ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর ২০২২, ২১ আশ্বিন ১৪২৯   বিকাল ৪:০৩ 

Home Blog

ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতের উপায় খুঁজে বের করার ওপর প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ

0

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতের সম্ভাব্য সর্বোত্তম উপায় বের করতে এবং দেশের মানুষকে এ ব্যাপারে সতর্ক করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কে তিনি আরো বলেন, ‘এই নতুন প্রযুক্তির আবির্ভাবের ফলে বিশ্ব আরো জটিল হয়ে উঠছে। বিশ্ব আজ একটি কঠিন সময় পার করছে এবং বাংলাদেশও এর বিরূপ প্রভাবের সম্মুখীন হচ্ছে। তাই, দেশকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দেশের অগ্রগতি ও উন্নতি অব্যাহত রাখতে এ ব্যাপারে সুপরিকল্পিত মতামত জরুরি।’
প্রধানমন্ত্রী সকালে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে ন্যাশনাল ডিজিটাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সভায় তিনি একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ একটি জিডিটাল দেশে পরিণত হয়েছে এবং চলমান কোভিড-১৯ অতিমারিকালে এই ডিজিটাল প্রযুক্তির সম্পূর্ণ সুবিধা গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি, এর নেতিবাচক দিকটির বিরুদ্ধেও সতর্ক করা হয়েছে, যা মূলত নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য হুমকি।
ডিজিটাল ডিভাইসগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা, চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে পড়ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির এই উন্নয়নের ফলে, সাইবার অপরাধ এখন একটি বড় ধরনের সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশ্ব এখন একটি বৈশ্বিক গ্রামে পরিণত হচ্ছে এবং এখন কেউ আর বিচ্ছিন থাকতে পারে না। করোনা ভাইরাস মহামারি ও রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আমরা এটা ভালভাবেই বুঝতে পেরেছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কি করা উচিৎ এবং এব্যাপারে অন্যদের অভিজ্ঞতার আলোকে সেই উপায় বের করতে হবে।
শেখ হাসিনা সাইবার অপরাধ ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য যে কতটা ক্ষতিকর- সে ব্যাপারে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির ভাল ও খারাপ দুটি দিক থাকলেও, কোন জাতি তাদের ছাড়া অগ্রসর হতে পারে না।
তিনি বলেন, ‘তাই বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তির ওপর গবেষণা আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। গবেষণা ছাড়া কোন জাতিই উন্নতি লাভ করতে পারে না।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য কৃষি, শিল্প ও কারিগরি শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশ স্বাধীনের পরপরই এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
জাতীয় ডিজিটাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সদস্যগণ এ সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন।

স্ত্রীকে তালাক দিলেন ক্রিকেটার আল আমিন

0

ক্রিকেটার আল-আমিন হোসেন স্ত্রী ইসরাত জাহানকে তালাক দিয়েছেন ।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বৈবাহিক সম্পর্কের তিক্ততা ও অনৈতিক কার্যকলাপের কারণে গত ২৫ আগস্ট তিনি তার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার আল আমিনের আদালতে দেয়া লিখিত জবানবন্দিতে তালাকের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। তবে তার স্ত্রী তালাকের বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।
ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. তোফাজ্জল হোসেনের আদালতে তিনি উপস্থিত হন। এরপর মামলার বিষয়ে ৭ পাতার একটি লিখিত জবাব দাখিল করেন ক্রিকেটার আল আমিন। এ বিষয়ে পাঁচ দিন পর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে বাদির আইনজীবী শামসুজ্জামান জানান।
তিনি বলেন , আসামি আল আমিন আদালতে উপস্থিত হয়ে হাজিরা দেন। এরপর আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে লিখিত জবাব দাখিল করেন। এতে উল্লেখ করা হয়, তিনি গত ২৫ আগস্ট তার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। তবে তার স্ত্রী এখনো তালাক সংক্রন্ত কোন কাগজ পাননি।
আল আমিনের স্ত্রী ইসরাত জাহান বলেন,‘আমি তালাকের বিষয়ে কিছুই জানিনা। কোন কাগজও পাইনি। আমি আদালতের কাছে ন্যায় বিচার চাই।’
লিখিত জবাবে ক্রিকেটার আল আমিন উল্লেখ করেন,গত ২৫ আগস্ট তিনি স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। তিনি তাকে দেনমোহর ও ভরণ পোষণ দিতে প্রস্তুত আছেন। তার দু’সন্তান তার নিজের বাসায় থাকেন ও তাদের পড়ালেখার খরচও তিনি বহন করবেন।
এরআগে ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শফি উদ্দিনের আদালতে ক্রিকেটার আল আমিন আত্মসমর্পণ করে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় ৬ অক্টোবর পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
তারও আগে ৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শফি উদ্দিনের আদালতে মামলাটি করেন আল-আমিনের স্ত্রী ইসরাত জাহান। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আল-আমিনকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন।
মামলায় বলা হয়, ২০১২ সালের ২৬ ডিসেম্বর ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক ইসরাত জাহান ও আল-আমিন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের দু’টি পুত্রসন্তান রয়েছে। বড় ছেলে মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে ইংরেজি ভার্সনে কেজিতে পড়াশোনা করছে। বেশ কিছুদিন ধরে আল-আমিন তার স্ত্রী-সন্তানদের ভরণ-পোষণ দেন না এবং খোঁজ না রেখে এড়িয়ে চলেন। যোগাযোগও বন্ধ করে দিয়েছেন। আল-আমিন স্ত্রী-সন্তানদের বাসা থেকে বের করে অন্যত্র বিয়ে করবেন বলে জানান। দু’বছর ধরে আসামি বাদির খোঁজখবর নেন না এবং বাসায় নিয়মিত থাকেন না। যার কারণে ইসরাত তার দু’ সন্তানসহ বসতবাড়িতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করার অধিকারসহ মাসিক ভরণ-পোষণ দাবি করে মামলাটি করেন। জীবনধারণের জন্য ৪০ হাজার, দু’সন্তানের ভরণ-পোষণ ও ইংলিশ মিডিয়ামে লেখাপড়াবাবদ মাসে ৬০ হাজার টাকা আল-আমিনের কাছে পাওয়ার হকদার বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
এরআগে গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ১০ টার দিকে আল-আমিন বাসায় এসে স্ত্রীর কাছে যৌতুকের জন্য ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। ইসরাত জাহান টাকা দিতে অস্বীকার করলে আল-আমিন তাকে এলোপাতাড়ি কিলঘুসিসহ লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন। সংসার করবেন না বলে জানান। ইসরাত জাহান ৯৯৯-এ টেলিফোন করে সাহায্য চাইলে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন ইসরাত জাহান। এ ঘটনায় ১ সেপ্টেম্বর মিরপুর মডেল থানায় মামলাও হয়।

শাহজালাল বিমানবন্দরে ডাস্টবিন থেকে সাড়ে ৩ কেজি সোনা জব্দ

0

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৩ কেজি ৪৮০ গ্রাম ওজনের ৩০ পিস সোনার বার পরিত্যক্ত অবস্থায় জব্দ করেছে ঢাকা কাস্টম হাউসের প্রিভেন্টিভ টিম। জব্দকৃত সোনার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ।
ঢাকা কাস্টম হাউসের প্রিভেন্টিভ টিমের সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা নাফিজ আমিন রিজভী এ খবর নিশ্চিত করে বলেন, বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহজালাল বিমানবন্দরে পরিত্যক্ত অবস্থায় এসব সোনার বার জব্দ করা হয়।
তিনি জানান, সকালে শাহজালাল বিমানবন্দরের রক্ষিত ডাষ্টবিন থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি স্কচটেপ মোড়ানো দন্ড আকারের বস্তু পাওয়া যায়। পরবর্তীকালে কাস্টমস হলে বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে বস্তুটি খুলে ৩০ পিস সোনার বার পাওয়া যায়। তবে কাউকে আটক করা যায়নি।

জমিজমায় ই-নামজারি শুরু, সবকিছু হবে অনলাইনে, জেনে নিন কেমনে কী

0

ভূমি অফিসগুলোতে গ্রাহকদের নানা ধরণের সেবা নিতে যেন ভূমি অফিস বা সংশ্লিষ্ট দফতরে ছুটোছুটি করতে না হয় সে লক্ষ্যে এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে বেশ কয়েকটি সেবার অনলাইন আবেদনের সুযোগ চালু করা হয়েছে। এ অনুযায়ী পয়লা অক্টোবর থেকেই ভূমির নামজারির সব কাজ শুরু হয়েছে অনলাইনে, যেটাকে বলা হচ্ছে ই-নামজারি।
ভূমি সচিব মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, মানুষের ভোগান্তি লাঘব এবং জটিলতা এড়ানোর জন্য ই-নামজারি আবেদন ও নোটিশ ফির মত নামজারি অনুমোদনের পর রেকর্ড সংশোধন ও খতিয়ান সরবরাহ ফিও কেবল অনলাইনে নেয়ার পরিকল্পনা হয়েছে।
ফলে ৩০শে সেপ্টেম্বরের পর থেকে নামজারি অনুমোদনের পর রেকর্ড সংশোধন ও খতিয়ান সরবরাহ ফি আর ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে বা ক্যাশে দেয়া যাবে না।
ফি-ও অনলাইনেই প্রদান করতে হবে।
সচিব বলেন, নামজারির জন্য কারও যেন অতিরিক্ত অর্থ খরচ বা ত্রুটি সংশোধনের জন্য বাড়তি খরচ না হয় তা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
নামজারি:
কোন জমি কিনলে সেটি নিজের নামে নামজারি করতে হয়। এর মানে হল সরকারি ভূমি অফিসের রেজিস্ট্রারে আপনার নামে জমিটি লিপিবদ্ধ থাকে।
ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশ সরকার প্রতি ১০ বা ১৫ বছর অন্তর ভূমি জরিপের মাধ্যমে ভূমির মালিকানা স্বত্বলিপি অর্থাৎ মৌজা ম্যাপ ও খতিয়ান প্রস্তুত করে থাকে।
জরিপ-পরবর্তী সময়ে যদি কোন জমির মালিকানা পরিবর্তন হয়। যেমন মালিকের মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকার জমি পেলে কিংবা প্রকৃত মালিক বা উত্তরাধিকারীরা জমি কেনা-বেচা করলে বা হস্তান্তর করলে সেই জমির নতুন মালিকানা বা ভূমিস্বত্বের তথ্য হালনাগাদের প্রয়োজন হয়।
এজন্য সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে আগে হাতে-হাতে নামজারি আবেদন করতে হতো।
ভূমির মালিকানা পরিবর্তনের সাথে সাথে সহজে ও দ্রুত নামজারি করার লক্ষ্যে ভূমি মন্ত্রণালয় অনলাইনে নামজারি ফি পরিশোধের ব্যবস্থাসহ ই-নামজারি সিস্টেম চালু করেছে।
এজন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে অনলাইন নামজারি সিস্টেমে “অনলাইনে আবেদন করুন” এবং “আবেদন ট্র্যাকিং” নামে দুটি অংশ রয়েছে। বাম পাশে “অনলাইনে আবেদন করুন” অংশের নীচে “নামজারি আবেদনের জন্য ক্লিক করুন” লেখায় ক্লিক করলে আবেদন ফর্ম আসবে। নির্ভুলভাবে সেই ফরম পূরণ এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংযুক্ত করে আবেদন জানাতে হবে।
আবেদন দাখিলের সময় আবেদন ফি ২০ টাকা ও নোটিশ জারি ফি ৫০ টাকা- মোট ৭০ টাকা শুধুমাত্র অনলাইনে পরিশোধ করতে হবে। এজন্য নগদ, রকেট, বিকাশ, উপায়, ভিসা কার্ড, মাস্টার্ড কার্ড সহ অন্যান্য ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
ভূমির নামজারি প্রক্রিয়া সাধারণত ২৮ দিনে নিষ্পত্তি হয়ে থাকে।
নামজারির জন্য আবেদন করা জমিটি আপনি ক্রয়, ওয়ারিশ, হেবা, ডিক্রি, নিলাম, বন্দোবস্ত, অন্যান্য কী সূত্রে পেয়েছেন তা চিহ্নিত করতে হবে।
এখনে উল্লেখ্য যে ভূমি মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে অনলাইনে ক্রয়-সূত্রে নামজারি আবেদন ফরমটি আরও তথ্য সমৃদ্ধ হয়েছে, তাই ক্রয়সূত্রে সিলেক্ট করলে আপনার সামনে নতুন একটি ফর্ম আসবে, এতে আপনাকে কিছু বর্ধিত তথ্য দিতে হবে।
অন্যান্য সূত্রের ক্ষেত্রে আগের ফরমটিই চলমান আছে। তবে পৃথক পৃথক ফরম ক্রমান্বয়ে উন্নয়ন করার কথা রয়েছে।
খতিয়ান বা পর্চা:
সাধারণত একটি ভূমির নামজারি প্রক্রিয়া ২৮ দিনে নিষ্পত্তি হয়ে থাকে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) এই আবেদনের চূড়ান্ত অনুমোদন দিলে অফিস সহকারী অনলাইনে এর খতিয়ান প্রস্তুত করে।
খতিয়ান প্রস্তুত হলে ডিসিআর (ডুপ্লিকেট কার্বন রিসিট) ফি দেয়ার জন্য সিস্টেমে দেয়া মোবাইলে এসএমএস পাঠানো হবে।
এ পর্যায়ে land.gov.bd ঠিকানায় গিয়ে ই-নামজারি পেজে আবেদন ট্র্যাকিং অপশনে বিভাগ সিলেক্ট করে আবেদন নম্বর জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দিয়ে ট্র্যাকিং করে আবেদন মঞ্জুর হয়েছে কিনা যাচাই করতে পারবেন। পাতায় দেয়া মোবাইল ওয়ালেট কিংবা ইন্টারনেট ব্যাংকিং থেকে সুবিধাজনক একটি অপশনে ক্লিক করে অগ্রসর বাটন চেপে নির্দেশনা অনুসরণ করে আপনি নগদ, রকেট, বিকাশ, উপায়,ভিসা কার্ড, মাস্টার্ড কার্ড সহ অন্যান্য ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা ব্যবহার করে অনলাইনে ডিসিআর ফি ১,১০০ টাকা পরিশোধ করার সুযোগ পাবেন।
অনলাইনে টাকা পরিশোধ করলে অনলাইনেই চালান প্রক্রিয়া শুরু হবে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালান পরিশোধিত হলে https://mutation.land.gov.bd/ এই লিঙ্ক এ গিয়ে আবেদন ট্র্যাকিং করে খতিয়ান প্রিন্ট এবং ডিসিআর প্রিন্ট কপিটি পাওয়া যাবে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে কোডযুক্ত (কুইক রেসপন্স কোড) অনলাইন ডিসিআর ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে দেয়া ডিসিআর-এর সমতুল্য এবং আইনগতভাবে বৈধ ও সর্বক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য ও ব্যবহারোপযোগ্য হবে।
তাই ভূমি অফিসে গিয়ে কোন ম্যানুয়াল ডিসিআর সংগ্রহ করতে হবে না।
এভাবে জমির খতিয়ান বা পর্চা ডাক বিভাগের মাধ্যমে হাতে চলে আসবে। এজন্য ডাক বিভাগের ফি-ও কাটা হবে অনলাইনে।
বাংলাদেশে কয়েকদফা ভূমির জরিপ হয়েছে – একটি ব্রিটিশ আমলে, একটি পাকিস্তান আমলে, এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে যা এখনও চলমান। এছাড়া ঢাকায় মহানগর জরিপও হয়েছে। সবশেষ রেকর্ডে যে তথ্য থাকে সেটাই চূড়ান্ত বলে ধরা হয়।
জরিপের পরে প্রিন্টেড আকারে যে খতিয়ান আসে সেটা জেলা প্রশাসনের অফিসের রেকর্ড রুমে থাকে।
কোন জমি কেনার আগে ওটার কোন খতিয়ান আছে কিনা, কার নামে আছে সেটা রেকর্ড রুম থেকে জানা যায়। সেই রেকর্ড রুমের তথ্য পেতে land.gov.bd ঠিকানায় অনলাইনে আবেদন করা যাবে।
খতিয়ান বা পর্চা বিভিন্ন কাজে লাগে- জমি কেনাবেচা, ব্যাংক লোনের জন্য সার্টিফাইড কপি লাগে। ওয়েবসাইটে অনলাইনে আবেদন করলে ও অনলাইনে পেমেন্ট দিলে গ্রাহকের ঠিকানায় পর্চার কপি পাঠিয়ে দেয়া হবে।
শুনানি:
ক্রয়, উত্তরাধিকার বা হেবাসূত্রে যিনি জমির নতুন মালিক হয়েছেন এবং নামজারির আবেদন করেছেন তাকে এবং এই জমির পূর্ববর্তী মালিককে শুনানির জন্য ডাকা হয়।
তবে পূর্ববর্তী মালিক মৃত হলে বর্তমান মালিককে শুনানিতে থাকতে হয়। এই শুনানি জমির মালিকার সত্যতা যাচাইয়ে কিংবা কারও কোন অভিযোগ থাকলে সেগুলো ফয়সালা হয়ে থাকে।
এখন থেকে সেই শুনানি অনলাইনে দেয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এজন্য একজন ব্যক্তি ঢাকায় বসে পটুয়াখালীর জমি কিংবা বিদেশে বসেই বাংলাদেশের জমির শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন।
অনলাইনে শুনানি করতে চাইলে নামজারির সময় পেমেন্ট করার পর্যায়ে এই প্রশ্নে হ্যাঁ নির্বাচন করতে পারেন অথবা http://oh.lams.gov.bd লিঙ্কে গিয়ে অনুরোধ জানাতে হবে।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন এবং অনলাইন শুনানির জন্য একটি লিঙ্ক আবেদনে উল্লেখ করা মোবাইল নাম্বারে পাঠাবেন।
শুনানির আগে খসড়া খতিয়ানটি নাগরিক কর্নার থেকে দেখা যাবে। খসড়া খতিয়ানে কোন তথ্য ভুল থাকলে শুনানির সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে জানানো যাবে।

ভূমি ব্যাংক:
বাংলাদেশে জমি বা জায়গা সংক্রান্ত সমস্যার জটিলতার অবসান ঘটাতে সব মালিকের তথ্য নিয়ে গত বছর ভূমি তথ্য ব্যাংক চালু করা হয়েছে।
এই তথ্য ব্যাংকে সকল ভূমি মালিকের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। ফলে যে কোন নাগরিক যেকোনো স্থান থেকে তার জমি সংক্রান্ত তথ্য যাচাই বা সংগ্রহ করতে পারবেন।
বাংলাদেশের ভূমি অফিসে হয়রানি, অনিয়ম, দীর্ঘসূত্রিতা, দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে গ্রাহকদের। ডিজিটাল পদ্ধতির ফলে সেটি বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
ভূমি তথ্য ভাণ্ডারে সরকারি জমির তথ্য, খাস জমি, অর্পিত সম্পত্তি, পরিত্যক্ত সম্পত্তি, হাটবাজার, বালুমহাল, জলমহাল, চা বাগান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দকৃত জমি – সকল তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।
সেই সঙ্গে থাকবে বর্তমান অবস্থাসহ এসএ খতিয়ান ও আরএস খতিয়ানের বর্ণনা।
ফলে বহু পুরাতন দলিলদস্তাবেজ হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলেও সরকারি রেকর্ড নিয়ে কোন জটিলতা থাকবে না। আবার অনলাইনে সংরক্ষিত থাকায় এসব রেকর্ড কেউ জালিয়াতি করতে পারবে না বলে কর্মকর্তারা উল্লেখ করছেন।
ভূমি উন্নয়ন কর:
যাদের জমি রয়েছে, বাড়ি বা ফ্ল্যাটের মালিকানার অংশ হিসাবে জমি পেয়েছেন, তাদের সবার জন্য ভূমি কর দেয়া বাধ্যতামূলক। প্রতিবছর সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে ভূমি কর জমা দিয়ে রসিদ নিতে হয়। তবে এখন থেকে এই কর অনলাইনেই দেয়া যাবে বলে কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন। যারা অনলাইনে ভূমি কর দেবেন, সেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার জমির অনুকূলে তালিকাবদ্ধ হয়ে যাবে।
ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জন্য বাংলাদেশের ভূমি মন্ত্রণালয় একটি অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করেছে।
প্রথমে ভূমির মালিককে এই অ্যাপের সঙ্গে নিজেকে নিবন্ধন করতে হবে। একবার নিবন্ধিত হলে তার পরবর্তীতে আর নিবন্ধন প্রয়োজন হবে না।
তিনটি প্রক্রিয়ায় এই নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করা যাবে:
১. Land.gov.bd অথবা ldtax.gov.bd এই পোর্টালে প্রবেশ করে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম তারিখ ও মোবাইল ফোন নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে।
২. ভূমি মন্ত্রণালয়ের কল সেন্টার ৩৩৩ অথবা ১৬১২২ নম্বরে ফোন করে এনআইডি নম্বর, জন্ম তারিখ, ফোন নম্বর ও জমির তথ্য দিতে হবে।
৩. যেকোনো ইউনিয়ন ডিজিটাল অফিসে এনআইডি কার্ড, জন্ম তারিখ ও খতিয়ান নম্বর ব্যবহার করেও নিবন্ধন করা যাবে।
নিবন্ধনের পর এই পোর্টালে লগইন করে অথবা ইউনিয়ন ডিজিটাল অফিসে গিয়ে ভূমির উন্নয়ন কর দিতে পারবেন। এই সময় বিকাশ বা নগদের মতো মোবাইল ওয়ালেট ব্যবহার করে করের টাকা পরিশোধ করা যাবে।
কর দেয়ার পর ইমেইলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি জমার রসিদ চলে আসবে। এটিই ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ।

মৌজা ম্যাপ:
প্রতিটি মৌজার একটি ম্যাপ রয়েছে, যেটা https://www.eporcha.gov.bd/ লিঙ্কে গেলেই পাওয়া যাবে। সরকারি বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে কিংবা ব্যাংক লোন পেতে, জমি কেনা-বেচা করতে এই মৌজা ম্যাপ লাগে।
আপনার জমি ওই মৌজার কোন দিকটায় আছে সেটা জানার জন্য অনলাইনে ম্যাপের আবেদন করলে সেটিও আপনার ঠিকানায় কাগজে প্রিন্ট পাঠিয়ে দেয়া হবে।
এক্ষেত্রে অর্থ পরিশোধ হবে অনলাইনে।
ইজারা ও টেন্ডার:
হাওর, বাওর, বিলের মতো যেসব জলমহাল বা যেসব বালিমহাল (যেসব জলাশয় থেকে বালু তোলা হয়) এসব ভূমি এতদিন ম্যানুয়ালি ইজারা দেয়া হতো।
এখন থেকে ইজারার আবেদন করা যাবে অনলাইনে। ইজারা বাবদ টেন্ডারও জমা নেয়া হবে অনলাইনে।
কাস্টমার কেয়ার:
নামজারি খতিয়ান আবেদন বিষয়ক তথ্যের জন্য কল সেন্টারের ১৬১২২ নম্বরে সার্বক্ষণিক সেবা পাওয়া যাবে বলে কর্মকর্তারা জানাচ্ছে। এছাড়া পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে +৮৮ ০৯৬১২ ৩১৬১২২ নম্বরে ফোন করা যাবে।
বিশেষ করে কেউ যদি নামজারি, খতিয়ানের মতো যাবতীয় প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল মনে করেন তাহলে তারা এসব নম্বরে কল করে অপারেটরের সহায়তা নিতে পারেন।
অপারেটর আপনার থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অনলাইনে সংগ্রহ করে আপনার হয়ে আবেদনের কাজ সম্পন্ন করবেন।
এজন্য বাড়তি কোন ফি দিতে হবে না।
আবেদন সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ যেমন: যেমন নামজারির আবেদন করার এক মাস পরও নিষ্পত্তি হচ্ছে না, অনলাইনে পেমেন্ট করতে ঝামেলা হচ্ছে কিংবা সার্ভার জটিলতার বিষয় কল-সেন্টারে ফোন করে জানানো যাবে।
এছাড়া ভূমি-সেবা সংক্রান্ত সমস্যা জানানোর জন্য https://hotline.land.gov.bd লিঙ্কে এবং যেকোনো পরামর্শ পেতে সোশ্যাল মিডিয়ার লিঙ্ক facebook.com/land.gov.bd-তে গেলে সমাধান পাওয়া যাবে।
প্রয়োজনে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের সাহায্য নেয়া যাবে।
অ্যাপ:
গুগল প্লে স্টোর থেকে ভূমিসেবা অ্যাপ, উত্তরাধিকার অ্যাপ, ই-নামজারি অ্যাপ, আর এস খতিয়ান অ্যাপ, ভূমি উন্নয়ন কর ক্যালকুলেটর নামিয়ে নেয়া যেতে পারে।
ভূমি সেবা প্রত্যাশীদের চাহিদা মেটাতে এই অ্যাপটি চালু করা হয়েছে।
এই অ্যাপটির মূল উদ্দেশ্য হল ভূমির বিভিন্ন সেবার বিষয়ে যেমন নামজারি, খতিয়ান, মৌজা ম্যাপ, খাস জমি বন্দোবস্ত, অর্পিত/পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা, মহাল বিষয়ক তথ্য, জমি কর ইত্যাদি বিষয়ে অবহিত করা।
কোন সার্ভিস পেতে কতো সময় লাগবে, কতো খরচ পড়বে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কী কী লাগবে, সম্পদের বণ্টন কিভাবে হয়ে থাকে এবং ভূমি অফিস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যও পাওয়া যাবে।
প্রশাসনিক কাজ:
ভূমি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ সম্পূর্ণ অনলাইনে হচ্ছে। এর নাম দেয়া হয়েছে প্রশাসন ব্যবস্থাপনা সিস্টেম।
মন্ত্রণালয়ের সবার তথ্য অনলাইনে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। কোন কর্মকর্তার, বদলি,পদোন্নতি, বেতন বৃদ্ধি,পুরস্কার, শাস্তি সব তথ্য অনলাইনে হওয়ায় মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কাজ এবং মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার কাজ পরিচালনা সহজ হয়েছে বল কর্মকর্তারা উল্লেখ করছেন।
এছাড়া কমিউনিটি টুল-‘বার্তা’ তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের পাঁচ শতাধিক সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে বার্তা পাঠানো যায়।
প্রক্রিয়াধীন:
কিছু অনলাইন সেবার কাজ চলমান আছে। সেগুলো হল:
দলিলের পর সব অনলাইনে
জমি কেনার পর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে জমিটি নিজের নামে রেজিস্ট্রেশন করিয়ে দলিল সংগ্রহ করতে হয়।
পরে নামজারির জন্য ওই দলিলের কপি এসি ল্যান্ডে নিয়ে যেতে হয়।
এই পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে সম্পন্ন করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে বলে ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
পরিকল্পনা রয়েছে ভূমি নিবন্ধনের সময় দলিলটিকে ইলেকট্রনিক উপায়ে সম্পাদন করে, বায়োমেট্রিকসহ অন্যান্য তথ্য নিয়ে, এই কপি ইলেকট্রনিক উপায়ে এসি ল্যান্ডে পাঠানোর ব্যবস্থা করা।
এতে আলাদা দুটো অফিসে গ্রাহকের ধর্না দেয়ার প্রয়োজন নেই।
ডিজিটাল ল্যান্ড রেকর্ড:
বাংলাদেশের ৬১ জেলায় ১ লাখ ২০ হাজারের মতো মৌজা ম্যাপ আছে যার সবই কাগজে ছাপা অবস্থায় রেকর্ড করা হয়েছে।
এই মৌজা ম্যাপগুলোকে হাই রেজোল্যুশন ডিজিটাইজেশন করে সংগ্রহ করার প্রক্রিয়া হাতে নেয়ার কথা জানিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র।
ডিজিটাল ডায়নামিক ওই ম্যাপের ওপর স্যাটেলাইট ইমেজ বসানো হবে।
এভাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ওই ম্যাপ ও ছবির ওপর বিভিন্ন রঙ বসিয়ে জমির শ্রেণীবিন্যাস করা হবে।
এতে করে এদিকে যেমন মৌজার প্লটের ভাগগুলো স্পষ্ট হবে।
সেই সাথে সংরক্ষিত জলাশয়,লেক, নদী, কৃষি জমির দখল ঠেকানো সম্ভব হবে বলে মনে করা হয়।
এছাড়া ভূমি জরিপের কাজও হবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে।
আগে ম্যাপ ও খতিয়ান কাগজে ছাপা থাকতো। এখন ড্রোন দিয়ে জমির জরিপ করে মালিকের তথ্য নিয়ে ডিজিটাল ম্যাপ করা হবে।
সেখানকার তথ্য অটো কারেক্ট করা যাবে। ধরুন আপনি একখণ্ড জমি কিনলেন, সেটা ডিজিটাল পদ্ধতিতে ম্যাপে পুরনো মালিকের নাম তুলে আপনার নাম বসানো হবে।বিবিসি বাংলা।

বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে : প্রধানমন্ত্রী

0

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি রাশেদ চৌধুরীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তির আওতায় আনার প্রচেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করেছি এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রাশেদ চৌধুরীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য দেশটির কাছে অনুরোধ করছি।’
শুক্রবার (স্থানীয় সময়) ওয়াশিংটন ডিসির একটি হোটেলে আওয়ামী লীগ যুক্তরাষ্ট্র শাখার নেতা-কর্মী ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এ সব কথা বলেন।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব কে এম শাখাওয়াত মুন সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারী খুনিদের আশ্রয় দেয়া সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকারের কথা বলে।
তিনি বলেন, খুনিরা এমনকি চার বছরের শিশু ও নারীসহ শিশুদেরও রেহাই দেয়নি।
শেখ হাসিনা বলেন, সামরিক স্বৈরশাসক ও বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান দেশে হত্যা, গুম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দায়মুক্তির সংস্কৃতির রাজনীতির সূচনা করেছিলেন।
তিনি বলেন, কিছু সংস্থা বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলছে এবং দুই ভারতীয়র নাম অন্তর্ভুক্ত করে একটি তালিকা (নিখোঁজের শিকার) দিয়েছে।
কিন্তু, তাদের এখন বিএনপি’র মিছিলে দেখা যাচ্ছে।
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পাশাপাশি রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
‘আমাদের দ্বারা নির্মিত ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধার জন্য কিছু লোক প্রতিদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যা খুশি বলছে,’। তিনি তাদের উপযুক্ত জবাব দেয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের উদ্দেশ হচ্ছে, মিথ্যা অভিযোগ এনে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করা।
তিনি বলেন, কিছু বাংলাদেশি যারা বিভিন্ন অপরাধ করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে এবং যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের স্বজনরা রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচারের পেছনে রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী প্রবাসী বাংলাদেশিদেরকে ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন ঠেকাতে বিএনপি-জামাত জোটের দ্বারা সংঘটিত অগ্নি সন্ত্রাস ও ধ্বংসযজ্ঞ সম্পর্কে বিশ্বকে জানাতে আহবান জানান।
তিনি বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণ বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, কারণ এর বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চলেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, বাংলাদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এই ষড়যন্ত্রের পেছনে ছিলেন। কিন্তু, আমরা সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে শেষ পর্যন্ত নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছি।’
তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ায় আঞ্চলিক ও স্থানীয় যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার দেশের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশ ইতিমধ্যে মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জন করেছে।
তিনি আবারও জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও সব ধরনের শোষণমুক্ত সোনার বাংলা গড়ার অঙ্গীকার করেন।
প্রধানমন্ত্রী মার্কিন রাজনীতিবিদদের কাছে এই সমস্ত বিষয় উপস্থাপন করতে বলেন, যখন তারা তাদের ভোটের সময় অভিবাসী বাংলাদেশিদের কাছে ভোট চাইতে আসেন।
তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের উচিত বিদেশিদের কাছে প্রকৃত উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরা।
তিনি তাদের বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, যে কেউ জাতীয় পরিচয়পত্রের পরিবর্তে পাসপোর্ট ব্যবহার করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। বাসস।

কেয়ারটেকার সরকার ধ্বংস করেছে বিএনপি : চীফ হুইপ

0

জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন বলেছেন, কেয়ারটেকার সরকার ধ্বংস করেছে বিএনপি। কেয়ারটেকার সরকার বাস্তবায়নের জন্য আওয়ামী লীগ সংসদ থেকে পদত্যাগ করেছিল।
শহিদ ময়েজউদ্দিনের ৩৮তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার বিকেলে গাজীপুরের কালীগঞ্জে এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সমাজ সেবক, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মদানকারী জাতীয় বীর শহীদ ময়েজউদ্দিনের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দেওপাড়া শহীদ ময়েজউদ্দিন ফেরীঘাট ঈদগা মাঠে এই স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন সরকারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এইচ এম আবুবকর চৌধূরীর পরিচালনায় স্মরণসভায় আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি এমপি, ইকবাল হোসেন সবুজ এমপি, সিমিন হোসেন রিমি এমপি, অধ্যাপিকা রুমানা আলী টুসি এমপি, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট আজমত উল্লাহ খান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আতাউল্লাহ মন্ডল বক্তব্য রাখেন।
নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন আরো বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন পাগল ছাড়া কোন নিরপেক্ষ ব্যক্তি নেই। তাহলে আজকে তারা নতুন কোন পাগল পেয়েছেন কিনা? যাতে করে তারা আবার নতুন কোন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসতে চায়।
তিনি শহিদ ময়েজ উদ্দিনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যখন দলকে নেতৃত্ব দেয়ার মত কোন স্থান ছিলনা, তখন ময়েজউদ্দিন তার নিজ বাসায় বসে দিশেহারা দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিল। শহীদ ময়েজউদ্দিন ছিলেন একজন সত্যিকারের দেশ প্রেমিক। তাঁকে হারিয়ে শুধু কালীগঞ্জ বা গাজীপুর নয়, পুরো দেশ হারিয়েছে একজন সত্যিকারের দেশ প্রেমিককে।
মেহের আফরোজ চুমকি এমপি বলেন, সারাবিশ্বে প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে জননেত্রী শেখ হাসিনা দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে বাংলাদেশ তথা দেশের মানুষকে সম্মানিত করেছেন। আমরা গর্বিত পিতার সন্তান হলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের সুযোগ না দিলে এদেশের মানুষের জন্য কিছুই করতে পারতাম না।
উল্লেখ্য, ১৯৮৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সারাদেশে ২২ দলের আহ্বানে হরতাল চলাকালে মিছিলে নেতৃত্বদানকালে শহীদ হন ময়েজউদ্দিন। বাসস।

কবিরাজের কাছে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার

0

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার ভোররাতে উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার তিনজন হলেন- শহিদুল ইসলাম (৫৫), মালেক হাওলাদার (৫০) ও আলমগীর হাওলাদার (৩৬)। এ ঘটনায় ওই নারী বাদী হয়ে ছয়জনের নামে মামলা করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ঢাকার নারায়ণগঞ্জ এলাকায় ওই নারীর বিয়ে হয়। এরপর থেকে স্বামীর সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি তার বাবার বাড়িতে থাকা শুরু করেন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর ওই গৃহবধূ তার স্বামীর ঘরে ফিরতে কলাপাড়ার মিঠাগঞ্জে শহিদুল নামের এক কবিরাজের কাছে তদবির নিতে যান। পরের দিন সন্ধ্যায় শহিদুলসহ আরও দুজন তাকে কৌশলে একটি ফাঁকা বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় তাদের সহায়তা করে আরও তিন ব্যক্তি। পরে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় তারা। ভয়ে ওই নারী কাউকে কিছু না বলে ঢাকা ফেরত যায়। পরে পরিবারকে বিষয়টি জানানোর পর গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় কলাপাড়া থানায় অভিযোগ করেন তিনি।
কলাপাড়া থানার ওসি মো. জসিম জানান, আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ফাঁসির অপেক্ষায় ২১০২ আসামি

0

কারাগারের কনডেম সেলে ফাঁসির অপেক্ষায় রয়েছেন ২১০২ আসামি। এদের মধ্যে অনেকের মামলা হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্সের শুনানি চলছে। আবার অনেকের ডেথ রেফারেন্স শেষ হওয়ার পর আপিল করেছেন। যা আপিল বিভাগের বিচারাধীন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় বছরের পর বছর ধরে কনডেম সেলে থাকতে হচ্ছে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের। ডেথ রেফারেন্সের জটে কনডেম সেলে ফাঁসির আসামির সংখ্যা বাড়ছে। প্রতি বছরই বাড়ছে ডেথ রেফারেন্স মামলার সংখ্যা। মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়ছে ডেথ রেফারেন্স জট। মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আইন ও বিচার বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং মামলার সংখ্যা ও নিষ্পত্তির অগ্রগতি নিয়মিত মনিটরিং করতে কারা অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ। সম্প্রতি সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এক বৈঠকে এ নির্দেশনা দেয়া হয়।
বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া প্রতিশ্রুতি ও নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে কারাগারে থাকা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মামলা জট কমানোর পাশাপাশি গুরুতর অসুস্থ বন্দিদের মুক্তির বিষয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া জেলখানায় বন্দিদের জঙ্গি সম্পৃক্ততা নিয়ন্ত্রণ নিয়েও আলোচনা হয়।
সভায় জানানো হয়, কারা অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট ১৮টি নির্দেশনা ও প্রতিশ্রুতি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এর মধ্যে ৯টি নির্দেশনা ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বাকি ৯টি নির্দেশনা বাস্তবায়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিভিন্ন মামলায় মৃত্যুদণ্ড প্রদত্ত আদেশগুলো দ্রুত কার্যকর করতে উদ্যোগ নিতে নির্দেশনা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। প্রয়োজনে আলাদা সেল গঠন এবং আইন মন্ত্রণালয়ের সহায়তা গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। সভায় জানানো হয়, গত ৩১শে আগস্ট পর্যন্ত ২২৬৫টি মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত বন্দির সংখ্যা ২১০২ জন। মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত বন্দিদের উচ্চ আদালতে চলমান ডেথ রেফারেন্স এবং আপিল মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সমন্বিতভাবে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা এবং এ বিষয়ে সরকারের নিকট সুপারিশ প্রদানের নিমিত্তে গঠিত কমিটির ১২তম সভার সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের অ্যাপিলেট ডিভিশনে ২১৫ জন বন্দির অনিষ্পন্ন মামলার মধ্যে জুন পর্যন্ত হাইকোর্ট বিভাগে ২৯টি এবং আপিল বিভাগে ১০টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের অ্যাপিলেট ডিভিশনে ২১৫ জন বন্দির অনিষ্পন্ন মামলার মধ্যে কোনো মামলা কতো বছরের পুরনো তার পরিসংখ্যান প্রতি মাসে সুরক্ষা সেবা বিভাগে প্রেরণ করা হচ্ছে।
চলমান মামলাসমূহের মধ্যে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সময়ে হাইকোর্ট বিভাগে ২৯টি এবং আপিল বিভাগে ১০টি মামলার নিষ্পত্তি করা হয়েছে। মামলাসমূহ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আইন ও বিচার বিভাগের সঙ্গে এ বিভাগ থেকে দাপ্তরিক ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ অব্যাহত রাখা এবং মামলাসমূহের মধ্যে চলতি বছরে কতোটি আপিল মামলা ছিল এবং কতোটি নিষ্পত্তি করা হয়েছে তা তালিকা করে সুরক্ষা সেবা বিভাগে প্রেরণের জন্য কারা অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেয়া হয়। কারাবন্দিদের মধ্যে জঙ্গি সম্পৃক্ততা নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে কারারক্ষীদের টেরোরিজম প্রতিরোধ বিষয়ক প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়। এসময় সংশ্লিষ্টরা জানান, কারাবন্দিদের মধ্যে জঙ্গি সম্পৃক্ততা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে টেরোরিজম প্রতিরোধ বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান কার্যক্রম চলমান আছে। কারা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা দপ্তর, মার্কিন দূতাবাস, বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় ১৯৮ জন এবং ডেপুটি জেলার মৌলিক প্রশিক্ষণে আরও ১৩ জনসহ মোট ২১১ জন কারা কর্মকর্তাকে দেশে এবং ৮ জন কারা কর্মকর্তাকে বিদেশে টেরোরিজম প্রতিরোধ বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে কর্মরত ৮৭০৮ জন কারারক্ষী ও মহিলা কারারক্ষীর মধ্যে ৪৪৯৩ জনকে টেরোরিজম প্রতিরোধ বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। ২০২৪ সালের মধ্যে অবশিষ্ট ৪২১৫ জন কারারক্ষী ও মহিলা কারারক্ষীকে টেরোরিজম প্রতিরোধ বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদানের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
কারাগারকে বন্দিশালা নয় সংশোধনাগারে পরিবর্তন করা সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি নিয়ে সভায় আলোচনা হয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, কারাগারে আটক বন্দিদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশ ও বিদেশের শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। কারাবন্দিদের সংশোধনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে কারা আইনকে যুগোপযোগী করার কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কারাগারসমূহের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সর্বাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণ করাসহ বয়োবৃদ্ধ ও গুরুতর অসুস্থ কারাবন্দিকে কারামুক্তির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশনা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা সভায় জানান, জানুয়ারি ২০১৯ এ কারাগারের বন্দি ধারণক্ষমতা ছিল ৪০,৬৬৪ জন। ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা ও কক্সবাজার কারাগারে নতুন ভবন নির্মাণ এবং বিদ্যমান ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের মাধ্যমে কারাগারসমূহের বন্দি ধারণক্ষমতা ১,৯৬২ জন বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে ধারণক্ষমতা ৪২,৬২৬ জন।
কারাগারের ধারণক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করার জন্য খুলনা, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, নরসিংদী ও জামালপুর কারাগার নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণ করা হচ্ছে। ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং বর্তমানে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বয়োবৃদ্ধ ও গুরুতর অসুস্থ ১৪ জন বন্দির মুক্তির লক্ষ্যে যথাযথ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অচল, অক্ষম, দীর্ঘদিন যাবৎ জটিল এবং গুরুতর দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত বন্দিদের মুক্তির লক্ষ্যে সুরক্ষা সেবা বিভাগের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে কারা অধিদপ্তর থেকে ১৪ জন বন্দির মুক্তির প্রস্তাব সুরক্ষা সেবা বিভাগে প্রেরণ করা হয়েছে। জামালপুর, কুমিল্লা ও নরসিংদী কারাগারের নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সৌজন্যে,দৈনিক মানবজমিন

মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির আসামি রাজাকার খলিলুর গ্রেফতার

0

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি রাজাকার খলিলুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। মঙ্গলবার রাতে সাভার থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে র‌্যাব।
বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ২০১৭ সালের ৩০ জানুয়ারি খলিলুর রহমানসহ তার ভাই আজিজুর রহমান, একই এলাকার আশক আলী, জানিরগাঁও ইউনিয়নের শাহনেওয়াজ এবং একই এলাকার রমজান আলীর বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, অবৈধ আটক, নির্যাতন, অপহরণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ ও ধর্ষণের চেষ্টার পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
পাঁচ আসামির মধ্যে খলিলুর রহমান ছাড়া সবাইকে কারাগারে পাঠানো হয়। বিচারকাজ চলাকালীন সময় চার আসামি বিভিন্ন সময় মারা যান।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে গ্রফেতারদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চারটিতে মৃত্যুদণ্ড ও একটিতে দশ বছরের সাজা ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। পরে র‌্যাব দণ্ডিত পলাতক আসামি খলিলুর রহমানকে গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। মঙ্গলবার রাতে র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১৪ সাভার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে খলিলুর রহমান র‌্যাবকে জানান, মামলার তদন্ত কাজ শুরু হলে ২০১৫ সাল থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। ২০১৭ সালে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে গৃহীত হলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। রাজধানীর দক্ষিণখান, তুরাগ ও উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করেন।
আত্মগোপনে থাকাকালীন গ্রেফতার এড়াতে তিনি নিয়মিত বাসা পরিবর্তন ও একা অবস্থান করতেন। যোগাযোগের জন্য মোবাইলফোনও ব্যবহার করতেন না। পরিবারের সদস্যরা গোপনে তার সঙ্গে দেখা করতেন। ছেলে-মেয়েরা বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় তার প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণের জন্য তারা নিয়মিত অর্থ প্রদান করতেন।
গ্রেফতার খলিল ১৯৭১ সালে ইসলামী ছাত্র সংঘের সদস্য ছিলেন। যুদ্ধের সময় তিনি রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেন। পরে চণ্ডীগড় ইউনিয়নের আল বদর বাহিনীর কমান্ডার হন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় নেত্রকোণার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা থানা এলাকায় অবৈধভাবে আটক, নির্যাতন, অপহরণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণের চেষ্টা, ধর্ষণ, হত্যা ও গণহত্যায় জড়িত ছিলেন খলিল। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে ২২ জনকে হত্যা, একজনকে ধর্ষণ, একজনকে ধর্ষণের চেষ্টা, অপহৃত ৪ জনের মধ্যে দুজনকে ক্যাম্পে নির্যাতন, ১৪-১৫টি বাড়িতে লুটপাট ও ৭টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের কথা উল্লেখ রয়েছে।

দুদকের সাবেক এক ডিজির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ; অনৈতিক পন্থায় দায়মুক্তি দিয়ে গেছেন অনেক দুর্নীতিবাজের

0

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে বিদায় নেয়া সাবেক এক মহাপরিচালক(ডিজি)র বিরুদ্ধে অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করে বেশ কয়েকজন দুর্নীতিবাজকে দায়মুক্তি দেয়ার অভিযোগ ওঠেছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগ খোদ দুদকই অনুসন্ধানে নামতে চায়। কিন্তু প্রশাসন ক্যাডারের উর্ধতন এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদৌ অনুসন্ধান করা সম্ভব হবে কী না এ নিয়ে সন্দিহান দুদক কর্মকর্তারা। কারণ দুদকের সাবেক এই কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত সচিব হয়ে দুদক থেকে সরে গেছেন। দুদকের সংশ্লিষ্টরা জানান, দুদকের মহাপরিচালক (বিশেষ )হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন প্রশাসন ক্যাডার থেকে আসা যুগ্ম সচিব সাঈদ মাহবুব খান । এই পদটি দুদকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের, যাচাই বাছাই থেকে শুরু করে অভিযান পরিচালনার যতো দায়িত্ব রয়েছে এই টিমের।
অভিযোগ রয়েছে মহাপরিচালক সাঈদ মাহবুব খান ‘পিক এন্ড চুজ” এর ভিত্তিতে যাচাই বাছাই এবং অভিযান পরিচালনা করার নির্দেশনা দিতেন। কোনো অভিযোগ সুনির্দিষ্ট অনুসন্ধানের পর, এমন কিছু প্রভাবশালীকে তিনি দায়মুক্তি দেয়ার সুপারিশ করেছেন যার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। এমন বেশকিছু তথ্য এসেছে গণমাধ্যমের হাতে।
দুদক সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)র তৎকালীন কমিশনার মো. রেজাউল কাদেরকে দায়মুক্তি দেয়া হয়। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ছিল। দুদকের উপ-পরিচালক মো. সিরাজুল হক অভিযোগটি অনুসন্ধান করেন। এই অনুসন্ধানটি হয় দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান-তদন্তের দায়িত্বে থাকা মহাপরিচালক সাঈদ মাহবুব খানের নির্দেশে। কিন্তু অনুসন্ধান শেষে তাকে দায়মুক্তির সুপারিশ করা হয়। অথচ রেজাউল কাদেরের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনির্দষ্ট অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানকারি কর্মকর্তা এর সত্যতাও পেয়েছেন। কিন্তু সাঈদ মাহবুবের স্বাক্ষর চলতি বছর ১১ মে দায়মুক্তি (স্মারক নং-০০.০১.০০০০.৫০০/৭৮/০০১.২২.৪০) দেয়া হয় মো. রেজাউল কাদেরকে। অভিযোগ,দুদকের বিদ্যমান গাইডলাইন বা ম্যানুয়াল অনুসরণ না করেই নথি পরিসমাপ্ত করা হয়েছে।
ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের জয়েন্ট কমিশনার (লজিস্টিক ও প্রকিউরমেন্ট) ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে ছিল কেনাকাটায় অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থের বিনিময়ে পছন্দের ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেয়ার অভিযোগ। পুলিশের রেশন সামগ্রি কেনা-কাটা, অন্যান্য সামগ্রী ও গাড়ির যন্ত্রাংশ ক্রয়ের নামে সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন ইমাম হোসেন। তার বিরুদ্ধে মামলা রুজুর অকাট্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও দুদকের তৎকালীন মহাপরিচালক সাঈদ মাহবুব খান তাকে দায়মুক্তি (স্মারক নং-০০.০১.০০০০.৫০০.৫০.০৪১.২২.৪১) দেন। গুরুতর এই দুর্নীতির অভিযোগ থেকে প্রভাবশালী এই পুলিশ কর্মকর্তাকে তিনি দায়মুক্তি দেন চলতি বছর ১২ মে। এ সময় তিনি সচিবের ‘রুটিন দায়িত্ব’ পালন করছিলেন।এই অভিযোগটি অনুসন্ধান করেন উপ-পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী।
বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইন্সটিউট (বিএসটিআই)র তৎকালীন পরিচালক (প্রশাসন) মো. খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে রয়েছে নিয়োগ বাণিজ্য, নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নামে-বেনামে বিপুল সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগ। দুদক থেকে বদলি হয়ে যাওয়া তৎকালীন মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরীর নির্দেশনায় বিএসটিআই’এ ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম। অভিযানকালে দুদক টিম নিয়োগ বাণিজ্যের প্রমাণ পায়। বিএসটিআইর অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পরীক্ষার টেবুলেশন শিট জালিয়াতির মাধ্যমে নম্বর পরিবর্তন করে ৬ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়। টেবুলেশন শিটে নিয়োগ কমিটির সদস্য শিল্প মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করা হয়। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় উপযুক্ত প্রার্থী থাকা সত্বেও তাকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। ৭৭টি শূন্যপদের বিপরীতে ৬৮জনকেই নিয়োগ দেয়া হয় অর্থের বিনিময়ে। দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, ফরিদপুর অফিসের অফিস সহায়ক মো. রূহুল আমিন পরিচালক (প্রশাসন) খলিলুর রহমানের শ্যালিকার ছেলে। ফরিদপুর ডাটা এন্ট্রি ও কন্ট্রোল অপারেটর সফিকুল ইসলাম খলিলুর রহমানের ভাতিজা। ঢাকায় কর্মরত খালাসি মো. সালাউদ্দিন খলিলুর রহমানের চাচাতো শ্যালক। ফরিদুপরের ডাটা এন্ট্রি ও কন্ট্রোল অপারেটর মহিউদ্দিন পরিচালকের ভাতিজি জামাই। ২০১৯ সালে শুরু হওয়া এই অনুসন্ধানটিতে পর্যাপ্ত প্রমাণাদি থাকা সত্ত্বেও ইকবাল মাহমুদ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়মুক্তি দেয়া চেষ্টা করেন। তবে তার চাকরির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় নির্দশেনা দিয়ে যান সাঈদ মাহবুব খানকে। ফলে তিনি দায়মুক্তি দেন এ অভিযোগের। দুদকের সহকারী পরিচালক শেখ গোলাম মাওলা ও উপ-সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে একটি টিম অভিযোগটি অনুসন্ধান করছিল। পরে উপ-পরিচালক মামুনুর রশিদ চৌধুরী সাঈদ মাহবুবের নির্দেশনায় পরিসমাপ্তির সুপারিশ প্রদানে বাধ্য হন। গত ২৫ এপ্রিল দুদক সচিব মো. মাহবুব হোসেনের স্বাক্ষরে মো. খলিলুর রহমানকে দায়মুক্তি (স্মারক নং-০০.০১.০০০০.৫০০.৫০.০৩৭.২২.৩৭) দেয়া হয়।
জিওবি’র অর্থে উন্মুক্ত জলাশয়ে আহরণযোগ্য মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠির আর্থ সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ এবং নামে-বেনামে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ছিল মৎস্য অধিদফতরের প্রকল্প পরিচালক মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। দুদদকের যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন অভিযোগটি অনুসন্ধান করেন। তাকে দায়মুক্তি (স্মারক নং-০০.০১.০০০০.৬৭১.৩১.০২৫.২২.৩৭) দেয়া হয় গত ৮ মার্চ।
পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ)র তৎকালীন ব্যবস্থপনা পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমানকে দায়মুক্তি (স্মারক নং-০০.০১.০০০০.৫০০.৫০.০৩৪.২২.৩৪) দেয়া হয় গত ১৯ এপ্রিল। তার বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, নামে বেনামে অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল। উপ-পরিচালক (পদোন্নতিপ্রাপ্ত পরিচালক) মো. মোশাররফ হোসেইন মৃধা অভিযোগটি অনুসন্ধান করেন।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)র প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে ছিল ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম, দুর্নীতি এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ। এছাড়া সিডিএ’র ঢাকা ট্রাঙ্ক রোডের সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পে পছন্দসই ঠিকাদার নিয়োগ প্রদান করেন তিনি। অভিযোগ ছিল, লালখান বাজার থেকে শাহ আমনত বিমান বন্দর পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পে শর্ত পরিবর্তন করে ৬টি ঠিকাদারের মধ্যে ২ হাজার ৮৫৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকার কার্যাদেশ ২০ কোটি টাকার লেনদেন করে ভাগভাটোয়ারা করে দেয়ার অভিযোগ ছিল। সিডিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করেন উপ-পরিচালক শাহীন আরা মমতাজ। এটিতেও মামলার পরিবর্তে অনুসন্ধান প্রতিবেদনে ‘পরিসমাপ্তি’র সুপারিশ করা হয়। আর এই পরিসমাপ্তির জন্য লেনদেন হয় বিপুল পরিমান অর্থের।
গত ১৮ মে দুদক সচিবের ‘রুটিন দায়িত্বে’ থেকে সাঈদ মাহবুব খান প্রভাবশালী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমানকে দায়মুক্তি (স্মারক নং-০০.০১.০০০০.৫০০.৫০.০৪৪.২২.৪৪) দেন।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের তৎকালীন ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (সিনিয়র সহকারি সচিব) আসিফ ইমতিয়াজকে দায়মুক্তি (স্মারক নং-০০.০১.০০০০.৬৭১.৩১.৩০২.২১.৩১৮) দেয়া হয় গত ১৩ মার্চ। প্রশাসন ক্যাডারের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরকারি অর্থ লেনদেন, সরকারি অর্থ নিজের একাউন্টে রাখা এবং ভূমি অধিগ্রহণের অর্থ প্রকৃত ভূমি মালিককে না দিয়ে ভুয়া দাবিদারদের প্রদান এবং বিপুল অবৈধ অর্থ অর্জনের অভিযোগ ছিলো। দুর্নীতির পর্যাপ্ত প্রমাণাদি সত্ত্বেও দায়মুক্তি দেয়া হয় আসিফ ইমতিয়াজকে।
বাংলাদেশ জুট করর্পোরেশনের (বিজেসি)র তৎকালীন চেয়ারম্যান, অতিরিক্ত সচিব মো. শামীম ইকবালসহ তিন জনকে দায়মুক্তি (স্মারক নং-০০.০১.০০০০.৫০০.৫০.০৩৫.২২.৩৫) দেয়া হয় গত ২০ এপ্রিল। তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ছিলো। দায়মুক্তি পাওয়া বিজেসি’র অপর দুই কর্মকর্তা হলেন, পারচেজ অফিসার খায়রুল আলম ও পারচেজ অফিসার মো. হাবিবুর রহমান। হাবিবুর রহমান মারা যাওয়ায় তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। অভিযোগটি অনুসন্ধান করেন দুদকের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম। এমন আরও অভিযোগ ওঠেছে সাঈদ মাহবুব খানের বিরুদ্ধে। যিনি অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে দুদক ছেড়ে চলে গেছেন।
জানা যায়, ইকবাল মাহমুদ দুদকের চেয়ারম্যান থাকাকালে তিনি তার পছন্দের প্রশাসন ক্যাডারের কয়েকজনকে দুদকে নিয়ে আসেন। তাদের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয় একটি বলয়। এই বলয়ের একজন সাঈদ মাহবুব খান। কথিত আছে, সাঈদ মাহবুব খান, দায়িত্ব পালনকালে মামলা দায়ের আর চার্জশিটের সুপারিশের চেয়ে দায়মুক্তির সুপারিশ করেছেন বেশী। অনেক নিরীহ ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা, ভূমি অফিসের কানুনগো, ক্লার্ক, ড্রাইভার,এমএলএসের দুর্নীতি অনুসন্ধান-তদন্ত করতে আগ্রহ দেখাতেন বেশী। নিচুস্তরের কর্মচারীদের গ্রেফতার, জিজ্ঞাসাবাদ মামলা করে বাহবা নিতেন। দুদকের হটলাইনে আসা অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন দফতরে ‘অভিযান‘ পরিচালনার মাধ্যমে মিডিয়ায় খবর হতেন। কিন্তু দুর্নীতিবাজ রাঘব বোয়ালদের দায়মুক্তি দিতেন নিঃশব্দে। অনেককে ডেকেও আনাতেন। দুদকের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা মনে করেন, বাইরে থেকে ডেপুটেশনে বিশেষ ক্যাডারের কর্মকর্তারা দুদকে কিছুদিনের জন্য এসে এটাকে বাণিজ্যিক কার্যালয় বানিয়ে ফেলেন। তারা বড় পদে পদায়ন হন এবং তাদের অনৈতিক নির্দেশ অধস্তনদের মানতে বাধ্য করা হয়। নির্দেশনা না মানলে কি পরিণতি হয় তার নজির তুলে ধরে চাকরিচ্যুত উপ- সহকারী পরিচালক শরিফ উদ্দিনের বিষয়টি মনে করিয়ে দেন। ডেপুটেশনে আসা কর্মকর্তারা তাদের মিশন শেষে আবার ফিরে যান ফুলফেঁপে। আর দুদকে রেখে যান কালিমা।