ঢাকা   সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৩ মাঘ ১৪২৯   রাত ১১:০৯ 

সর্বশেষ সংবাদ

মানবতাই ধর্ম, মৃত্যু পথযাত্রী মুসলিম করোনা রোগীকে কলেমা পড়ে শোনালেন হিন্দু চিকিৎসক

ধীরে ধীরে নিভে যাচ্ছিল রোগীর জীবনপ্রদীপ। বুঝতে পারছিলেন আইসিইউতে ডিউটিতে থাকা চিকিৎসক ডা রেখা কৃষ্ণা। মৃত্যু পথযাত্রী ওই মুসলিম কোভিড রোগীর কানে কলেমা পড়ে শোনালেন কৃষ্ণা। তার পরেই মৃত্যু কোলে ঢলে পড়লেন ওই রোগী। হিন্দু চিকিৎসকের এহেন কাণ্ডে মুগ্ধ নেট দুনিয়া।
কেরলের পালাক্কাড জেলার পাটাম্বির এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ওই মহিলা কোভিড রোগী। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় টানা ২ সপ্তাহ ধরে তাঁকে রাখা হয়েছিল ভেন্টিলেশনে। তাতেও খুব বেশি উন্নতি হয়নি। গত ১৭ মে তাঁকে বের করা হয় ভেন্টিলেশন থেকে। পরিস্থিতির যে উন্নতির কোনও আশা নেই তা জানিয়ে দেওয়া হয় পরিবারকে।
হাসপাতালে আইসিইউতে ডিউটিতে ছিলেন ডা রেখা কৃষ্ণা। তিনি জানান, ‘বুঝতে পারছিলাম ওঁর সময় শেষ হয় আসছে। কাছে এগিয়ে গিয়ে ওঁর কানে কালেমা পড়লাম। এরপরই উনি একটা দীর্ঘ শ্বাস নিলেন। তার পরেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন। আগে থেকে পরিকল্পনা করে কিছু করিনি। হঠাৎ করেই মাথায় এসে গিয়েছিল ব্যাপারটা কারণ আমি বড় হয়েছি দুবাইয়ে। ফলে মুসলিমদের ধর্মীয় আচার আচরণ সম্পর্কে অনেকটাই জানতাম।’
রেখার ওই ব্যবহারে মুগ্ধ নেটিজেনরা। তবে অনেকেই তাঁর এই কাজকে অন্য ভাবেও দেখছেন। এনিয়ে ডাক্তার কৃষ্ণা বলেন,’আমি যা করেছি সেটাকে আমি কোনও ধর্মীয় আচার বলে মনে করি না। এটা একটা মানবিক কাজ। কোভিড রোগীদের একটা বড় সমস্যা হল তারা খুবই একলা বোধ করে থাকেন। তাই ওদের জন্য যতটুকু করা সম্ভব সেটাই করা উচিত। ডা. কৃষ্ণা জানান ‘হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন এই মুসলিম রোগী। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ভেন্টিলেটর সহায়তায় রাখা হয়। পরিবারের কারো তার কাছে যাওয়ার অনুমতি ছিল না।
দুবাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস জানিয়েছে, ভারতীয় বংশোদ্ভুত ডা. রেখা কৃষ্ণ বেড়ে উঠেছেন দুবাইয়ে। তাই সেখানকার ইসলামি সংস্কৃতির সঙ্গে তিনি ভালোভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। তিনি ভারতের কেরালার পলাক্কাড জেলার সেভানা হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারে দায়িত্ব পালন করছেন।
খালিজ টাইমসকে মুঠোফোনে রেখা বলেন, ‘নিউমোনিয়া নিয়ে ওই রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। ১৭ দিন পর তার অবস্থা আরও খারাপ হয়। চিকিৎসকরা তার বাঁচার আশা ছেড়ে দেন। পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে তাকে ভেন্টিলেটর থেকে নামানো হয়। জীবনের শেষ মুহূর্তে আমি তার সঙ্গে ছিলাম।’
রেখা আরও বলেন, ‘ওই রোগী হাত-পা নাড়াচাড়া বন্ধ করে দেন। আমি অসহায় হয়ে দেখছিলাম। আমি জানতাম না তার শেষ স্মৃতি কী। আমি নিরবে তার জন্য প্রার্থনা করছিলাম। তারপর কালেমা শাহাদাত পাঠ করে শোনাই। এটি একটি ধর্মীয় নিয়ম তবে এটি মানবিক দায়িত্বও। আমি কলেমা পাঠ করে শোনানোর পরই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।’
ডা. রেখা বলেন, ‘আমি কেরালায় জন্মগ্রহণ করলেও বড় হয়েছি দুবাইয়ে। বাবা-মা দুবাইতে থাকেন। আমি দুবাই থেকে ভারতে চলে আসি এবং কেরালায় বাস শুরু করি। আমার স্বামীও একজন ডাক্তার। আমার বাবা-মা আমাকে সবসময় অন্য ধর্মকে সম্মান করতে বলতেন।’ কোনো পরিকল্পনা করে নয়, আকষ্মিকভাবেই তিনি ওই রোগীকে কালেমা শাহাদাত পাঠ করে শোনান বলে জানান ডা. রেখা কৃষ্ণ। (ভারতীয় পত্রিকা অবলম্বনে)।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে আলোচিত