ঢাকা   মঙ্গলবার, ৩ আগস্ট ২০২১, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮   রাত ৯:০৬ 

সর্বশেষ সংবাদ

খালেদা জিয়ার জন্মদিন বিতর্ক গড়ালো আদালতে; সব নথি চেয়েছে হাই কোর্ট

খালেদা জিয়ার জন্মদিন বিতর্ক গড়ালো আদালতে; সব নথি চেয়েছে হাই কোর্ট

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মদিন নিয়ে যে বিতর্ক আর সন্দেহ রয়েছে তা নিস্পত্তির জন্য শেষ পর্যন্ত আদালতেই যেতে হলো। খালেদা জিয়ার প্রকৃত জন্মতারিখ জানতে এক রিট আবেদন গ্রহণ করে এ সংক্রান্ত সকল নথি আগামী ৬০ দিনের মধ্যে দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।
বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল বেঞ্চ রোববার রুলসহ এ আদেশ দেয়।
দেশের সকল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, পররাষ্ট্র সচিব, নির্বাচন কমিশনের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় শোক দিবসের ভাব-গাম্ভীর্যকে ‘বিকৃত ও ক্ষুন্ন করায়’ এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মদিন হিসেবে বিভিন্ন তারিখের উল্লেখ থাকায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বিবাদীদের নিস্ক্রিয়তা কেন ‘আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও বেআইনি’ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

স্বরাষ্ট্র সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার ও গুলশান থানার ওসিকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিটকারী পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী নাহিদ সুলতানা যুথী। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। এ ছাড়া বিএনপির যুগ্মমহাসচিব আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন শুনানিতে অংশ নেন।
আদেশের সময় বিএনপি নেতা মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে রিট আবেদনটি করা হয়েছে, এটি গ্রহণযোগ্য নয়।”
বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক এম ইনায়েতুর রহিম তখন বলেন, “এটা রুল শুনানির সময় আমরা দেখব।”
গত আড়াই দশক ধরে খালেদা জিয়া ১৫ অগাস্ট তার জন্মদিন পালন করে আসছেন, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা রয়েছে।
বিভিন্ন নথিতে তার আরো জন্মদিনের হদিস পাওয়ায় কোনটি খালেদা জিয়ার প্রকৃত জন্মদিন তা নিয়ে বিতর্ক বহুদিনের। তার জন্মসাল নিয়েও দুই রকম তথ্য মিলেছে এর আগে।
হাই কোর্টে শুনানি শেষে ডিএজি বিপুল বাগমার সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়ার জন্মদিন হিসেবে পাঁচটি তারিখ ব্যবহার করার কথা রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে, তার এসএসসির নম্বরপত্রে জন্ম তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪৬। বিবাহ নিবন্ধনে জন্ম তারিখ লেখা রয়েছে ৯ অগাস্ট ১৯৪৪। ২০০১ সালে নেওয়া তার মেশিন রিডেবল পাসপোর্টে জন্ম তারিখ ৫ অগাস্ট ১৯৪৬। চলতি বছরের মে মাসে তার করোনাভাইরাস পরীক্ষার প্রতিবেদনে জন্ম তারিখ লেখা হয়েছে ৮ মে ১৯৪৬। আর তিনি জন্মদিন পালন করেন ১৫ অগাস্ট, জাতীয় শোক দিবসে।
“ফলে আদালত খালেদা জিয়ার জন্মদিন সংক্রান্ত সব রেকর্ড চেয়েছে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে তা দাখিল করতে বলা হয়েছে বিবাদীদের,”
খালেদা জিয়ার বিভিন্ন জন্মতারিখ ব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে গত ৩১ মে হাই কোর্টে রিট আবেদনটি করেন আইনজীবী মামুনুর রশিদ।
উল্লেখ্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার দিন ১৫ আগষ্ট খালেদা জিয়া জন্মদিন পালন করছেন গত ২৫ বছর ধরে। এর আগে তিনি এ দিনে জন্মদিন পালন করতেন না। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়েই জাতির শোকের দিন বিএনপি ও সমমনারা জন্মদিন পালন করে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

সবচেয়ে আলোচিত