয়ার সময় যে ধোয়া বের হয় তারই মতো। আমি মনে করি এটা খুব উল্লেখযোগ্য বিষয়। কারণ এ ডকুমেন্ট খুব পরিষ্কারভাবে দেখিয়ে দেয় যে, করোনাভাইরাসের বিভিন্ন স্ট্রেইনের সামরিক ব্যবহারের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছিলেন চীনা বিজ্ঞানীরা।

তারা চিন্তাভাবনা করছিলেন এই করোনা ভাইরাসের স্ট্রেইনকে কিভাবে ছড়িয়ে দেয়া যায়। আমরা এখন যে অবস্থায় আছি, এটা হতে পারে সামরিক ব্যবহারের প্যাথোজেন (করোনা ভাইরাস) দুর্ঘটনাক্রমে অবমুক্ত হয়ে থাকতে পারে। তিনি আরো বলেন, এই ডকুমেন্টই বলে দেয় কেন কোভিড-১৯ নিয়ে বাইরের দেশগুলোর তদন্তের ক্ষেত্রে চীন এত অনীহা প্রকাশ করে। যদি চীনের সামুদ্রিক খাবারের বাজার থেকে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তো তাহলে নিজেদের স্বার্থেই তদন্তে সহযোগিতা করার কথা ছিল চীনের।কিন্তু আমরা চীনকে দেখতে পাচ্ছি বিপরীত অবস্থানে।
সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ রবার্ট পটার চীন সরকারের ফাঁস হওয়া ডকুমেন্ট বিশ্লেষণ করেছেন। তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন দ্য অস্ট্রেলিয়ান পত্রিকার সাংবাদিক। জবাবে রবার্ট পটার বলেছেন, এই ডকুমেন্টটি কোনোভাবেই ভুয়া হতে পারে না। আমরা উচ্চ পর্যায়ে আস্থায় পৌঁছেছি যে, এটা প্রকৃত ডকুমেন্ট। এটা ভুয়া নয়। কিন্তু এ বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে অন্যদের। পটার আরো বলেন, চীন সরকার যে এই গবেষণাকে আরো সামনে এগিয়ে নেয়নি বা নিতে চায়নি তা এই ডকুমেন্ট বলে না। রবার্ট পিটার বলেন, এই ডকুমেন্ট চমৎকার মজার একটি বিষয়। এটা বলে দেয় চীনের বৈজ্ঞানিক গবেষকরা কি চিন্তাভাবনা করছেন।
উল্লেখ্য, সার্স-কোভ-২ নামের করোনা ভাইরাস সারাবিশ্বে কোভিড-১৯ মহামারি সৃষ্টি করেছে। এর উৎপত্তি ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে। করোনা ভাইরাস ভাইরাসের বিশাল একটি পরিবার। এর মধ্যে আছে নানা রকম স্ট্রেইন। এর মধ্যে কিছু স্ট্রেইন মানবদেহে শ্বাসপ্রশ্বাসে মারাত্মক সঙ্কট সৃষ্টি করে। এর মধ্যে সাধারণ ঠাণ্ডা থেকে শুরু করে সেভার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম (সার্স) পর্যন্ত সংক্রমণ রয়েছ
**সেনাবাহিনীর গবেষণাগার থেকেই ছড়ানো হয় করোনাভাইরাস, দাবি চীনা ভাইরাস বিশেষজ্ঞের:

মহামারি শুরুর ঠিক পরেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (‘হু’)-র বিবৃতি চীনকে বাঁচিয়েছিল। হু বলেছিল, চীনের কোনও গবেষণাগার থেকে ছড়িয়ে পড়েনি করোনাভাইরাস। কিন্তু এ বার চীনের এক ভাইরাস বিশেষজ্ঞই অভিযোগ করলেন, করোনাভাইরাসকে ইচ্ছাকৃত ভাবেই পরিবেশে ছড়িয়েছিল বেইজিং। একটি সর্বভারতীয় ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চীনের ভাইরাস বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক লে-মেং-ইয়ানের অভিযোগ, বাদুড়, প্যাঙ্গোলিন বা পরিবেশ থেকে অন্য কোনও ভাবে ছড়িয়ে পড়েনি সার্স-কোভ ২ ভাইরাস। তা ছড়িয়ে পড়েছিল চীনের সেনাবাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মি(পিএলএ)-র গবেষণাগার থেকেই। আর জীবাণুযুদ্ধের মহড়া হিসাবে তা ইচ্ছাকৃত ভাবেই ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল পরিবেশে।
এ ব্যাপারে প্রমাণিত তথ্যাদি আমেরিকার বিদেশ দফতরের হাতে রয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল মহামারি শুরুর পরপরই। তাতে বলা হয়েছিল, চীনা সেনাবাহিনীর বিজ্ঞানীরা জীবাণুযুদ্ধের মহড়া হিসাবে করোনাভাইরাসকে ব্যবহার করার পরীক্ষা নিরীক্ষা গবেষণাগারে শুরু করেন ২০১৫ থেকে। বেইজিং ওই অভিযোগ অস্বীকার করতে দেরি করেনি। এমনকি চীন ঘুরে এসে হু-র বিশেষজ্ঞ দলও ঘোষণা করেছিল সার্স-কোভ ২ ভাইরাস উহানের বাজার থেকেই বাতাসে ছড়িয়েছিল। তা কোনও গবেষণাগার থেকে বেরিয়ে আসেনি। আর তা ইচ্ছাকৃত ভাবেও ছড়ানো হয়নি। হু-র সেই বিবৃতিতে চীনের আপাত স্বস্তি মিলেছিল।
কিন্তু সেই সন্দেহটাকেই ফের উস্কে দিলেন চীনের ভাইরাস বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক লে-মেং-ইয়ান। তিনি বলেছেন, ‘‘আমেরিকার বিদেশ দফতরের হাতে আসা ওই তথ্যাদি একেবারেই সঠিক। গোটা বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য অপ্রচলিত জীবাণু অস্ত্র ব্যবহারের কর্মসূচি বেইজিংয়ের অনেক দিনের পুরনো। কী ভাবে সেই জীবাণু অস্ত্র ধাপে ধাপে বানানো যায় আর তা ব্যবহার করা যায় তা নিয়ে চীন দীর্ঘ দিন ধরে কী কী পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়েছে, গত মার্চে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে আমিও সবিস্তারে তার উল্লেখ করেছি। করোনাভাইরাস গবেষণাগার থেকেই ছড়িয়েছে এটা রটে গেলে, মানুষকে বিভ্রান্ত করতে কী কী পদক্ষেপ জরুরি বেইজিং তা-ও অনেক আগেই ভেবে রেখেছিল।’’
কিসের ভিত্তিতে তাঁর এই অভিযোগ, জানতে চাওয়া হলে ইয়ান বলেন, ‘‘আমি গত জানুয়ারি থেকেই তথ্যপ্রমাণসহ এই সব কথা ইউটিউবে বলে চলেছি। এও বলেছি, এই ভাইরাস আবিষ্কারের জন্য প্রচুর পরিমাণে অর্থবরাদ্দ করেছিল বেইজিং। আর ইচ্ছাকৃত ভাবেই তা বাতাসে ছড়ানো হয়েছিল, যাতে মানুষের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেওয়া যায় এবং যাতে শত্রু দেশগুলির চিকিৎসা ব্যবস্থাকেও নড়বড়ে করে দেওয়া যায়।’’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

five − one =

সবচেয়ে আলোচিত