ঢাকা   শুক্রবার, ১ মার্চ ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০   রাত ৯:০৮ 

সর্বশেষ সংবাদ

সেলিব্রিটি পরীমনির ‘অভিনয়ে’ সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেলাম: কারামুক্ত হয়ে উপলব্দি নাসির উদ্দিনের

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন বললেন, আমি আসলে ‘সেলিব্রিটি’র অভিনয়ের শিকার। বলা যায় বাটে পড়ে গেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি করেছি, ব্যবসা করছি, ক্লাবের রাজনীতিও করেছি। কিন্তু এক অভিনেত্রির ইমোশনাল কান্নার কাছে ধরা খেয়ে গেলাম। সামাজিক ভাবে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছি। বিপদ পড়লে কেউ সহজে এগিয়ে আসে না। বন্ধুত্ব পর্যন্ত অস্বীকার করে। এটাও দেখলাম।
ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়িকা পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলা এবং পুলিশের করা মাদকের মামলায় জামিন পেয়ে জাতীয় পার্টির নেতা ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ এমন আবেগি প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, সেলিব্রেটির অভিনয়ে তিনি বড় ধরনের ভিকটিম হয়ে গেলেন।
শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।

গত ৩০ জুন কারামুক্ত হয়েছেন নাসির উদ্দিন মাহমুদ। কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সেদিন রাত ৮টার দিকে মুক্তি পান।
পরীমনি ও মাদক মামলায় দুই সপ্তাহ কারাগারে ছিলেন নাসির। তার আইনজীবী আমানুল করিম লিটন বলেন, নাসিরউদ্দিন বুধবার রাত ৮টার দিকে কারাগার থেকে বের হন। এ সময় তার ভাইসহ আত্মীয়রা কারাফটকে উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে নাসির তার উত্তরার বাসাতেই আছেন।
শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নাসির উদ্দিন। সত্যিকারে অন্যায় করলে আফসোস ছিল না- এমন আক্ষেপ করে এই ব্যবসায়ী বলেন, বড় রকমের ভিকটিম হলাম। কোনো দিন হাজত দেখিনি। রিমান্ডে ১২ দিনসহ ১৮ দিন জেলহাজতে কাটিয়েছি। আমাকে আটক করার পরও কেউ আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি। একজন সেলিব্রিটির (পরীমনি) অভিনয়ে আমি সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেলাম।
জাতীয় পার্টির এই প্রেসিডিয়াম সদস্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের নির্বাচিত জিএস ছিলাম। ঢাকার প্রথম বিভাগের ফুটবলার ছিলাম। উত্তরা ক্লাবের তিনবার সভাপতি ছিলাম। একজন ব্যবসায়ী। আমাকে আটক করার পরও কেউ আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ জুন সন্ধ্যায় ফেসবুক পোস্টে পরীমনি অভিযোগ করেন, তাকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে। ফেসবুক পোস্টে এ অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বিচার দাবি করেন পরীমনি। ১৩ জুন রাতে বনানীর নিজ বাসায় সাংবাদিকদের তিনি জানান, গত ৮ জুন রাতে পারিবারিক বন্ধু অমি ও ব্যক্তিগত রূপসজ্জাশিল্পী জিমির সঙ্গে নিয়ে আশুলিয়ার একটি ক্লাবে। সেখানে মদ্যপানরত কয়েকজনের সঙ্গে পরীমনির পরিচয় করিয়ে দেন অমি। ওই ব্যক্তিদেরই একজন হঠাৎ জোর করে তার মুখে পানীয়র গ্লাস চেপে ধরেন এবং ধর্ষণের চেষ্টা করেন।
পরদিন ১৪ জুন সাভার থানায় ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও অমির নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও চারজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন পরীমনি। ওইদিন বিকাল তিনটার দিকে রাজধানীর উত্তরা থেকে নাসির ও অমি এবং তিনজন নারীসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় আসামিদের কাছ থেকে বিদেশি মদ ও ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। মাদক মামলায় গত ১৫ জুন নাসির ও অমির সাতদিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন আদালত। এ ছাড়া পরীমনিকে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় আদালত নাসির ও অমির পাঁচ দিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন।

পরীমনিকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টা মামলার এজাহারে বলা হয়, ‘গত ৮ জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার বনানীর বাসা থেকে কস্টিউম ডিজাইনার জিমি (৩০), অমি (৪০) ও বনিসহ (২০) দু’টি গাড়িতে করে তারা উত্তরার উদ্দেশে রওনা হন। পথে অমি বলে বেড়িবাঁধের ঢাকা বোট ক্লাবে তার দুই মিনিটের কাজ আছে।’
‘অমির কথামতো তারা সবাই রাত আনুমানিক ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকা বোট ক্লাবের সামনে গিয়ে গাড়ি দাঁড় করায়। কিন্তু বোট ক্লাব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অমি কোনো এক ব্যক্তির সঙ্গে ফোনে কথা বলে। তখন ঢাকা বোট ক্লাবের সিকিউরিটি গার্ডরা গেট খুলে দেয়। অমি ক্লাবের ভেতরে গিয়ে বলে এখানকার পরিবেশ অনেক সুন্দর, তোমরা নামলে নামতে পার।’

এজাহারে পরীমনি আরও বলেন, ‘তখন আমার ছোট বোন বনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বোট ক্লাবে প্রবেশ করে ও বারের কাছের টয়লেট ব্যবহার করে। টয়লেট থেকে বের হতেই এক নম্বর বিবাদী নাসির উদ্দিন মাহমুদ আমাদের ডেকে বারের ভেতরে বসার অনুরোধ করেন এবং কফি খাওয়ার প্রস্তাব দেন। আমরা বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইলে অমিসহ এক নম্বর আসামি মদপানের জন্য জোর করেন। আমি মদপান করতে না চাইলে এক নম্বর আসামি জোর করে আমার মুখে মদের বোতল প্রবেশ করিয়ে মদ খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। এতে আমি সামনের দাঁতে ও ঠোঁটে আঘাত পাই।’
‘এক নম্বর আসামি (নাসির উদ্দিন মাহমুদ) আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং আমার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করেন ও আমাকে জোর করে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তিনি উত্তেজিত হয়ে টেবিলে থাকা গ্লাস ও মদের বোতল ভাঙচুর করে আমার গায়ে ছুড়ে মারেন। তখন কস্টিউম ডিজাইনার জিমি নাসির উদ্দিন মাহমুদকে বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করে জখম করেন।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে আলোচিত