ঢাকা   সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৩ মাঘ ১৪২৯   রাত ৯:০৮ 

সর্বশেষ সংবাদ

ভিপি নুরকে নিয়ে পুলিশের ইঁদুর বিড়াল খেলা, দু’দফা আটকের পর ছেড়ে দেওয়া হয় মধ্যরাতে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের সহযোগিতার অভিযোগে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের সঙ্গে ইঁদুর বিড়াল খেলছে পুলিশ। তাকে দু দফা আটক করে ছেড়ে দেওয়া হয়। নুর বলছেন, তাকে কেনো আটক করে আর কেনো ছেড়ে দেয় তা তিনিও জানেন না।
মিছিল থেকে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে সোমবার সন্ধ্যায় একবার আটক করে মুচলেকা দিয়ে ছাড়ার পর রাতে তাকে আবারও আটক করে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ। মধ্যরাতে আবার তাকেসহ আটককৃতদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজের স্নাতকোত্তর শ্রেণির এক ছাত্রী রোববার রাতে লালবাগ থানায় নূরসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। এই মামলার প্রতিবাদে সোমবার সন্ধ্যার পর টিএসসিতে সমাবেশ করে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় মৎস্য ভবন এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় নুরের সমর্থকরা।
ধর্ষণের অভিযোগে ছাত্রীর মামলা করার পর তা ষড়যন্ত্রমূলক দাবি করে এই বিক্ষোভ করছিল নূরের সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে নূরসহ সাতজনকে সেখানে আটক করে পুলিশ। “পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া এবং পুলিশকে মারধর করার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরে মুচলেকা দিয়ে নুরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। রাত ১০টার দিকে নুর তার সহযোগিদের নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান পুলিশের হামলায় আহত নেতা-কর্মীরা চিকিৎসা করাতে।

সেখানে তাদের চিকিৎসা হয়। রাত সাড়ে ১১ টার দিকে গোয়েন্দা পুলিশ আবারও নুরকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে দ্রুত বের হয়ে যায়। এ সময় নুরের সমর্থকরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
নুরকে হাসপাতাল থেকে গোয়েন্দা পুলিশের মিন্টু রোডের দপ্তরে নেওয়া হয়। সেখান তাকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে মধ্যরাতে নুরসহ সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
রাত ১টার দিকে ডিবি কার্যালয়ে থেকে বেরিয়ে নুর সাংবাদিকদের বলেন, মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।
নুর বলেন “আমরা বুঝলাম না, আমাদের উপর কেন আক্রমণ করা হল, কেন গ্রেপ্তার করা হল? আবার কেনইবা ছেড়ে দেওয়া হল? রাষ্ট্রযন্ত্রের কারও সাথে কারও মিল নাই, একজন মারে-ধরে, আরেকজন ছেড়ে দেয়। আমি আগেও বলেছি এদেশে বিচার নাই, আইনের শাসন নাই, গণতন্ত্র নাই।”
ডিবি কার্যালয়ে কোনো অত্যাচার হয়েছে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাকে তো পুলিশ স্পটেই সিনেমা স্টাইলে জাম্প করে লাথি মেরেছে, কাঠ দিয়ে মেরেছে। ডিবি কার্যালয়ে আমাদের সাথে ভালো ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু রাস্তা থেকেই আমাদের আধা মরা করে ফেলছে।”
নূরসহ কোটা আন্দোলনের ৬ নেতার নামে ধর্ষণের মামলা :
এর আগে রোববার রাতে লালবাগ থানায় নূরসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজের স্নাতকোত্তর শ্রেণির এক ছাত্রী।
মামলার প্রধান আসামি ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ হাসান আল মামুন, যিনি ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন। নূর এই পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক।
পরিষদের আরও দুই যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হাসান সোহাগ (২৮) ও সাইফুল ইসলাম (২৮), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি নাজমুল হুদা (২৫) ও কর্মী আবদুল্লাহ হিল বাকিকে (২৩) মামলাটিতে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, হাসান আল মামুন বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি বেলা ১টার দিকে ওই ছাত্রীকে মামুন লালবাগের নবাবগঞ্জ বড় মসজিদ রোডে তার বাসায় যেতে বলে। ওই ছাত্রীর ভাষ্য, ‘বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে’ সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়।
এরপর মামুনকে বিয়ের কথা বললে তিনি টালবাহানা শুরু করেন বলে ওই ছাত্রীর অভিযোগ।
তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে ২০ জুন নুরের কাছে অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী। নূর তখন ‘মীমাংসার আশ্বাস’ দিলেও পরে অবস্থান পাল্টে তাকে ‘বাড়াবাড়ি করতে’ নিষেধ করেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, “নূর বলছে, আমি যদি বাড়াবাড়ি করি, তাহলে তাদের ভক্তদের দিয়ে আমার নামে উল্টাপাল্টা পোস্ট করাবে এবং আমাকে পতিতা বলে প্রচার করবে।”
কোটা সংস্কারের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা ছাত্র অধিকার পরিষদ গত বছর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিলে তাদের প্যানেল থেকে ভিপি নির্বাচিত হন নুরু। এক সময় তিনি ছাত্রলীগে যুক্ত থাকলেও এখন তিনি বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের কড়া সমালোচক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে আলোচিত