ঢাকা   রবিবার, ২ অক্টোবর ২০২২, ১৭ আশ্বিন ১৪২৯   সন্ধ্যা ৭:১৮ 

সর্বশেষ সংবাদ

প্রতারক সাহেদের অস্ত্র মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, তার মত ‘ধুরন্ধরদের’ জন্য বার্তা: বলা হলো রায়ে

রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে অস্ত্র আইনের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ঢাকার মহানগর ১ নম্বর বিশেষ ট্রাইবুনালের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ সোমবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
সাহেদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া কয়েক ডজন মামলার মধ্যে উত্তরা পশ্চিম থানার এই অস্ত্র আইনের মামলারই প্রথম রায় ঘোষণা করা হলো।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, “আমাদের এই সমাজে সাহেদের মতো ভদ্রবেশে অনেক লোক রয়েছে, যাদের জন্য এই মামলার রায় একটি বার্তা হিসেবে কাজ করবে।”

অস্ত্র আইনের ১৯ (এ) ধারায় সাহেদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড , যা এ আইনের সর্বোচ্চ সাজা। পাশাপাশি আরেকটি ধারায় সাহেদকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে রায়ে। তবে দুই ধারার সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে বলে তার ক্ষেত্রে যাবজ্জীবনই প্রযোজ্য হবে।

গত ১৫ জুলাই ভোরে সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্ত থেকে সাহেদকে গ্রেপ্তার করার পর তাকে রিমান্ডে নেয় গোয়েন্দা পুলিশ। রিমান্ডের মধ্যেই ১৮ জুলাই রাতে তাকে নিয়ে উত্তরায় অভিযান চালিয়ে তার একটি গাড়ি থেকে গুলিসহ একটি পিস্তল এবং কিছু মাদক জব্দ করা হয়।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, “সাহেদ ২০ লাখ টাকা লোন নিয়ে গাড়িটি ক্রয় করেন। কিন্তু তিনি আদালতের কাছে স্বীকার করেননি। সাহেদ আদালতের কাছে মিথ্যা তথ্য দেন। তিনি অত্যন্ত চালাক ও ধুরন্ধর ব্যক্তি। গাড়িতে অস্ত্র রাখার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় আদালতের কাছে তিনি কোনো অনুকম্পা পেতে পারেন না।”

এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী আবদুল্লাহ আবু রায়ের পর বলেন, “যে গাড়ি থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়েছে, তার মালিকানা যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে রায়ে । সাহেদ যে অপরাধী তা মামলার রায়ে প্রমাণিত হয়েছে। এ রায় সমাজে দৃষ্টান্ত হিসেবে থাকবে।”

এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. সাইরুল ইসলাম গত ৩০ জুলাই ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়ার পর ২৭ অগাস্ট অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু করে আদালত। অভিযোগ গঠন থেকে মাত্র আট কার্যদিবসে এ মামলা রায়ের পর্যায়ে আসে।

বাংলাদেশে এত কম সময়ে এর আগে আর কোনো ফৌজদারি মামলার রায় হয়নি বলে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আবদুল্লাহ আবু জানান।
সে প্রসঙ্গ টেনে সাহেদের আইনজীবী মো. মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, “মাত্র ৮ কার্যদিবসে মামলা শেষ হয়ে গেল। তাড়াহুড়ো বেশি হয়ে গেল। ন্যায়বিচার পেলাম না । রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে যাব।”
এমএলএম ব্যবসা থেকে শুরু করে নানারকম জালিয়াতি-প্রতারণার মামলার খবর ঢেকে রেখে নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে ভিভিআইপিদের মাঝে হাজির হতেন রিজেন্ট চেয়ারম্যান সাহেদ।

সরকারের মন্ত্রী, এমপি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা এবং সরকারি আমলাসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে তোলা অসংখ্য সেলফি ফেইসবুকে দিয়ে নিজেকেও তিনি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ দেখাতে চাইতেন।
করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে চিকিৎসার নামে প্রতারণা এবং জালিয়াতির মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের কথা বেরিয়ে আসতে থাকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

fifteen + eleven =

সবচেয়ে আলোচিত