ঢাকা   রবিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২২, ৯ মাঘ ১৪২৮   রাত ১২:১৮ 

সর্বশেষ সংবাদ

কক্সবাজারে পর্যটক নারী ধর্ষণ; সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আইনশৃংখলা বাহিনীর ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য কাম্য নয়, বললো হাই কোর্ট

কোনো মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার ভিন্ন ভিন্ন বিবৃতি বা বক্তব্য দেয়ার প্রবণতাকে ‘দুঃখজনক’ বলেছে উচ্চ আদালত।
কক্সবাজারে পর্যটক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগের বিচারিক অনুসন্ধানের নির্দেশনা চেয়ে করা এক রিট আবেদনের শুনানির এক পর্যায়ে মঙ্গলবার এ মন্তব্য করেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাই কোর্ট বেঞ্চ থেকে।
শুনানিতে রিট আবেদনকারী আইনজীবী আবদুল্লাহ আল হারুন ভূইয়া রাসেল বলেন, কক্সবাজারের ঘটনায় ট্যুরিস্ট পুলিশ ও র‍্যাবের বক্তব্য অসামঞ্জস্যপূর্ণ। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে তাদের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য এসেছে। এ নিয়ে এক ধরনের অসঙ্গতি তৈরি হয়েছে।
“তাছাড়া এ ধরনের স্ববিরোধী বিবৃতি-বক্তব্যের কারণে তদন্তের গ্রহণযোগ্যতাও থাকবে না। সাধারণ মানুষ তাদের ওপর আস্থা রাখতে পারবে না।”
তিনি আরও বলেন, তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগেই তারা যে বক্তব্য বা বিবৃতি দিচ্ছে, তাতে বোঝাই যাচ্ছে তারা কী চাচ্ছে।
“মনে হচ্ছে, তারা পণ করে নেমেছে ভুক্তভোগী নারীর চরিত্র তাদের মতো করে প্রতিষ্ঠিত করবে। ফলে তদন্ত প্রতিবেদন বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবে। এ জন্য গত ২২ ডিসেম্বরের ঘটনার বিচারিক অনুসন্ধানের নির্দেশনা চাচ্ছি।”
তখন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক ইনায়েতুর রহিম বলেন, “একটা অনুসন্ধান চলছে। এর মধ্যে কি আমরা আরেকটা অনুসন্ধানের আদেশ দেব?
“তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার ভিন্ন ভিন্ন বিবৃতি বা বক্তব্য বক্তব্য কাম্য নয়, এটি দুঃখজনক। ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য আসলে পরবর্তীতে সত্য ঘটনা উদঘাটন হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা রকম ধারণা তৈরি হয়।”
বিচারক আরও বলেন, “মিডিয়া তথ্য খুঁজবেই তাই মিডিয়াকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। গ্রেপ্তার-মামলা কিংবা তদন্তের স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি এজেন্সি আরেকটি এজেন্সিকে সহযোগিতা করতে পারে। আর তদন্ত চলাকালে তদন্ত কর্মকর্তাদের কথা কম বলাই ভালো।”
এরপর আদালত শুনানি মুলতবি (স্ট্যান্ডওভার) রেখে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমারাকে নির্দেশ দেন, কোনো একটি ঘটনা বা মামলার তদন্ত চলাকালে কে কতটুকু কথা বলবে বা বলতে পারবে, এ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথা বলতে।
একই সঙ্গে আদালত রিট আবেদনকারী আইনজীবীকে বলেন, কোনো একটি ঘটনার ‘বিচারিক অনুসন্ধান’ চাওয়ার বিধান কোন আইনে আছে, পরবর্তী শুনানির দিন সে বিষয়ে জেনে আসতে।
আইনজীবী আবদুল্লাহ আল হারুন ভূইয়া রাসেলের সঙ্গে আদালতে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী রাশিদা চৌধুরী নিলু। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।
শুনানির বিষয়ে আইনজীবী রাসেল বলেন, “আদালত শুনানি মুলতবি রেখেছেন এবং তদন্ত কমিশন অ্যাক্টসহ কোন আইনে বিচারিক অনুসন্ধানের নির্দেশনা দেয়া যায়, তা জেনে আসতে বলেছেন। আর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে কথা বলতে বলেছেন।
“শুনানির সময় আদালত বলেছেন, তদন্ত চলাকালে বিভিন্ন সংস্থার ভিন্ন ভিন্ন বিবৃতি কাম্য নয়। তদন্ত চলাকালে বক্তব্য-বিবৃতি নিয়ে হাই কোর্টের একটি রায় আছে, সেটার বাস্তবায়ন ও নীতিমালা নিয়ে কথা বলেছেন।”
কক্সবাজারে স্বামী ও সন্তানকে আটকে রেখে এক পর্যটককে দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগের বিচারিক অনুসন্ধান চেয়ে সোমবার হাই কোর্টে রিট আবেদনটি করেন আইনজীবী রাসেল।
জেলা ও দায়রা জজ অথবা মুখ্য বিচারিক হাকিমের নেতৃত্বে এ ধর্ষণকাণ্ডের বিচারিক অনুসন্ধান করে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশনা চাওয়ার পাশাপাশি রুল চাওয়া হয় রিট আবেদনে।
এ ধর্ষণকাণ্ডে জড়িত দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, জানতে রুল চাওয়া
২৫ বছর বয়সী ওই নারীর অভিযোগ, সংঘবদ্ধ একটি চক্র গত ২২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবনী পয়েন্ট থেকে তাকে তুলে নেয়। তার স্বামী-সন্তানকে জিম্মি করে এবং হত্যার হুমকি দিয়ে তাকে ‘কয়েক দফা ধর্ষণ করে’ তিনজন।
পরে খবর পেয়ে জিয়া গেস্ট ইন নামের এক হোটেল থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে র‌্যাব। পরদিন ওই নারীর স্বামী চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা করেন।
মামলার প্রধান আসামি আশিকুল ইসলাম আশিক, ২ নম্বর আসামি ইসরাফিল হুদা জয়সহ এজাহারভুক্ত চার আসামি এবং সন্দেহভাজন হিসেবে আরও তিনজনকে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করেছে আইনশঙ্খলা বাহিনী।
আশিককে ২৬ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার করে র‌্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, চাঁদা ‘না দেওয়ার’ কারণে কক্সবাজারে ওই নারী পর্যটককে ধর্ষণ করার কথা এই যুবক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, আশিকের সঙ্গে ওই নারীর আগে থেকেই পরিচয় ছিল, যদিও ওই নারী তা অস্বীকার করেছেন।
অন্যদিকে জরুরি সেবার নম্বর ৯৯৯ এ ফোন করে পুলিশের সাড়া না পাওয়ার যে অভিযোগ ওই নারী করেছেন, তা অস্বীকার করে কক্সবাজার পর্যটন পুলিশের এসপি জিল্লুর রহমান বলেছেন, ওই অভিযোগ ‘সঠিক নয়’।
র‌্যাবের সহায়তায় উদ্ধার পাওয়ার পর কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম হামীমুন তাজনীনের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন সেই নারী। কিন্তু পরে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে ফিরে এসে তার স্বামী দাবি করেন, একটি উড়োচিঠি পেয়ে ভয়ে তিনি তার স্ত্রীকে আদালতে ‘মিথ্যা সাক্ষ্য’ দিতে বলেছিলেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

ten + 2 =

সবচেয়ে আলোচিত