ঢাকা   শনিবার, ১৮ মে ২০২৪, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১   সন্ধ্যা ৭:২১ 

সর্বশেষ সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর অনুকম্পায় বিদেশ যেতে পারবেন খালেদা জিয়া, সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়াতে পরিবারের আবেদন, দলের নেতারা জানেন না

 

সরকারের অনুমতি পেলেই বিদেশ চলে যাবেন
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
এ জন্য তাঁর সাজা স্থগিতের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তা বাড়ানোর জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। আবেদনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে এখন আইন মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে। সেখান থেকে যাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে। আর প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পেলেই চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে পারবেন খালেদা জিয়া। অর্থাৎ খালেদা জিয়া বিদেশ যেতে পারবেন কী না তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের ওপর। প্রধানমন্ত্রীর অনুকম্পাতেই তিনি যেতে পারবেন বিদেশে।
পরিবারের সদস্যরা তাকে লন্ডনে নিয়ে চিকিৎসা করাতে চান। সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন তাঁর ছেলে তারেক রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা।
গত মঙ্গলবার পরিবারের পক্ষে খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই আবেদন করেন। গত তিনদিন বিষয়টা গোপনই রাখা হয়েছে। এমনকি বিএনপি নেতারাও বিষয়টি জানেন না বা মিডিয়াকে জানান নি। শনিবারই তা জানাজানি হয়। খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়,
গত ২৫ আগস্ট মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত আবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া হয়েছে। আবেদনে সই করেন খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দর।
আবেদনে সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো এবং বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিএনপির অনেক শীর্ষ নেতাই বিষয়টি জানেন না বলে জানিয়েছেন। দলটির অঘোষিত মুখপাত্র রুহুল কবির রিজভী, সাংবাদিকদের বলেন, আবেদন করা হবে এটা জানতাম কিন্তু করা হয়েছে কী না জানি না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, আবেদন সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি খালেদা জিয়া যেন বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নিতে পারেন সে ব্যাপারে সরকারের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
জিয়া এতিমখানার নামে টাকা আত্মসাতের দুর্নীতির মামলায় সাজার রায়ের পর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাবন্দী হন। চলতি বছরের ২৫ মার্চ তিনি সরকারের নির্বাহী আদেশে ছয় মাসের জন্য মুক্তি পান। এই সময় পর্যন্ত তাঁর সাজা স্থগিত রাখা হয়। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার মুক্তির ছয় মাস শেষ হবে।
বিএনপির চেয়ারপারসনের পরিবারের সূত্রগুলো জানিয়েছে, খালেদা জিয়া খুবই অসুস্থ। তারা তাঁর মুক্তি চেয়েছিলেন চিকিৎসা করাবেন বলে। কিন্তু যখন তিনি মুক্তি পান তখন করোনা মহামারির কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়াটা সম্ভব হয়নি। তা ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন সর্বশেষ চিকিৎসা নিয়েছেন যুক্তরাজ্যের লন্ডনে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রেও চিকিৎসা নিয়েছেন। কারাবন্দী থাকায় ফলোআপ চিকিৎসা হচ্ছে না। এ কারণে এবার আরও লম্বা সময়ের জন্য খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছেন। তাঁর চান যেন খালেদা জিয়ার স্থায়ী জামিন দেওয়া হয়। সে ব্যাপারে সরকারপ্রধান যেন ব্যবস্থা নেন।

ছয় মাসের জন্য খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হলেও সরকার সেখানে শর্ত জুড়ে দেয়। সেখানে বলা হয় খালেদা জিয়া বিদেশ যেতে পারবেন না। এবার এই শর্তটি বাতিল চান পরিবার।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার পরিবারের আবেদনটি তারা পেয়েছেন। যেহেতু ছয় মাস মেয়াদ শেষ হচ্ছে তাই তা বাড়ানোর জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। আবেদনটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এরপর আরও কিছু ধাপ রয়েছে। সেগুলো শেষ করে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। তারপর সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে।
২০১৭ সালের ১৫ জুলাই খালেদা জিয়া সর্বশেষ লন্ডনে গিয়ে চোখের ও পায়ের চিকিৎসা নিয়েছিলেন। তিন মাস সেখানে অবস্থান করে ১৮ অক্টোবর দেশে ফেরেন। তাঁর এবারের চিকিৎসার জন্যও লন্ডনের কথাই বেশি উচ্চারিত হচ্ছে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দীন খোকন শনিবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের বাসার সামনে সাংবাদিকদের বলেন, পরিবার বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাজা স্থগিতের মেয়াদ আরও বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছেন। তারা আশা করছেন, সরকার আবেদন মঞ্জুর করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে আলোচিত