ঢাকা   মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১   সকাল ১০:২৮ 

সর্বশেষ সংবাদ

মর্গে মৃত নারীদের ধর্ষণ : সেই মুন্না ভগতের বিরুদ্ধে চার্জশিট

হাসপাতালের মর্গে মৃত নারী ও কিশোরীদের ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ডোম সহযোগী মুন্না ভগতের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।
ঢাকার সিএমএম আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, গত ৩০ মে শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা পৃথক দুই মামলায় মুন্না ভগতের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক সুব্রত কুমার রায়। তবে সে সময়ে চার্জশিট জমা দিলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে আদালতের কার্যক্রম স্থগিত থাকায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এর আগে, গত বছরের ২০ নভেম্বর ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদের আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন মুন্না ভগত। ১৯ নভেম্বর রাতে তাকে গ্রেফতার করে সিআইডি। সিআইডি সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন স্থান থেকে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে আনা মৃত নারীদের ধর্ষণ করতেন মুন্না ভগত।
সিআইডি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, গ্রেফতার হওয়া মুন্না ভগত সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে ডোম জতন কুমার লালের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। দুই-তিন বছর ধরে সে মর্গে থাকা মৃত নারীদের ধর্ষণ করে আসছিলেন। এমন একটি অভিযোগ পেয়ে মুন্নার বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে সিআইডি। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় মুন্নাকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মুন্না মৃত নারীদের ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছিলেন।
সিআইডির এক কর্মকর্তা জানান, মৃত নারীদের ধর্ষণ করা পৃথিবীর জঘন্যতম একটি কাজ। সুস্থ ও স্বাভাবিক কেউ এমন জঘন্যতম কাজ করতে পারে না। গ্রেফতার মুন্না বিকৃত মানসিকতার। তা না হলে এমন কাজ তার করার কথা নয়।
সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে দায়িত্বরত ডোম ও মুন্নার মামা জতন কুমার লাল জানান, মুন্না গত দুই থেকে তিন বছর ধরে তার সহযোগী হিসেবে মর্গে কাজ করছিলেন। তার বাবার নাম দুলাল ভগত। গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ বাজারে। তিনি আরও দুই থেকে তিনজনের সঙ্গে মর্গের পাশে একটি কক্ষেই রাতে থাকতেন। ২০১৯ সালের ২৯ মার্চ থেকে ২০২০ সালের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত অন্তত পাঁচজন মৃত কিশোরীর মরদেহ ধর্ষণ করা হয়েছে বলে প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে আলোচিত