ঢাকা   শুক্রবার, ৭ অক্টোবর ২০২২, ২২ আশ্বিন ১৪২৯   রাত ৩:২৭ 

সর্বশেষ সংবাদ

এমসি কলেজে ধর্ষণ: অধ্যক্ষ ও হোস্টেল সুপারের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হাই কোর্টের নির্দেশ

স্বামীর সঙ্গে সিলেটের এমসি কলেজে বেড়াতে যাওয়া এক নববধূকে ছাত্রাবাসে তুলে নিয়ে দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় কলেজ অধ্যক্ষ সালেহ আহমদ ও ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক জীবন কৃষ্ণ আচার্যের বিরুদ্ধে সাত কার্যদিবসের মধ্যে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।
আইন সচিব, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।
বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সাময়িক বরখাস্ত বা আইন অনুসারে যেটি প্রযোজ্য, সেই ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে তাদের।
এ বিষয়ে এর আগে জারি করা রুল আংশিকভাবে যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কামরুল হোসেন মোল্লার ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এই রায় দেয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী। আর রুলের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ মিসবাহ উদ্দিন।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী বলেন, “এ ঘটনায় কলেজ অধ্যক্ষ ও হোস্টেল সুপারের দায় পেয়েছে আদালতের গঠন করে দেওয়া তদন্ত কমিটি। যে কারণে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা বা তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
অনুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদন থেকে উদ্ধৃত করে রায়ে আদালত বলেছে, “সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের পেছনে হোস্টেল সুপার ও প্রহরীদের দায়িত্বে অবহেলা ছিল। প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে ওই কলেজের অধ্যক্ষও কোনোভাবে ওই ঘটনার দায় এড়াতে পারেন না।”
গত বছর ২৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে এমসি কলেজে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে যাওয়া এক তরুণীকে ক্যাম্পাস থেকে তুলে ছাত্রাবাসে নিয়ে ধর্ষণ করেন কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী।
পরদিন সকালে ওই নারীর স্বামী শাহ পরান থানায় ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমানকে প্রধান আসামি করে নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ধর্ষণের ঘটনায় মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ধর্ষণের ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
আর ধর্ষণের ঘটনায় প্রকাশিত সংবাদ-প্রতিবেদন নজরে এনে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মিসবাহ উদ্দিন হাই কোর্টের কাছে প্রয়োজনীয় আদেশের আরজি জানান।
পরে গতবছর ২৯ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালত এ ঘটনা অনুসন্ধানে কমিটি করে দেয়। সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক, মুখ্য মহানগর হাকিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (সাধারণ) কমিটিতে রাখা হয়।
কলেজের ছাত্রাবাসে ওই তরুণীকে ধর্ষণ থেকে রক্ষায় অবহেলা ও কলেজ ক্যাম্পাসে অছাত্রদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কলেজ অধ্যক্ষ ও হোস্টেল সুপারের নীরবতায় তাদের বিরুদ্ধে যথযথ আইগত ব্যবস্থা নিতে বিবাদীদের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে সেদিন রুল জারি করে হাই কোর্ট।
শিক্ষা সচিব, আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, এমসি কলেজের অধ্যক্ষ, সিলেটের জেলা প্রশাসক, সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার, এমসি কলেজের হোস্টেল সুপারকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

5 × one =

সবচেয়ে আলোচিত