ঢাকা   শুক্রবার, ৭ অক্টোবর ২০২২, ২২ আশ্বিন ১৪২৯   রাত ৩:১৪ 

সর্বশেষ সংবাদ

দুদকের তলব: ডিএজি ফেরদৌসী রূপা করোনায় আক্রান্ত, সময় চাইতে বলেছে হাই কোর্ট

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদে হাজির হওয়ার জন্য ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জান্নাতুল ফেরদৌসী রূপাকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে সময় চাইতে বলেছে হাই কোর্ট।

দুদকের পাঠানো নোটিস চ্যালেঞ্জ করে রূপার রিটের শুনানি ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুলতবি রেখে আদালত বলেছে, তিনি দুদকের কাছে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চাইতে পারবেন।

বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাই কোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেয়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

আদালতে রিটবারী রূপার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, জেডআই খান পান্না ও সালাহউদ্দিন দোলন। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।

আইনজীবী জেড আই খান বলেন, “আদালত রিট মামলাটির শুনানি ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুলতবি রেখেছেন। আর যেহেতু উনি (জান্নাতুল ফেরদৌসী রূপা) এবং উনার পুরো পরিবার কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত, তাই স্বাভাবিকভাবেই তিনি হাজির হতে পারবেন না। তাই উনাকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়ে দুদকে আবেদন করতে বলেছেন।”

দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, ৩ ডিসেম্বর আবার শুনানির জন্য হাই কোর্টে আসবে রিট আবেদনটি।

“কাল যদি জান্নাতুল ফেরদৌসী রূপা দুদকে যান, তাহলে তিনি আবেদন করে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় নেবেন। যদি না যান, তাহলে উনার পক্ষ থেকে কেউ আবেদন করবেন, উনি যেহেতু অসুস্থ।” 

‘অবৈধ সম্পদ’ অর্জনের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত বুধবার দুর্নীতি দমন কমিশন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জান্নাতুল ফেরদৌসী রূপাকে ওই নোটিস পাঠায়। বুধবার সকাল ১০টায় তাকে সেগুনবাগিচায় কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয় সেখানে।

নোটিসে বলা হয়, রাষ্ট্রের এই আইন কর্মকর্তা ‘বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতির মাধ্যমে ঘুষ গ্রহন করে জি কে শামীমসহ বিভিন্ন আসামির সাথে আঁতাত করে জামিন করিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়াসহ জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন’ বলে অভিযোগ রয়েছে।

এরপর ওই নোটিসের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদন করেন রূপা। ওই নোটিসের কার্যক্রম স্থগিত চাওয়ার পাশাপাশি রুল জারির আর্জি জানানো হয় সেখানে।

‘হয়রানি করার জন্য অসৎ উদ্দেশ্যে বিধি বিহির্ভূতভাবে জারি করা ওই নোটিস কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না’- তা জানতে রুল চেয়েছেন রূপা। 

তার আবেদনে স্বরাষ্ট্র সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশেনর চেয়ারম্যান, দুদকের মহাপরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান এবং তদন্ত-২) এবং উপরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান এবং তদন্ত-২) কে বিবাদী করা হয়।

রিট আবেদনটি সোমবার বিচারপতি মো.নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাই কোর্ট বেঞ্চে আবেদনটি শুনানির জন্য উঠলেও তা কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

এরপর মঙ্গলবার সেটি বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাই কোর্ট বেঞ্চে উপস্থাপন করা হলে আদালত ডিএজি রূপাকে দুদকে সময় চেয়ে আবেদন করতে বললো।

রূপার আইনজীবী পান্না বলেন, “কোনো ডিএজি, এএজি কাউকে জামিন দিতে পারেন না। দুদকের নোটিসে যেহেতু জামিনের কথা বলা হয়েছে, তাই ধরে নিতে হবে এখানে আদালতও জড়িত। এটা তো আদালত অবমাননার শামিল।”

তিনি বলেন, রিট আবেদনকারী ইতোমধ্যে প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করে এ বিষয়ে তদন্ত চেয়েছেন। অ্যাটর্নি জেনারেলকেও এর অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

5 + 11 =

সবচেয়ে আলোচিত